ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খুলশীতে ৬৩ বিদেশি আটক, উদ্ধার ১৭০টি ডিভাইস টোকিওতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী ২ বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে ৪৬ শতাংশ বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে: মঈন খান জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত হলে রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার কমবে: কাদের গণি রাজাপুর মডেল মসজিদে ৮ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই, বন্ধ অজুর পানি ডেঙ্গুতে আরও ৪ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১,২৫২ ‘৬ মাসে সব কাজ শেষ করা সম্ভব নয়, বিরোধী দলের বুঝতে হবে’ পাবনায় জামিনে থাকা বিএনপি নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস বাংলাদেশের
সর্বশেষ সংবাদ :
রাষ্ট্রপতির কাছে পোশাক খাতের সংকট ও ১১ দফা সুপারিশ বিজিএমইএর নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃত ৩৫৯, নিখোঁজ ৯১০ বিদায়ী বক্তব্যে বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল, সংসদ সদস্যদের ভোট চাইলেন ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৭ যাত্রাবাড়ীর জনসভায় গোলাম পরওয়ার: ‘জুলাইয়ের ইতিহাস ভুলতে বসেছে বিএনপি’ রবিবার সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়বেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে যে দুই সমীকরণ গুজবকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি শবনম ফারিয়ার, ‘স্ক্রিনশট-কল রেকর্ড প্রকাশ করে মামলা করব’ হারের বেদনাতেও বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত জাপানি সমর্থকেরা, স্টেডিয়াম পরিষ্কারে আবারও দৃষ্টান্ত আজ কী উপহার রেখেছেন মেসি

প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ: জুলাই আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকার নানা দিক

  • উজ্জ্বল আলো
  • Update Time : ০৭:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৯ Time View
৩৪

 

প্রারম্ভিকা

ঢাকা, ৩ আগস্ট ২০২৬: ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ প্রতিবাদ কর্মসূচি, রেমিট্যান্স বয়কট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের উদ্যোগ নেয়। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ, মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে চিঠি ও প্রচারাভিযান এবং আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট তথ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রদত্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আন্দোলনের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা কর্মসূচি পালন করেন। তবে এসব কর্মকাণ্ডের ব্যাপ্তি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এবং এর প্রত্যক্ষ প্রভাব সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখানে নেই।

রেমিট্যান্স বয়কটের দাবি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিবাদে প্রবাসীদের একটি অংশ আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ রাখার আহ্বান জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিভিন্ন প্রচার ও স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুনে প্রবাসী আয় ছিল ২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং জুলাইয়ে তা কমে ১ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। তবে রেমিট্যান্স কমার পেছনে শুধু বয়কটকেই কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মতো স্বাধীন যাচাই বা সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদদের নির্দিষ্ট বক্তব্য প্রদত্ত তথ্যে নেই।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিক্ষোভ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, শারজাহ ও আবুধাবিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিক্ষোভ হয়। সেখানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে এবং তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৫৭ জন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার এবং পরে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি বা আমিরাতের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই তথ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়নি। ক্ষমার প্রসঙ্গ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের মুক্তির বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়। পরে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের ক্ষমার আদেশে ওই ৫৭ জন মুক্তি পান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছেৎ এই অংশে সংশ্লিষ্ট আমিরাতি কর্তৃপক্ষ বা বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য/নথি প্রদত্ত তথ্যের সঙ্গে নেই। বিভিন্ন দেশে প্রতিবা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসি, কানাডার টরন্টো, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, জার্মানির বার্লিন, ফ্রান্সের প্যারিস ও জাপানের টোকিওতে প্রবাসীরা বিক্ষোভ করেন। লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ার, হোয়াইটহল, নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার এবং জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে কর্মসূচির কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতাদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা, আয়োজক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নির্দিষ্ট যাচাইযোগ্য তথ্য প্রতিবেদনে নেই।ইন্টারনেট বন্ধের সময় তথ্য প্রচারপ্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত বা বন্ধ থাকার সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ দেশের ভেতর থেকে পাওয়া ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে আন্দোলনের তথ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কোন কোন ব্যক্তি বা সংগঠন নির্দিষ্টভাবে এসব তথ্য সরবরাহ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো কোন তথ্য তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছে—এ বিষয়ে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট সূত্র নেই। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনটিতে বিবিসি, রয়টার্স, আলজাজিরা, সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান, নিউইয়র্ক টাইমস ও এএফপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের কথা বলা হয়েছে।এ ছাড়া জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের প্রতিক্রিয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য বা প্রতিবেদন থেকে কোন তথ্য প্রবাসীদের সরবরাহ করা হয়েছিল—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রদত্ত লেখায় নেই। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি প্রতিবেদন অনুযায়ী, হার্ভার্ড, এমআইটি, কলাম্বিয়া, প্রিন্সটন, অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, এলএসই, কিংস কলেজ লন্ডন, মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের উদ্যোগে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক একাডেমিক মহলে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বিকল্প অর্থ স্থানান্তরের প্রসঙ্গ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেমিট্যান্স বয়কটের সময় দেশে থাকা পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে প্রবাসীদের কেউ কেউ অনানুষ্ঠানিক অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকেছিলেন। এতে হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক লেনদেনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের লেনদেনের আইনি ও আর্থিক ঝুঁকির কথাও প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে। তবে কতজন প্রবাসী এ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন বা এর আর্থিক পরিমাণ কত ছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ, কারফিউ এবং বন্দর কার্যক্রমে বিঘ্নের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তৈরি পোশাক খাতে চাপ তৈরি হয়েছিল। এইচঅ্যান্ডএম, জারা ও ওয়ালমার্টের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড বা ব্যবসায়িক সংগঠনের সরাসরি বক্তব্য প্রদত্ত তথ্যে নেই। ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ প্রবাসী প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ওমানবাধিকারকর্মীদের একটি অংশ ভিডিও, ছবি, অডিও ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাই করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে পাঠিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ ধরনের তথ্য পরবর্তীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নথিভুক্ত করতে সহায়ক হয়েছে বলেও লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন নির্দিষ্ট প্রমাণ কোন সংস্থার কাছে দেওয়া হয়েছিল, তার বিস্তারিত তথ্য নেই। তারেক রহমানের ভূমিকার দাবি প্রতিবেদনের শেষ অংশে বিএনপির নেতা তারেক রহমানের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, লন্ডনে অবস্থান করেও তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরতে দলীয় নেতাকর্মী ও প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।

উপসংহার

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের বাইরে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের একটি অংশ বিক্ষোভ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, রেমিট্যান্স বয়কটের আহ্বান এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনমত গঠনের বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত হয়েছিল—প্রদত্ত লেখাটির মূল বক্তব্য এমনই। তবে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার কারণ, আন্দোলনের ওপর প্রবাসীদের উদ্যোগের প্রত্যক্ষ প্রভাব, আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে তাদের ভূমিকা এবং বিভিন্ন দেশে সংঘটিত কর্মসূচির ব্যাপ্তি নির্ধারণে সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন ও স্বাধীন সূত্র যাচাই করা প্রয়োজন। ফলে এসব দাবিকে যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে উপস্থাপন না করাই সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে সমীচীন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Uzzal Alo

জনপ্রিয়

খুলশীতে ৬৩ বিদেশি আটক, উদ্ধার ১৭০টি ডিভাইস

প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ: জুলাই আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকার নানা দিক

Update Time : ০৭:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
৩৪

 

প্রারম্ভিকা

ঢাকা, ৩ আগস্ট ২০২৬: ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ প্রতিবাদ কর্মসূচি, রেমিট্যান্স বয়কট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের উদ্যোগ নেয়। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ, মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে চিঠি ও প্রচারাভিযান এবং আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট তথ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রদত্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আন্দোলনের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা কর্মসূচি পালন করেন। তবে এসব কর্মকাণ্ডের ব্যাপ্তি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এবং এর প্রত্যক্ষ প্রভাব সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখানে নেই।

রেমিট্যান্স বয়কটের দাবি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিবাদে প্রবাসীদের একটি অংশ আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ রাখার আহ্বান জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিভিন্ন প্রচার ও স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুনে প্রবাসী আয় ছিল ২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং জুলাইয়ে তা কমে ১ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। তবে রেমিট্যান্স কমার পেছনে শুধু বয়কটকেই কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মতো স্বাধীন যাচাই বা সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদদের নির্দিষ্ট বক্তব্য প্রদত্ত তথ্যে নেই।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিক্ষোভ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, শারজাহ ও আবুধাবিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিক্ষোভ হয়। সেখানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে এবং তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৫৭ জন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার এবং পরে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি বা আমিরাতের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই তথ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়নি। ক্ষমার প্রসঙ্গ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের মুক্তির বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়। পরে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের ক্ষমার আদেশে ওই ৫৭ জন মুক্তি পান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছেৎ এই অংশে সংশ্লিষ্ট আমিরাতি কর্তৃপক্ষ বা বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য/নথি প্রদত্ত তথ্যের সঙ্গে নেই। বিভিন্ন দেশে প্রতিবা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসি, কানাডার টরন্টো, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, জার্মানির বার্লিন, ফ্রান্সের প্যারিস ও জাপানের টোকিওতে প্রবাসীরা বিক্ষোভ করেন। লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ার, হোয়াইটহল, নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার এবং জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে কর্মসূচির কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতাদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা, আয়োজক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নির্দিষ্ট যাচাইযোগ্য তথ্য প্রতিবেদনে নেই।ইন্টারনেট বন্ধের সময় তথ্য প্রচারপ্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত বা বন্ধ থাকার সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ দেশের ভেতর থেকে পাওয়া ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে আন্দোলনের তথ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কোন কোন ব্যক্তি বা সংগঠন নির্দিষ্টভাবে এসব তথ্য সরবরাহ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো কোন তথ্য তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছে—এ বিষয়ে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট সূত্র নেই। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনটিতে বিবিসি, রয়টার্স, আলজাজিরা, সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান, নিউইয়র্ক টাইমস ও এএফপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের কথা বলা হয়েছে।এ ছাড়া জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের প্রতিক্রিয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য বা প্রতিবেদন থেকে কোন তথ্য প্রবাসীদের সরবরাহ করা হয়েছিল—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রদত্ত লেখায় নেই। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি প্রতিবেদন অনুযায়ী, হার্ভার্ড, এমআইটি, কলাম্বিয়া, প্রিন্সটন, অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, এলএসই, কিংস কলেজ লন্ডন, মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের উদ্যোগে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক একাডেমিক মহলে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বিকল্প অর্থ স্থানান্তরের প্রসঙ্গ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেমিট্যান্স বয়কটের সময় দেশে থাকা পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে প্রবাসীদের কেউ কেউ অনানুষ্ঠানিক অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকেছিলেন। এতে হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক লেনদেনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের লেনদেনের আইনি ও আর্থিক ঝুঁকির কথাও প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে। তবে কতজন প্রবাসী এ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন বা এর আর্থিক পরিমাণ কত ছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ, কারফিউ এবং বন্দর কার্যক্রমে বিঘ্নের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তৈরি পোশাক খাতে চাপ তৈরি হয়েছিল। এইচঅ্যান্ডএম, জারা ও ওয়ালমার্টের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড বা ব্যবসায়িক সংগঠনের সরাসরি বক্তব্য প্রদত্ত তথ্যে নেই। ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ প্রবাসী প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ওমানবাধিকারকর্মীদের একটি অংশ ভিডিও, ছবি, অডিও ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাই করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে পাঠিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ ধরনের তথ্য পরবর্তীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নথিভুক্ত করতে সহায়ক হয়েছে বলেও লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন নির্দিষ্ট প্রমাণ কোন সংস্থার কাছে দেওয়া হয়েছিল, তার বিস্তারিত তথ্য নেই। তারেক রহমানের ভূমিকার দাবি প্রতিবেদনের শেষ অংশে বিএনপির নেতা তারেক রহমানের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, লন্ডনে অবস্থান করেও তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরতে দলীয় নেতাকর্মী ও প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।

উপসংহার

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের বাইরে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের একটি অংশ বিক্ষোভ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, রেমিট্যান্স বয়কটের আহ্বান এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনমত গঠনের বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত হয়েছিল—প্রদত্ত লেখাটির মূল বক্তব্য এমনই। তবে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার কারণ, আন্দোলনের ওপর প্রবাসীদের উদ্যোগের প্রত্যক্ষ প্রভাব, আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে তাদের ভূমিকা এবং বিভিন্ন দেশে সংঘটিত কর্মসূচির ব্যাপ্তি নির্ধারণে সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন ও স্বাধীন সূত্র যাচাই করা প্রয়োজন। ফলে এসব দাবিকে যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে উপস্থাপন না করাই সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে সমীচীন।