ঢাকা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাব আল-মান্দেবে হুথিদের অগ্রযাত্রা, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে নতুন শঙ্কা দুই মন্ত্রীর পরিদর্শনে ওসমানী হাসপাতালে বদলে গেল পরিবেশ ঢাকা-১৭ আসনের ৩৮ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান খুলশীতে ৬৩ বিদেশি আটক, উদ্ধার ১৭০টি ডিভাইস টোকিওতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী ২ বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে ৪৬ শতাংশ বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে: মঈন খান জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত হলে রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার কমবে: কাদের গণি রাজাপুর মডেল মসজিদে ৮ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই, বন্ধ অজুর পানি ডেঙ্গুতে আরও ৪ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১,২৫২
সর্বশেষ সংবাদ :
রাষ্ট্রপতির কাছে পোশাক খাতের সংকট ও ১১ দফা সুপারিশ বিজিএমইএর নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃত ৩৫৯, নিখোঁজ ৯১০ বিদায়ী বক্তব্যে বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল, সংসদ সদস্যদের ভোট চাইলেন ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৭ যাত্রাবাড়ীর জনসভায় গোলাম পরওয়ার: ‘জুলাইয়ের ইতিহাস ভুলতে বসেছে বিএনপি’ রবিবার সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়বেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে যে দুই সমীকরণ গুজবকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি শবনম ফারিয়ার, ‘স্ক্রিনশট-কল রেকর্ড প্রকাশ করে মামলা করব’ হারের বেদনাতেও বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত জাপানি সমর্থকেরা, স্টেডিয়াম পরিষ্কারে আবারও দৃষ্টান্ত আজ কী উপহার রেখেছেন মেসি

জুলাইয়ে চিকিৎসকদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি

৩২

 

প্রারম্ভিকা

ঢাকা, ৯ আগস্ট ২০২৬: জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের অনেকে জীবন ও নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আলোচনা সভার বক্তারা। নানা চাপ, ভয়ভীতি ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও অনেক চিকিৎসক আহত আন্দোলনকারীদের চিকিৎসা দিয়েছেন বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
রোববার ডকটরস রেজিস্ট্যান্স ডে বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে এবং প্ল্যাটফর্ম অব মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল সোসাইটির সহযোগিতায় ‘অগ্নিঝরা জুলাইয়ে চিকিৎসকদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। সভায় জুলাইয়ের চিকিৎসকদের অবদান নথিভুক্ত করা এবং তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়।
আলোচনায় যা বলা হয়
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনকে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখতে হবে। তিনি জানান, জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে জুলাই অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে
তিনি আরও বলেন, এখনো অনেক জুলাইযোদ্ধা স্বীকৃতির আওতায় আসেননি। তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রধান বক্তা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি জুলাইয়ে চিকিৎসকদের ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়াকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।
নিজের জুলাইয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় তিনি আহত হয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসকদের নিজেদের ঝুঁকি নিয়ে আহতদের চিকিৎসা দিতে দেখেছেন বলেও জানান তিনি।

 

চিকিৎসকদের ভূমিকার স্বীকৃতির দাবি

 

অধ্যাপক যাকারিয়া আল আজিজ বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে চিকিৎসকরাও বিভিন্ন অবস্থানে ছিলেন। তার দাবি, আন্দোলনে যেসব চিকিৎসক মানবিক ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের অবদান মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। অধ্যাপক মাযহার শাহীন বলেন, জুলাই ছিল একটি স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন, যাতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলামও জুলাইয়ের আন্দোলনে চিকিৎসকদের ভূমিকার মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন গণআন্দোলনে চিকিৎসকদের ভূমিকা ছিল। ভবিষ্যতে জুলাইয়ের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি বা একক দাবির সুযোগ যেন তৈরি না হয়, সে জন্য গণতন্ত্রকামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

শহীদ চিকিৎসকের পরিবারের বক্তব্য

 

অনুষ্ঠানে শহীদ ডা. মো. কবিরুল ইসলামের সহধর্মিণী শামসুন নাহার শেলী উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ ডা. সজীব সরকারের বাবা হালিম সরকার বকুল জানান, তার ছেলে ১৮ জুলাই নরসিংদী থেকে ঢাকায় এসে আন্দোলনে অংশ নেন। তার মেয়েও আন্দোলনে অংশ নিয়ে রাবার বুলেটে আহত হয়েছিলেন বলে জানান তিনি। পরে তিনি জানতে পারেন, তার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার ছেলে একজন চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত হতে চেয়েছিলেন। পরে আন্দোলনে শহীদ হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি অন্যভাবে পরিচিতি পেয়েছেন। হালিম সরকার নরসিংদী মেডিকেল কলেজ শহীদ ডা. সজীব সরকারের নামে নামকরণের অনুরোধ জানান।

 

চিকিৎসকদের বর্তমান অবস্থার কথা

 

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. রফিকূল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও তারা এখনো যথাযথভাবে মূল্যায়িত হননি। তিনি দাবি করেন, আগের সময়ে নির্যাতিত ও বঞ্চিত চিকিৎসকদের অনেকেই এখনো কাঙ্ক্ষিত পদায়ন ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত। এসব চিকিৎসকের অবদান ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানান তিনি। সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাহেদ আলম বলেন, চিকিৎসকদের ভূমিকা শুধু জুলাইয়ের আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও চিকিৎসকদের অংশগ্রহণ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় যেসব দাবি ওঠে
আলোচনা সভায় জুলাইয়ের আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদান নথিভুক্ত করার দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া শহীদ ও নির্যাতিত চিকিৎসকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, জুলাইয়ে চিকিৎসকদের ভূমিকা ইতিহাসে সংরক্ষণ এবং দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত চিকিৎসকদের ন্যায়সঙ্গত পদায়ন ও পদোন্নতির ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা পেশার একক বিষয় নয়। এটি দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও মানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। সেই ইতিহাসে চিকিৎসকদের অবদান যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণ ও স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

প্রশাসনের বক্তব্য

সরকারের পক্ষ থেকে সভায় জুলাইয়ের অংশগ্রহণকারীদের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপনের তথ্য সভায় উল্লেখ করা হয়নি।

উপসংহার

আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাইয়ের আন্দোলনে চিকিৎসকদের ভূমিকা নথিভুক্ত ও মূল্যায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি শহীদ, নির্যাতিত এবং আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসায় অবদান রাখা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথ স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়েছে।প্রয়োজনে এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত অনলাইন নিউজ ভার্সন, প্রথম আলোর মতো সংযত সংবাদভাষা, অথবা উজ্জ্বল আলো’র নিজস্ব নিউজ স্টাইলেও সাজানো যাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Uzzal Alo

জনপ্রিয়

বাব আল-মান্দেবে হুথিদের অগ্রযাত্রা, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে নতুন শঙ্কা

জুলাইয়ে চিকিৎসকদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি

Update Time : ০৫:২৫:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
৩২

 

প্রারম্ভিকা

ঢাকা, ৯ আগস্ট ২০২৬: জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের অনেকে জীবন ও নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আলোচনা সভার বক্তারা। নানা চাপ, ভয়ভীতি ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও অনেক চিকিৎসক আহত আন্দোলনকারীদের চিকিৎসা দিয়েছেন বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
রোববার ডকটরস রেজিস্ট্যান্স ডে বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে এবং প্ল্যাটফর্ম অব মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল সোসাইটির সহযোগিতায় ‘অগ্নিঝরা জুলাইয়ে চিকিৎসকদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। সভায় জুলাইয়ের চিকিৎসকদের অবদান নথিভুক্ত করা এবং তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়।
আলোচনায় যা বলা হয়
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনকে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখতে হবে। তিনি জানান, জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে জুলাই অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে
তিনি আরও বলেন, এখনো অনেক জুলাইযোদ্ধা স্বীকৃতির আওতায় আসেননি। তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রধান বক্তা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি জুলাইয়ে চিকিৎসকদের ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়াকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।
নিজের জুলাইয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় তিনি আহত হয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসকদের নিজেদের ঝুঁকি নিয়ে আহতদের চিকিৎসা দিতে দেখেছেন বলেও জানান তিনি।

 

চিকিৎসকদের ভূমিকার স্বীকৃতির দাবি

 

অধ্যাপক যাকারিয়া আল আজিজ বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে চিকিৎসকরাও বিভিন্ন অবস্থানে ছিলেন। তার দাবি, আন্দোলনে যেসব চিকিৎসক মানবিক ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের অবদান মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। অধ্যাপক মাযহার শাহীন বলেন, জুলাই ছিল একটি স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন, যাতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলামও জুলাইয়ের আন্দোলনে চিকিৎসকদের ভূমিকার মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন গণআন্দোলনে চিকিৎসকদের ভূমিকা ছিল। ভবিষ্যতে জুলাইয়ের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি বা একক দাবির সুযোগ যেন তৈরি না হয়, সে জন্য গণতন্ত্রকামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

শহীদ চিকিৎসকের পরিবারের বক্তব্য

 

অনুষ্ঠানে শহীদ ডা. মো. কবিরুল ইসলামের সহধর্মিণী শামসুন নাহার শেলী উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ ডা. সজীব সরকারের বাবা হালিম সরকার বকুল জানান, তার ছেলে ১৮ জুলাই নরসিংদী থেকে ঢাকায় এসে আন্দোলনে অংশ নেন। তার মেয়েও আন্দোলনে অংশ নিয়ে রাবার বুলেটে আহত হয়েছিলেন বলে জানান তিনি। পরে তিনি জানতে পারেন, তার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার ছেলে একজন চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত হতে চেয়েছিলেন। পরে আন্দোলনে শহীদ হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি অন্যভাবে পরিচিতি পেয়েছেন। হালিম সরকার নরসিংদী মেডিকেল কলেজ শহীদ ডা. সজীব সরকারের নামে নামকরণের অনুরোধ জানান।

 

চিকিৎসকদের বর্তমান অবস্থার কথা

 

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. রফিকূল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও তারা এখনো যথাযথভাবে মূল্যায়িত হননি। তিনি দাবি করেন, আগের সময়ে নির্যাতিত ও বঞ্চিত চিকিৎসকদের অনেকেই এখনো কাঙ্ক্ষিত পদায়ন ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত। এসব চিকিৎসকের অবদান ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানান তিনি। সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাহেদ আলম বলেন, চিকিৎসকদের ভূমিকা শুধু জুলাইয়ের আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও চিকিৎসকদের অংশগ্রহণ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় যেসব দাবি ওঠে
আলোচনা সভায় জুলাইয়ের আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদান নথিভুক্ত করার দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া শহীদ ও নির্যাতিত চিকিৎসকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, জুলাইয়ে চিকিৎসকদের ভূমিকা ইতিহাসে সংরক্ষণ এবং দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত চিকিৎসকদের ন্যায়সঙ্গত পদায়ন ও পদোন্নতির ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা পেশার একক বিষয় নয়। এটি দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও মানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। সেই ইতিহাসে চিকিৎসকদের অবদান যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণ ও স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

প্রশাসনের বক্তব্য

সরকারের পক্ষ থেকে সভায় জুলাইয়ের অংশগ্রহণকারীদের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপনের তথ্য সভায় উল্লেখ করা হয়নি।

উপসংহার

আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাইয়ের আন্দোলনে চিকিৎসকদের ভূমিকা নথিভুক্ত ও মূল্যায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি শহীদ, নির্যাতিত এবং আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসায় অবদান রাখা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথ স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়েছে।প্রয়োজনে এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত অনলাইন নিউজ ভার্সন, প্রথম আলোর মতো সংযত সংবাদভাষা, অথবা উজ্জ্বল আলো’র নিজস্ব নিউজ স্টাইলেও সাজানো যাবে।