সংবাদ প্রতিবেদন
প্রারম্ভিকা
ঢাকা, ১১ জুলাই ২০২৬: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার সামাজিক অস্থিরতা, মানহানি, আর্থিক প্রতারণা, ঘৃণা ও সহিংসতায় উসকানির মতো নানা সমস্যার সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী। শনিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ‘সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধিতে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার’ শীর্ষক ছায়া সংসদেতিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
ফেসবুকের প্রভাব নিয়ে মন্তব্য
বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, সমাজে যা ঘটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি অংশ প্রতিফলিত হয়। তবে এই মাধ্যমের অপব্যবহার বর্তমানে জটিল ও যৌগিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ফেসবুক এমন একটি অবস্থানে পৌঁছেছে, যা অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। এর প্রধান শক্তি হলো সারা বিশ্বের মানুষের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ স্থাপনের সক্ষমতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। মতপ্রকাশের পাশাপাশি সংযমের আহ্বান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, বাগ্স্বাধীনতার পাশাপাশি বাগ্সংযমও থাকা উচিত। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অপরাধীরা ব্যক্তির মানহানি, আর্থিক প্রতারণা এবং ঘৃণা ও সহিংসতায় উসকানি দিয়ে থাকে।
অনলাইন জুয়া ও অপরাধ নিয়ে বক্তব্য
বিটিআরসি চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে আর্থিক প্রতারণার ঘটনাও ঘটেছে। অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেনের মাধ্যম চিহ্নিত করা গেলে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি জানান, গত বছর বিটিআরসি ২৬ হাজার অনলাইন জুয়ার সাইট বন্ধ করেছে এবং বিভিন্ন সাইট থেকে ২০ হাজার ঘৃণাত্মক বক্তব্য অপসারণ করেছে অপতথ্য ও উসকানিমূলক কনটেন্ট নিয়ে উদ্বেগ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করছে। তিনি বলেন, মিথ্যা, গুজব ও অপতথ্য প্রচারের মাধ্যমে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব কনটেন্টের কারণে সাম্প্রদায়িক সংঘাত, গণপিটুনি, ভাঙচুর ও প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের মাধ্যমে হানিট্র্যাপে ফেলে মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, ব্যবসা ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বিটিআরসিকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান ভিউ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে মিথ্যা, গুজব, অপতথ্য ও অরুচিকর কনটেন্ট ছড়ানো বন্ধে বিটিআরসিকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, ইতিবাচকভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়ে বিটিআরসি নাগরিক সংলাপের আয়োজন করতে পারে।
বিতর্ক প্রতিযোগিতার ফল
অনুষ্ঠানে ‘সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের কারণে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, রোকেয়া পারভীন জুই, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক সমীর কুমার দে ও সাংবাদিক মনির মিল্লাত।
উপসংহার
অনুষ্ঠানে বক্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি অপব্যবহার রোধে নাগরিক সচেতনতা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন।

উজ্জ্বল আলো 























