ঢাকা ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুন্দরবন-মোংলা ঘুরে উন্নয়ন সম্ভাবনা পর্যালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৬, ধসে পড়েছে শত শত বাড়িঘর অপ্রতীম হত্যা মামলায় চার্জশিট, চার আসামির মধ্যে দুইজন কিশোর সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত শাহেদের মরদেহ গ্রহণ করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ টানা তৃতীয় দফায় কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমেছে ২,১৫৮ টাকা প্যারিসে কারফিউয়ের মেয়াদ বাড়ল, মার্সেই ও লিওঁয়ে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি, নিরাপত্তায় পর্যটক উদ্ধার রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য নিয়ে পেশাদার সংবাদ প্রতিবেদন ব্যাটিং ব্যর্থতায় জয়হীন বাংলাদেশ, দল গঠনে নতুন করে ভাবার তাগিদ সাজেকে অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি, আটকে পড়েছিলেন দুই হাজার পর্যটক
সর্বশেষ সংবাদ :
চট্টগ্রামে ৩০০ শিশুর ওপর গবেষণা: হামে আক্রান্তদের ৮৫.২ শতাংশ টিকাবিহীন একাদশে ভর্তিতে প্রায় ১০ লাখ আবেদন, ফল প্রকাশ ১৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির কাছে পোশাক খাতের সংকট ও ১১ দফা সুপারিশ বিজিএমইএর নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃত ৩৫৯, নিখোঁজ ৯১০ বিদায়ী বক্তব্যে বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল, সংসদ সদস্যদের ভোট চাইলেন ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৭ যাত্রাবাড়ীর জনসভায় গোলাম পরওয়ার: ‘জুলাইয়ের ইতিহাস ভুলতে বসেছে বিএনপি’ রবিবার সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়বেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে যে দুই সমীকরণ গুজবকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি শবনম ফারিয়ার, ‘স্ক্রিনশট-কল রেকর্ড প্রকাশ করে মামলা করব’
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশা।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে ৯ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে ঐকমত্য

১১৬

প্রারম্ভিকা (Lead)

 

কুয়ালালামপুর, ২২ জুন ২০২৬: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে ৯টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। সফর শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন এ তথ্য জানান।

 

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। প্রায় ১৮ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

 

ঘটনার বিস্তারিত

 

মালয়েশিয়া সরকারের আমন্ত্রণে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। পরে তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

 

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন। পরবর্তীতে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া তিনি মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

 

দুই দেশের আলোচনায় রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর, শ্রমিক কল্যাণ, শিক্ষা, পর্যটন, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাত বিশেষ গুরুত্ব পায়। আলোচনার ভিত্তিতে ৯টি অগ্রাধিকার খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩৩ দফা যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

 

সংবাদ সম্মেলনে মাহ্‌দী আমিন বলেন, সফরটি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি করেছে। তিনি জানান, উভয় দেশ ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি খাতে অংশীদারিত্ব জোরদারে কাজ করবে।

 

শ্রমবাজার বিষয়ে আলোচনা

 

সফরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কম খরচে, স্বচ্ছ ও নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান।

 

এছাড়া মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন কারণে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের মানবিক বিবেচনায় বৈধতা প্রদান অথবা নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়।

 

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা

 

দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

এআই, ডিজিটাল অর্থনীতি, সাইবার নিরাপত্তা এবং আধুনিক প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রযুক্তি পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে মালয়েশীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

 

শিক্ষা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

 

মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর বিষয়টিও আলোচনায় আসে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশীদারিত্ব, যৌথ গবেষণা এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণে দুই দেশ একমত হয়েছে।

 

এছাড়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি, সামরিক প্রশিক্ষণ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সক্ষমতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

রোহিঙ্গা ইস্যু ও আঞ্চলিক সহযোগিতা

 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং আরসিইপি (RCEP)-এ অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মালয়েশিয়ার সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

 

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

 

সফরকালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতা সংক্রান্ত দুটি এক্সচেঞ্জ অব নোটস বিনিময় করা হয়।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফরের সময় মালয়েশিয়ার কয়েকটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর মধ্যে পেট্রোনাস, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, পারডুয়া এবং এমএমসি পোর্টের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

পটভূমি

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁকে অভিনন্দন জানান। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

পরিবার, স্থানীয় ও অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য

 

এই ঘটনা একটি রাষ্ট্রীয় কূটনৈতিক সফর-সংক্রান্ত হওয়ায় পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা বা কোনো অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য প্রযোজ্য নয়। প্রাপ্ত তথ্যে এ ধরনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

প্রশাসনের বক্তব্য

 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন জানিয়েছেন, সফরে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেবে।

 

উপসংহার

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই মালয়েশিয়া সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও শ্রমবাজারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Uzzal Alo

জনপ্রিয়

সুন্দরবন-মোংলা ঘুরে উন্নয়ন সম্ভাবনা পর্যালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশা।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে ৯ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে ঐকমত্য

Update Time : ০৮:২০:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
১১৬

প্রারম্ভিকা (Lead)

 

কুয়ালালামপুর, ২২ জুন ২০২৬: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে ৯টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। সফর শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন এ তথ্য জানান।

 

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। প্রায় ১৮ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

 

ঘটনার বিস্তারিত

 

মালয়েশিয়া সরকারের আমন্ত্রণে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। পরে তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

 

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন। পরবর্তীতে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া তিনি মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

 

দুই দেশের আলোচনায় রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর, শ্রমিক কল্যাণ, শিক্ষা, পর্যটন, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাত বিশেষ গুরুত্ব পায়। আলোচনার ভিত্তিতে ৯টি অগ্রাধিকার খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩৩ দফা যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

 

সংবাদ সম্মেলনে মাহ্‌দী আমিন বলেন, সফরটি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি করেছে। তিনি জানান, উভয় দেশ ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি খাতে অংশীদারিত্ব জোরদারে কাজ করবে।

 

শ্রমবাজার বিষয়ে আলোচনা

 

সফরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কম খরচে, স্বচ্ছ ও নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান।

 

এছাড়া মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন কারণে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের মানবিক বিবেচনায় বৈধতা প্রদান অথবা নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়।

 

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা

 

দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

এআই, ডিজিটাল অর্থনীতি, সাইবার নিরাপত্তা এবং আধুনিক প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রযুক্তি পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে মালয়েশীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

 

শিক্ষা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

 

মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর বিষয়টিও আলোচনায় আসে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশীদারিত্ব, যৌথ গবেষণা এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণে দুই দেশ একমত হয়েছে।

 

এছাড়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি, সামরিক প্রশিক্ষণ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সক্ষমতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

রোহিঙ্গা ইস্যু ও আঞ্চলিক সহযোগিতা

 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং আরসিইপি (RCEP)-এ অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মালয়েশিয়ার সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

 

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

 

সফরকালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতা সংক্রান্ত দুটি এক্সচেঞ্জ অব নোটস বিনিময় করা হয়।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফরের সময় মালয়েশিয়ার কয়েকটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর মধ্যে পেট্রোনাস, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, পারডুয়া এবং এমএমসি পোর্টের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

পটভূমি

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁকে অভিনন্দন জানান। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

পরিবার, স্থানীয় ও অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য

 

এই ঘটনা একটি রাষ্ট্রীয় কূটনৈতিক সফর-সংক্রান্ত হওয়ায় পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা বা কোনো অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য প্রযোজ্য নয়। প্রাপ্ত তথ্যে এ ধরনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

প্রশাসনের বক্তব্য

 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন জানিয়েছেন, সফরে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেবে।

 

উপসংহার

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই মালয়েশিয়া সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও শ্রমবাজারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।