🔶 সাব-হেডিং:
জামায়াতের দাবি, তারা সংবিধানের “সংস্কার” চায়, সরকার চাইছে “সংশোধন”। এ নিয়ে বিরোধী শিবিরে আস্থার সংকট আরও স্পষ্ট হয়েছে।
🔷 প্রারম্ভিকা:
ঢাকা, ২১ মে ২০২৬: সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সরকারের প্রস্তাবিত বিশেষ কমিটিতে অংশ নেওয়া নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। দলটির ভেতরে এ বিষয়ে আলোচনা চললেও কমিটিতে না যাওয়ার পক্ষে জোরালো মত তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত ২৯ এপ্রিল সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। বিরোধী দলকে পাঁচজন সদস্যের নাম দিতে বলা হলেও এখনো কোনো নাম জমা দেয়নি জামায়াত। দলটির নেতারা মনে করছেন, সংশোধন কমিটিতে গেলে সরকারকে নিজেদের মতো করে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বৈধতা দেওয়া হতে পারে।
🔷 ঘটনার বিস্তারিত:
সরকারি প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২ সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা ঠিক করা হয়েছে। এতে বিএনপির সাতজন সংসদ সদস্য ছাড়াও গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিরোধী দলের পাঁচজন সদস্য যোগ হলে কমিটির সদস্যসংখ্যা দাঁড়াবে ১৭ জনে।
তবে বিরোধী দলের একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, সরকার সংবিধান “সংস্কার” নয়, কেবল “সংশোধন” করতে চায়। তাঁদের মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করেই সরকার নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
গত ৩০ এপ্রিল ১১–দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি আলোচনা হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, জোটের বেশির ভাগ নেতাই সরকারের প্রস্তাব নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।
বিরোধী দল মনে করছে, সংসদে সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো একতরফাভাবে নেওয়া হচ্ছে। একই ধারা সংবিধান সংশোধন কমিটিতেও অনুসরণ করা হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
🔷 ঘটনার উক্তি:
বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন,
> “এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা করেই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।”
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন,
“বিরোধী দল সংশোধন নয়, সংবিধানের সংস্কার চেয়েছে। তাই সরকারের প্রস্তাবিত কমিটিতে যাওয়ার সুযোগ নেই।”
আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন,
> “জামায়াত সংবিধানের সংস্কার চেয়েছে, আর সরকার চাচ্ছে সংশোধন। এখানেই মূল পার্থক্য।”
🔷 পটভূমি:
সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে। বিরোধী দল অভিযোগ করে আসছে, সরকার সংস্কারপ্রক্রিয়া বাস্তবায়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ নিচ্ছে না। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ বিলম্ব এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ অনুমোদন না করাকে তারা সরকারের অনীহার উদাহরণ হিসেবে দেখছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দল এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও জোটগত সমীকরণ বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে চায়।
🔷 পারিবারিক মন্তব্য:
এটি একটি রাজনৈতিক ও নীতিগত বিষয় হওয়ায় ভুক্তভোগী বা পারিবারিক মন্তব্য প্রযোজ্য নয়।
🔷 এলাকাবাসীর মন্তব্য:
রাজনৈতিক সচেতন নাগরিকদের অনেকে মনে করছেন, সংবিধান সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা জরুরি।
ঢাকার এক বাসিন্দা বলেন,
“সংবিধান নিয়ে বড় সিদ্ধান্তে সব পক্ষের অংশগ্রহণ দরকার। একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত হলে রাজনৈতিক সংকট বাড়তে পারে।”
🔷 আসামি পক্ষের বক্তব্য:
রকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধী দলের আপত্তির বিষয়ে সরকার এখনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
🔷 প্রশাসনের বক্তব্য:
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বলেন,> “সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সব পক্ষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
🔷 উপসংহার:
সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেওয়া না–দেওয়া নিয়ে জামায়াতে ইসলামী এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে দলটির ভেতরে সরকারের উদ্যোগ নিয়ে আস্থার সংকট এবং রাজনৈতিক সতর্কতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে সরকারের পদক্ষেপ ও বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ আলোচনার ওপরই নির্ভর করবে কমিটিতে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত।
























