🔷 প্রারম্ভিকা:
ঢাকা, ১৮ মে ২০২৬: জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক এলিট ফোর্স গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বর্তমানে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এডহক ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর র্যাব সদর দপ্তরে বাহিনীটির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে নতুন আইনের আওতায় একটি আধুনিক এলিট ফোর্স গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
🔷 ঘটনার বিস্তারিত:
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার বর্তমানে র্যাবের জন্য একটি পৃথক আইন প্রণয়নের কাজ করছে। নতুন আইনে বাহিনীর দায়িত্ব, ক্ষমতা ও জবাবদিহির বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে।
তিনি জানান, র্যাবের নাম পরিবর্তন করা হবে কি না, অথবা নতুন কোনো বাহিনী গঠন করা হবে কি না—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে কিছু কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র্যাবের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পুরো প্রতিষ্ঠানের দায় কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর চাপানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির এবং র্যাব মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ উপস্থিত ছিলেন।
🔷 ঘটনার উক্তি:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,
“আগামী দিনে সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। সেই আইনের অধীনে একটি এলিট ফোর্স থাকবে।”তিনি আরও বলেন,“ফোর্সের ক্ষেত্রে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি নিশ্চিত করা হবে।”
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
কিছু কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যক্তি দায়ী।”
🔷 পটভূমি:
মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গুমের অভিযোগে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র র্যাব এবং এর কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর থেকে বাহিনীটির কার্যক্রম, জবাবদিহি ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দেশ-বিদেশে আলোচনা চলছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গঠন করা হলেও আইনি কাঠামো ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বর্তমান সরকার সেই প্রেক্ষাপটে নতুন আইনি কাঠামোর কথা বলছে।
🔷 পারিবারিক মন্তব্য:
গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা অতীতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, “যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
🔷 এলাকাবাসীর মন্তব্য:
রাজধানীর কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষ বাহিনী প্রয়োজন। তবে সেই বাহিনীকে অবশ্যই আইনের আওতায় ও জবাবদিহির মধ্যে পরিচালিত হতে হবে।
একজন ব্যবসায়ী বলেন,
“অপরাধ দমনে শক্তিশালী বাহিনী দরকার, কিন্তু মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ যেন না ওঠে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।”
🔷 আসামি পক্ষের বক্তব্য:
র্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
🔷 প্রশাসনের বক্তব্য:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,
“বর্তমান সরকার কোনো বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে না। গত তিন মাসে কোনো বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি।”
তিনি আরও জানান, গুম সংক্রান্ত অভিযোগের বিচার কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে আইসিটি আইনে সংশোধনের বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে।
🔷 উপসংহার:
র্যাবকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে সরকার নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন কাঠামোয় এলিট ফোর্স গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে বাহিনীর নাম, কাঠামো ও আইনি রূপ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সরকারের দাবি, ভবিষ্যতে আইনের শাসন ও জননিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করেই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
























