🔶 সাব-হেডিং:
জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় করা মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত
🔷 প্রারম্ভিকা:
ঢাকা, ৮ মে ২০২৬: জুলাই আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাস হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আফজাল নাছেরকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম আবদুল হক সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
🔷 ঘটনার বিস্তারিত:
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক অতিক্রম করে আন্দোলনকারীরা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে পৌঁছালে তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে অনিক কুমার দাস আহত হন।
আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুটা সুস্থ হয়ে গত ৩১ জুলাই হাসপাতাল ছাড়েন তিনি।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন অনিক কুমার দাস।
🔷 ঘটনার উক্তি:
আদালত সংশ্লিষ্ট এক আইনজীবী বলেন,
“তদন্তের স্বার্থে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে আংশিক মঞ্জুর করেছেন।”
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান,
“মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।”
🔷 পটভূমি:
আফজাল নাছের ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ২৯ মার্চ তাকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে।
এরপর দেলোয়ার হত্যা মামলা, বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলা ও মাহমুদুল হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় বিভিন্ন দফায় তার রিমান্ড মঞ্জুর হয়। সর্বশেষ ৫ মে অনিক হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছিল।
🔷 পারিবারিক মন্তব্য:
অনিক কুমার দাসের পরিবারের এক সদস্য বলেন,
“ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার আমরা আশা করছি। আহত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় তাকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।”
আরেক স্বজন বলেন,
“মামলার অগ্রগতি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
🔷 এলাকাবাসীর মন্তব্য:
পুরান ঢাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন,
“জুলাই আন্দোলনের সময় এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ছিল। অনেকেই আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন।”
এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন,
“ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত তথ্য সামনে আসে।”
🔷 আসামি পক্ষের বক্তব্য:
আফজাল নাছেরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আদালতে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার আইনজীবীরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলার মোকাবিলা করছেন বলে জানা গেছে।
🔷 প্রশাসনের বক্তব্য:
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কে এম আবদুল হক আদালতে বলেন,
“মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ে আসামিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।”
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
🔷 উপসংহার:
জুলাই আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাস আহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক ডিজিএফআই পরিচালক আফজাল নাছেরকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলার বিভিন্ন দিক এখনও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

রিপোর্টারের নাম: পার্থ মজুমদার | গণমাধ্যম নাম: উজ্জ্বল আলো | পদবী: স্টাফ রিপোর্টার | কাজের এলাকা: সমগ্র বাংলাদেশ | বিট: আইন-আদালত 






















