সাব-হেডলাইন:
সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জনশক্তি রপ্তানিতে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
প্রারম্ভিকা:
ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের মামলায় তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম এ আদেশ দেন।
মামলায় অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেট গঠন করে জনশক্তি রপ্তানির নামে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং মানবপাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চক্র পরিচালিত হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে আসামিকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন উল্লেখ করে রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
ঘটনার বিস্তারিত:
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রায়হানুর রহমান দ্বিতীয় দফার রিমান্ড শেষে আদালতে চার দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ছয় দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য এখনও পুরোপুরি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম, মেডিকেল ফি বাবদ অর্থ গ্রহণ, ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু এবং বিদেশে পাঠানো কর্মীদের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানানো হয়।
এর আগে গত ২৪ মার্চ প্রথম দফায় পাঁচ দিনের এবং ২৯ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। গত ২৩ মার্চ রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পটভূমি:
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এবং ‘ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় আফিয়া ওভারসিজের প্রোপাইটর আলতাব খান একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, জনশক্তি রপ্তানি খাতে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়েছে।
পারিবারিক ও এলাকাবাসীর মন্তব্য:
আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব আদালতে দাবি করেন, “গত দুই দফার ১১ দিনের রিমান্ডে তদন্তকারী কর্মকর্তা কী তথ্য পেয়েছেন, তা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি। ৭২ বছর বয়সী অসুস্থ একজন মানুষকে বারবার রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে, যা হয়রানিমূলক।”
তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তজা ইবনে ইসলাম বলেন, “গত রিমান্ডে সব তথ্য পাওয়া যায়নি। সিন্ডিকেটের কার্যক্রম ও অর্থ লেনদেনের বিষয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।”
আসামি ও প্রশাসনের বক্তব্য:
মামলায় সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, সাবেক সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদ এবং মো. রুহুল আমীন স্বপনসহ মোট ১০৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, সিন্ডিকেটের সদস্যরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাথাপিছু দেড় লাখ টাকা করে আদায় করেছেন এবং মোট প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
উপসংহার:
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
Reporter Name 
















