সাব-হেডলাইন
বয়স, দীর্ঘসময় ঘাড় বাঁকিয়ে কাজ ও ডিস্কের ক্ষয়ের কারণে বাড়ছে সার্ভিক্যাল স্পনডাইলোসিসের ঝুঁক ঘাড়ে দীর্ঘদিনের ব্যথা, শক্ত হয়ে যাওয়া বা হাত পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে পড়ার মতো সমস্যার নীরব কারণ হতে পারে সার্ভিক্যাল স্পনডাইলোসিস। চিকিৎসকদের মতে, এটি মূলত বয়সজনিত একটি রোগ, যা ঘাড়ের হাড়, ডিস্ক ও আশপাশের টিস্যুর ক্ষয়জনিত পরিবর্তনের কারণে ধীরে ধীরে দেখা দেয় বিশেষজ্ঞরা জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাড়ের ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্কের আর্দ্রতা কমে যায় এবং কশেরুকার মধ্যে ঘর্ষণ বাড়তে থাকে। এর ফলে হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা ‘স্পার’ তৈরি হয়, যা স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
ঘটনার বিস্তারিত
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে ঘাড় বাঁকিয়ে কাজ —বিশেষ করে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহারের কারণে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া যেসব পেশায় দীর্ঘক্ষণ একইভাবে ঘাড় রাখতে হয় বা বারবার একই ধরনের নড়াচড়া করতে হয়, তাদের মধ্যেও এই সমস্যার প্রবণতা বেশি দেখা যায় রোগটির সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে ঘাড়ে ব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, পিঠের মাংসপেশিতে ব্যথা, ঘাড়ের ব্যথা হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া, হাত অবশ হয়ে যাওয়া বা ঝিনঝিন অনুভূতি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং বমিভাব রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকরা সাধারণত রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস নেন। প্রয়োজনে এক্স-রে (সার্ভিকাল স্পাইন), এমআরআই, সিটি স্ক্যান বা ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি (ইএমজি) পরীক্ষা করা হতে পারে।
পটভূমি
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, সার্ভিক্যাল স্পনডাইলোসিসের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। বংশগত কারণ, পূর্বে ঘাড়ে আঘাত পাওয়া, অতিরিক্ত শক্ত বা অতিরিক্ত নরম বালিশ ব্যবহার এবং কিছু সিস্টেমিক রোগ—যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা অটোইমিউন আর্থ্রাইটিস—এই রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া আধুনিক জীবনযাত্রায় দীর্ঘ সময় কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যবহারের কারণে তরুণদের মধ্যেও এই সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে বলে চিকিৎসকরা মনে করছেন।
পারিবারিক ও এলাকাবাসীর মন্তব্য
রোগে আক্রান্ত এক ভুক্তভোগী জানান, “প্রথমে সামান্য ঘাড়ব্যথা ছিল। পরে ধীরে ধীরে হাত পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে এবং হাত অবশ হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়।” আরেকজন রোগী বলেন, “দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করার কারণে সমস্যাটি আরও বেড়ে যায়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে ফিজিওথেরাপি নেওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি।”
আসামি ও প্রশাসনের বক্তব্য
চিকিৎসকদের মতে, সার্ভিক্যাল স্পনডাইলোসিসের চিকিৎসায় প্রথম ধাপ হলো রোগীকে সঠিক ধারণা দেওয়া এবং জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা। চিকিৎসায় ব্যথানাশক ওষুধ (NSAID), মাংসপেশি শিথিলকারী ওষুধ, ভিটামিন বি১, বি৬ ও বি১২ এবং প্রয়োজনে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট দেওয়া হতে পারে। ফিজিওথেরাপি এই রোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ব্যায়াম, ইলেক্ট্রোথেরাপি এবং সার্ভিক্যাল ট্র্যাকশনের মাধ্যমে ব্যথা ও স্নায়ুর ওপর চাপ কমানো সম্ভব বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
উপসংহার
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক ভঙ্গিতে কাজ করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে সার্ভিক্যাল স্পনডাইলোসিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে ওষুধে কাজ না করলে, স্নায়ুর ওপর গুরুতর চাপ পড়লে বা হাঁটা-চলা ও দৈনন্দিন কাজে সমস্যা দেখা দিলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। তারা বলেন, ঘাড়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা হাত অবশ হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
Reporter Name 















