Dhaka 4:33 pm, Friday, 17 April 2026
[gtranslate]
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা জোরদারে ইউরোপের উদ্যোগ, মিত্রদের একত্র করছেন ম্যাক্রোঁ-স্টারমার Logo রসমালাইয়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রী হত্যা, লাশের অঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে নদীতে নিক্ষেপ Logo আটতলা থেকে লিফটের গর্তে ফেলে কলেজছাত্রকে হত্যা: চট্টগ্রামে চাঞ্চল্য Logo সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩২: সংসদে বিল পাস Logo ভাইরাল তাজুর মিলিয়ন ফলোয়ার ফেসবুক পেজ হঠাৎ উধাও, কান্নায় ভেঙে পড়লেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর Logo কুমিল্লার পাঁচপুকুরিয়া গ্রামে এখনো নেই প্রাথমিক বিদ্যালয়, বঞ্চিত শিশুরা Logo রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে এশিয়ান গেমস হকি বাছাই শুরু বাংলাদেশের Logo দশজনের আতলেতিকোকে হারিয়ে শীর্ষে বড় পা বার্সেলোনার Logo সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩২: সংসদে বিল পাস Logo ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে বিসিবির উদ্যোগ
সাব-হেডলাইন: জেনেভায় শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শ্রম অধিকার উন্নয়নে সহায়তার প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার

বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আইএলওর সহযোগিতার আশ্বাস

  • Reporter Name
  • Update Time : 05:32:10 pm, Sunday, 5 April 2026
  • 17 Time View

সাব-হেডলাইন:
জেনেভায় শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শ্রম অধিকার উন্নয়নে সহায়তার প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার

প্রারম্ভিকা:
বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শ্রম অধিকার উন্নয়নে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। জেনেভায় অনুষ্ঠিত ৩৫৬তম আইএলও গভর্নিং বডি সভায় অংশ নিতে গিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আশ্বাস দেন আইএলওর মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো।
বৈঠকে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ ও নারীর জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমমান উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় আইএলও মহাপরিচালক জানান, বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সংস্থাটি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

ঘটনার বিস্তারিত:
জেনেভায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইএলওর মহাপরিচালককে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।
মন্ত্রী আরও আশা প্রকাশ করেন, আইএলওর ঢাকা কার্যালয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। এর জবাবে আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান আইএলওর আর্টিকেল ২৬ সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন শ্রমমন্ত্রী। এ বিষয়ে বাংলাদেশের জেনেভাস্থ স্থায়ী মিশনের কূটনৈতিক তৎপরতার প্রশংসা করেন আইএলও মহাপরিচালক। তিনি বলেন, বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আইএলও গভর্নিং বডিতে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে বাংলাদেশ এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন পেয়েছে।

পটভূমি:
বাংলাদেশের শ্রম অধিকার ও শ্রমমান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আইএলওর বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা চলমান রয়েছে। বিশেষ করে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
এ প্রেক্ষাপটে আইএলওর সহযোগিতা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পারিবারিক ও এলাকাবাসীর মন্তব্য:
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, “সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার ও শ্রম অধিকার রক্ষায় কাজ করছে। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।”

আসামি ও প্রশাসনের বক্তব্য:
শ্রমমন্ত্রী বৈঠকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, বহুজাতিক কোম্পানি ও বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আইএলও মহাপরিচালকের সহায়তা কামনা করেন। তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমমান অনুযায়ী অধিকার প্রতিষ্ঠায় এসব প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
গিলবার্ট হোংবো এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম—যেমন স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা ও দুর্ঘটনা বিমা—বাস্তবায়নে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন।

উপসংহার:
বৈঠকে আগামী জুন মাসে আইএলও মহাপরিচালকের বাংলাদেশ সফরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান শ্রমমন্ত্রী। এছাড়া জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবদুস সামাদ আজাদও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সহযোগিতা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শ্রম অধিকার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

uzzal alo

জনপ্রিয়

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা জোরদারে ইউরোপের উদ্যোগ, মিত্রদের একত্র করছেন ম্যাক্রোঁ-স্টারমার

সাব-হেডলাইন: জেনেভায় শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শ্রম অধিকার উন্নয়নে সহায়তার প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার

বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আইএলওর সহযোগিতার আশ্বাস

Update Time : 05:32:10 pm, Sunday, 5 April 2026

সাব-হেডলাইন:
জেনেভায় শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শ্রম অধিকার উন্নয়নে সহায়তার প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার

প্রারম্ভিকা:
বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শ্রম অধিকার উন্নয়নে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। জেনেভায় অনুষ্ঠিত ৩৫৬তম আইএলও গভর্নিং বডি সভায় অংশ নিতে গিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আশ্বাস দেন আইএলওর মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো।
বৈঠকে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ ও নারীর জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমমান উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় আইএলও মহাপরিচালক জানান, বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সংস্থাটি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

ঘটনার বিস্তারিত:
জেনেভায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইএলওর মহাপরিচালককে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।
মন্ত্রী আরও আশা প্রকাশ করেন, আইএলওর ঢাকা কার্যালয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। এর জবাবে আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান আইএলওর আর্টিকেল ২৬ সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন শ্রমমন্ত্রী। এ বিষয়ে বাংলাদেশের জেনেভাস্থ স্থায়ী মিশনের কূটনৈতিক তৎপরতার প্রশংসা করেন আইএলও মহাপরিচালক। তিনি বলেন, বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আইএলও গভর্নিং বডিতে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে বাংলাদেশ এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন পেয়েছে।

পটভূমি:
বাংলাদেশের শ্রম অধিকার ও শ্রমমান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আইএলওর বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা চলমান রয়েছে। বিশেষ করে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
এ প্রেক্ষাপটে আইএলওর সহযোগিতা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পারিবারিক ও এলাকাবাসীর মন্তব্য:
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, “সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার ও শ্রম অধিকার রক্ষায় কাজ করছে। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।”

আসামি ও প্রশাসনের বক্তব্য:
শ্রমমন্ত্রী বৈঠকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, বহুজাতিক কোম্পানি ও বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আইএলও মহাপরিচালকের সহায়তা কামনা করেন। তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমমান অনুযায়ী অধিকার প্রতিষ্ঠায় এসব প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
গিলবার্ট হোংবো এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম—যেমন স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা ও দুর্ঘটনা বিমা—বাস্তবায়নে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন।

উপসংহার:
বৈঠকে আগামী জুন মাসে আইএলও মহাপরিচালকের বাংলাদেশ সফরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান শ্রমমন্ত্রী। এছাড়া জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবদুস সামাদ আজাদও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সহযোগিতা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শ্রম অধিকার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।