ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর আইইডি, নিষ্ক্রিয় করল বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল রবিবার সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়বেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ধামরাইয়ে জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা, হাজারো ভক্তের সমাগম ধামরাইয়ে জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা, হাজারো ভক্তের সমাগম আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে: আইনমন্ত্রী খাওয়ার পর ঘুম পায় কেন? জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও গবেষণার তথ্য মোজাফফরকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ, দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে যে দুই সমীকরণ জাপান ও সৌদি আরব সফরের প্রস্তুতি, চলতি বছরে ভারত সফরের সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেশের ১৭ জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৫, আহত শতাধিক; অধিকাংশ দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও মোটরসাইকেল।

ঈদে সড়কে মৃত্যু মিছিল: ৩৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ৩৫ জনের

  • উজ্জ্বল আলো
  • Update Time : ০৪:৩২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
  • ১২৫ Time View
৬৫

সাব-হেডলাইন.

দেশের ১৭ জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৫, আহত শতাধিক; অধিকাংশ দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও মোটরসাইকেল।

প্রারম্ভিকা                                                                                                        পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন শনিবার সকাল ৮টা থেকে ঈদের পরদিন রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ঢাকা, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, ফেনী, ময়মনসিংহ, নাটোর, চট্টগ্রাম, ঝিনাইদহ, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজার, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরসহ মোট ১৭ জেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাস, ট্রেন, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা জড়িত ছিল

ঘটনার বিস্তারিত                                                                                                     রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর জুরাইনে একটি লেগুনা ও মিনিবাসের সংঘর্ষে আজিজুল ইসলাম (৫৮) ও সাইফুল ইসলাম (৫৫) নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটে কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায়। লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রেলগেট নামানো ছিল না। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে টেনে জাঙ্গালিয়া স্টেশন পর্যন্ত নিয়ে যায়।ফেনীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। এছাড়া ঝিনাইদহ, নাটোর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও নড়াইলসহ বিভিন্ন জেলায় পৃথক দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন নিহত হন। অধিকাংশ ঘটনায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানো বা মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে।

পটভূমি
ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের চাপ ও অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে মহাসড়কে বেপরোয়া গতি, চালকদের অসতর্কতা এবং ট্রাফিক নিয়ম না মানার কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎসবকেন্দ্রিক বাড়তি যাত্রী পরিবহনের চাপ, অতিরিক্ত সময় ধরে গাড়ি চালানো এবং যানজটের মধ্যে দ্রুত চলার প্রতিযোগিতাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

পারিবারিক ও এলাকাবাসীর মন্তব্য
নিহতদের স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম বিরাজ করছে। কুমিল্লার এক নিহত যাত্রীর স্বজন বলেন, “ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে। একটি অবহেলাই এতগুলো পরিবারকে নিঃস্ব করে দিল।”স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “ঈদের সময় মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণহীন যান চলাচল দেখা যায়। অনেক চালকই নিয়ম মানেন না”

আসামি ও প্রশাসনের বক্তব্য
বিভিন্ন জেলার পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা বলেন, “দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।” ফেনীর মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি আসাদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উপসংহার
ঈদের ছুটির সময় দেশের বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং চালকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। দুর্ঘটনাগুলোর বিষয়ে পৃথকভাবে তদন্ত চলমান রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Uzzal Alo

জনপ্রিয়

মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর আইইডি, নিষ্ক্রিয় করল বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল

দেশের ১৭ জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৫, আহত শতাধিক; অধিকাংশ দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও মোটরসাইকেল।

ঈদে সড়কে মৃত্যু মিছিল: ৩৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ৩৫ জনের

Update Time : ০৪:৩২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
৬৫

সাব-হেডলাইন.

দেশের ১৭ জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৫, আহত শতাধিক; অধিকাংশ দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও মোটরসাইকেল।

প্রারম্ভিকা                                                                                                        পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন শনিবার সকাল ৮টা থেকে ঈদের পরদিন রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ঢাকা, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, ফেনী, ময়মনসিংহ, নাটোর, চট্টগ্রাম, ঝিনাইদহ, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজার, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরসহ মোট ১৭ জেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাস, ট্রেন, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা জড়িত ছিল

ঘটনার বিস্তারিত                                                                                                     রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর জুরাইনে একটি লেগুনা ও মিনিবাসের সংঘর্ষে আজিজুল ইসলাম (৫৮) ও সাইফুল ইসলাম (৫৫) নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটে কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায়। লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রেলগেট নামানো ছিল না। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে টেনে জাঙ্গালিয়া স্টেশন পর্যন্ত নিয়ে যায়।ফেনীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। এছাড়া ঝিনাইদহ, নাটোর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও নড়াইলসহ বিভিন্ন জেলায় পৃথক দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন নিহত হন। অধিকাংশ ঘটনায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানো বা মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে।

পটভূমি
ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের চাপ ও অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে মহাসড়কে বেপরোয়া গতি, চালকদের অসতর্কতা এবং ট্রাফিক নিয়ম না মানার কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎসবকেন্দ্রিক বাড়তি যাত্রী পরিবহনের চাপ, অতিরিক্ত সময় ধরে গাড়ি চালানো এবং যানজটের মধ্যে দ্রুত চলার প্রতিযোগিতাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

পারিবারিক ও এলাকাবাসীর মন্তব্য
নিহতদের স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম বিরাজ করছে। কুমিল্লার এক নিহত যাত্রীর স্বজন বলেন, “ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে। একটি অবহেলাই এতগুলো পরিবারকে নিঃস্ব করে দিল।”স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “ঈদের সময় মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণহীন যান চলাচল দেখা যায়। অনেক চালকই নিয়ম মানেন না”

আসামি ও প্রশাসনের বক্তব্য
বিভিন্ন জেলার পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা বলেন, “দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।” ফেনীর মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি আসাদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উপসংহার
ঈদের ছুটির সময় দেশের বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং চালকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। দুর্ঘটনাগুলোর বিষয়ে পৃথকভাবে তদন্ত চলমান রয়েছে।