পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের লক্ষ্যে বান্দরবান রিজিয়নের উদ্যোগে আলীকদমে ম্রো সম্প্রদায়ের জন্য বিনামূল্যে ড্রাইভিং ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ম্রো কমপ্লেক্স ছাত্রাবাসে আয়োজিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বান্দরবান রিজিয়নের কমান্ডার ও ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম রাকিব ইবনে রেজওয়ান, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।
আলীকদম সেনা জোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং মোরুং কল্যাণ ছাত্রাবাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মোঃ আবুল হাসান পলাশ, পিএসসি, আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, ম্রো কমপ্লেক্সের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীসহ আনুমানিক দুই থেকে তিন শতাধিক অতিথি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম রাকিব ইবনে রেজওয়ান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, পার্বত্য অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ম্রো সম্প্রদায়ের যুবসমাজ আধুনিক ও কর্মমুখী দক্ষতা অর্জন করে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্ব বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে যুগোপযোগী কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার বিকল্প নেই। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়ন বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা জানান, বিনামূল্যে ড্রাইভিং ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ তাদের জন্য একটি আশীর্বাদস্বরূপ উদ্যোগ। তারা এই মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিশেষভাবে বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ও আলীকদম সেনা জোনকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, পার্বত্য আলীকদমে ম্রো সম্প্রদায়ের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিশেষ করে আলীকদম জোন ও বান্দরবান রিজিয়ন নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ম্রো কমপ্লেক্স ছাত্রাবাসে ম্রো সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য, আবাসন ও শিক্ষা সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে বিগত কয়েক বছরে এ সম্প্রদায়ের বহু শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছে এবং বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে নিজেদের পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এছাড়াও আলীকদম জোনের উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ি পাড়াসমূহে সুপেয় পানির সংকট নিরসন, স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান, শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানামুখী মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
Reporter Name 
















