শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা চারটি ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে এসব ইটভাটাকে মোট ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ সকল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শ্রীবরদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন শেরপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী রিজওয়ানুল হক।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ঝগড়াচর এলাকার এমএস জিগজ্যাক ব্রিকস-কে ৪ লাখ টাকা, কন্টিপাড়া এলাকার এবিএম অটো ব্রিকস-কে ৪ লাখ টাকা, শ্রীবরদী পৌর সদরের পোড়াগড় এলাকার পিনাকী অ্যান্ড কোং-কে ৪ লাখ টাকা এবং পশ্চিম ঝিনিয়া এলাকার সততা জিগজ্যাগ অটো ব্রিকস-কে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট ইটভাটাগুলোর পরিবেশগত ছাড়পত্র, লাইসেন্স ও আইনগত অনুমোদনের ঘাটতি পাওয়া যায়। এতে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলায় তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আদায়সহ ইটভাটাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং সকল ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, শেরপুর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক সুশীল কুমার দাস। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তর শেরপুর জেলা কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড শেরপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি শেরপুরের প্রতিনিধিরা। এছাড়া শেরপুর পুলিশ লাইন্স ও শ্রীবরদী থানার পুলিশ সদস্যবৃন্দ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অভিযান বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী রিজওয়ানুল হক জানান, “পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো অবৈধ ইটভাটা পরিচালনার সুযোগ নেই। জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।”
স্থানীয় পরিবেশবাদীরা এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, অবৈধ ইটভাটার কারণে কৃষিজমি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। প্রশাসনের এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
স্টাফ রিপোর্টার 
















