ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর আইইডি, নিষ্ক্রিয় করল বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল রবিবার সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়বেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ধামরাইয়ে জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা, হাজারো ভক্তের সমাগম ধামরাইয়ে জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা, হাজারো ভক্তের সমাগম আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে: আইনমন্ত্রী খাওয়ার পর ঘুম পায় কেন? জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও গবেষণার তথ্য মোজাফফরকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ, দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে যে দুই সমীকরণ জাপান ও সৌদি আরব সফরের প্রস্তুতি, চলতি বছরে ভারত সফরের সম্ভাবনা ক্ষীণ

অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার দাপট, অ্যাশেজ ধরে রাখার পথে একপ্রকার নিশ্চিত স্বাগতিকরা

  • উজ্জ্বল আলো
  • Update Time : ০৮:৫৪:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১৯ Time View
৪৬

অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার দাপট, অ্যাশেজ ধরে রাখার পথে একপ্রকার নিশ্চিত স্বাগতিকরা

————————————————————————————-

অ্যাডিলেড ওভালে তৃতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার নির্দয় ও নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে অ্যাশেজ সিরিজ আরও দুই বছরের জন্য ধরে রাখার পথে প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে স্বাগতিকরা। বিশাল ৪৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়নের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে সফরকারীরা।
চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য তখনও প্রয়োজন ছিল ২০০ রানের বেশি, হাতে ছিল মাত্র চারটি উইকেট। রোববার শেষ দিনে নীচের সারির ব্যাটারদের কাছ থেকে অলৌকিক কিছু না ঘটলে মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই অ্যাশেজ হারাতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড—এমন বাস্তবতাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে জ্যাক ক্রলি খেলেন লড়াকু ৮৫ রানের ইনিংস। ইনিংসটি ম্যাচে ইংল্যান্ডের একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি হলেও সেটিকে শতকে রূপ দিতে ব্যর্থ হন তিনি। শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে চাপ তৈরি করেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল জো রুটকে আউট করা—টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৩তমবারের মতো রুট কামিন্সের শিকার হন।
চা-বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে নেয় অস্ট্রেলিয়া। নাথান লায়ন শেষ সেশনে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডের প্রতিরোধ ভেঙে দেন। হ্যারি ব্রুক কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও লায়নের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন। এরপর একই বোলারের হাতে টেস্ট ক্যারিয়ারে ১০মবারের মতো আউট হন ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস।
চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আগ্রাসী ‘বাজবল’ দর্শন থেকে সরে এসে তুলনামূলক রক্ষণাত্মক কৌশল নেয় ইংল্যান্ড। তবে কামিন্স ও মিচেল স্টার্কের নিখুঁত লাইন-লেন্থে বারবার বিপাকে পড়েন ব্যাটাররা। বেন ডাকেট ও অলি পোপ দ্রুত ফিরে গেলে ক্রলি ও রুট ৭৮ রানের একটি জুটি গড়েন। কিন্তু সেটিও বেশি দূর টানতে পারেননি তারা।
এর আগে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্যের ভিত্তি গড়ে দেন ট্রাভিস হেড। প্রথম ইনিংসে তার ঝলমলে ১৭০ রানের ইনিংসে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় স্বাগতিকরা। তার সঙ্গে অ্যালেক্স কেয়ারির ৭২ রানের কার্যকর ইনিংস অস্ট্রেলিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ লিড এনে দেয়। যদিও চতুর্থ দিনের সকালে ইংল্যান্ড দ্রুত ছয় উইকেট তুলে নিয়ে লক্ষ্য কিছুটা কমানোর চেষ্টা করেছিল, তবু তা তখনও ছিল পাহাড়সম।
পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। হেড ও কেয়ারির ১৬২ রানের জুটিতে ইংল্যান্ডের সামনে কার্যত অসম্ভব লক্ষ্য ছুড়ে দেয় স্বাগতিকরা। শেষদিকে ইংল্যান্ড ৬ উইকেট ৩৮ রানে তুলে নিয়ে সামান্য স্বস্তি পেলেও ম্যাচের গতিপথ তখন আর বদলানোর মতো ছিল না।
দিন শেষে জেমি স্মিথ ও উইল জ্যাকস অপরাজিত থাকলেও ইংল্যান্ডের পরাজয় তখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। সব মিলিয়ে সিরিজে ৩–০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে অ্যাশেজ ধরে রাখার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে অস্ট্রেলিয়া। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ডের দীর্ঘদিনের জয়খরা আরও বাড়ার শঙ্কাই এখন বাস্তব হয়ে উঠেছে।
স্কোর সংক্ষেপ:
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস ২৮৬, ২য় ইনিংস ৬ উইকেটে ২০৭ (জ্যাক ক্রলি ৮৫; প্যাট কামিন্স ৩/২৪, নাথান লায়ন ৩/৬৪)।
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস ৩৭১, ২য় ইনিংস ৩৪৯ (ট্রাভিস হেড ১৭০, অ্যালেক্স কেয়ারি ৭২; জশ টাং ৪/৭০)।
জিততে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন আরও ২২৮ রান।
আপনি চাইলে এটিকে
প্রথম পাতার জন্য সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী লিডসহ,
অথবা অনলাইন পোর্টাল/লাইভ ব্লগ স্টাইলে
পুনর্লিখন করে দিতে পারি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Uzzal Alo

জনপ্রিয়

মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর আইইডি, নিষ্ক্রিয় করল বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল

অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার দাপট, অ্যাশেজ ধরে রাখার পথে একপ্রকার নিশ্চিত স্বাগতিকরা

Update Time : ০৮:৫৪:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
৪৬

অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার দাপট, অ্যাশেজ ধরে রাখার পথে একপ্রকার নিশ্চিত স্বাগতিকরা

————————————————————————————-

অ্যাডিলেড ওভালে তৃতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার নির্দয় ও নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে অ্যাশেজ সিরিজ আরও দুই বছরের জন্য ধরে রাখার পথে প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে স্বাগতিকরা। বিশাল ৪৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়নের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে সফরকারীরা।
চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য তখনও প্রয়োজন ছিল ২০০ রানের বেশি, হাতে ছিল মাত্র চারটি উইকেট। রোববার শেষ দিনে নীচের সারির ব্যাটারদের কাছ থেকে অলৌকিক কিছু না ঘটলে মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই অ্যাশেজ হারাতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড—এমন বাস্তবতাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে জ্যাক ক্রলি খেলেন লড়াকু ৮৫ রানের ইনিংস। ইনিংসটি ম্যাচে ইংল্যান্ডের একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি হলেও সেটিকে শতকে রূপ দিতে ব্যর্থ হন তিনি। শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে চাপ তৈরি করেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল জো রুটকে আউট করা—টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৩তমবারের মতো রুট কামিন্সের শিকার হন।
চা-বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে নেয় অস্ট্রেলিয়া। নাথান লায়ন শেষ সেশনে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডের প্রতিরোধ ভেঙে দেন। হ্যারি ব্রুক কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও লায়নের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন। এরপর একই বোলারের হাতে টেস্ট ক্যারিয়ারে ১০মবারের মতো আউট হন ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস।
চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আগ্রাসী ‘বাজবল’ দর্শন থেকে সরে এসে তুলনামূলক রক্ষণাত্মক কৌশল নেয় ইংল্যান্ড। তবে কামিন্স ও মিচেল স্টার্কের নিখুঁত লাইন-লেন্থে বারবার বিপাকে পড়েন ব্যাটাররা। বেন ডাকেট ও অলি পোপ দ্রুত ফিরে গেলে ক্রলি ও রুট ৭৮ রানের একটি জুটি গড়েন। কিন্তু সেটিও বেশি দূর টানতে পারেননি তারা।
এর আগে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্যের ভিত্তি গড়ে দেন ট্রাভিস হেড। প্রথম ইনিংসে তার ঝলমলে ১৭০ রানের ইনিংসে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় স্বাগতিকরা। তার সঙ্গে অ্যালেক্স কেয়ারির ৭২ রানের কার্যকর ইনিংস অস্ট্রেলিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ লিড এনে দেয়। যদিও চতুর্থ দিনের সকালে ইংল্যান্ড দ্রুত ছয় উইকেট তুলে নিয়ে লক্ষ্য কিছুটা কমানোর চেষ্টা করেছিল, তবু তা তখনও ছিল পাহাড়সম।
পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। হেড ও কেয়ারির ১৬২ রানের জুটিতে ইংল্যান্ডের সামনে কার্যত অসম্ভব লক্ষ্য ছুড়ে দেয় স্বাগতিকরা। শেষদিকে ইংল্যান্ড ৬ উইকেট ৩৮ রানে তুলে নিয়ে সামান্য স্বস্তি পেলেও ম্যাচের গতিপথ তখন আর বদলানোর মতো ছিল না।
দিন শেষে জেমি স্মিথ ও উইল জ্যাকস অপরাজিত থাকলেও ইংল্যান্ডের পরাজয় তখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। সব মিলিয়ে সিরিজে ৩–০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে অ্যাশেজ ধরে রাখার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে অস্ট্রেলিয়া। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ডের দীর্ঘদিনের জয়খরা আরও বাড়ার শঙ্কাই এখন বাস্তব হয়ে উঠেছে।
স্কোর সংক্ষেপ:
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস ২৮৬, ২য় ইনিংস ৬ উইকেটে ২০৭ (জ্যাক ক্রলি ৮৫; প্যাট কামিন্স ৩/২৪, নাথান লায়ন ৩/৬৪)।
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস ৩৭১, ২য় ইনিংস ৩৪৯ (ট্রাভিস হেড ১৭০, অ্যালেক্স কেয়ারি ৭২; জশ টাং ৪/৭০)।
জিততে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন আরও ২২৮ রান।
আপনি চাইলে এটিকে
প্রথম পাতার জন্য সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী লিডসহ,
অথবা অনলাইন পোর্টাল/লাইভ ব্লগ স্টাইলে
পুনর্লিখন করে দিতে পারি।