ঢাকা ০৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর আইইডি, নিষ্ক্রিয় করল বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল রবিবার সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়বেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ধামরাইয়ে জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা, হাজারো ভক্তের সমাগম ধামরাইয়ে জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা, হাজারো ভক্তের সমাগম আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে: আইনমন্ত্রী খাওয়ার পর ঘুম পায় কেন? জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও গবেষণার তথ্য মোজাফফরকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ, দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে যে দুই সমীকরণ জাপান ও সৌদি আরব সফরের প্রস্তুতি, চলতি বছরে ভারত সফরের সম্ভাবনা ক্ষীণ

মব কালচারে জিরো টলারেন্স: ‘যেখানেই মব হবে, সেখানেই অ্যাকশন’—ডিএমপি কমিশনার

৫২

🔷 প্রারম্ভিকা:

ঢাকা, ২০ মে ২০২৬: রাজধানীতে মব কালচার, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, “যেখানেই মব হবে, সেখানেই অ্যাকশনে যাবে পুলিশ।”

বুধবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ঈদ নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলা নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

🔷 ঘটনার বিস্তারিত:

ডিএমপি কমিশনার জানান, রাজধানীতে চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী, মাদককারবারি, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানান, চলমান বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ২০৬ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা প্রস্তুত করে গ্যাং লিডারদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। থানাগুলোকে জনবান্ধব ও সেবামুখী করতে দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

🔷 ঘটনার উক্তি:

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “ছিনতাই এবং যে কোনো ধরনের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “থানা হবে জনবান্ধব, সেবাবান্ধব। থানায় কোনো দালালের অস্তিত্ব থাকবে না।”

ঈদ নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বাড়তি নজরদারি থাকবে।”

🔷 পটভূমি:

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে মব সৃষ্টি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ বাড়তে থাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চাপও বৃদ্ধি পায়।

বিশেষ করে অনলাইন জুয়া, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে।

🔷 পারিবারিক মন্তব্য:

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজধানীর এক বাসিন্দা শাহীন আহমেদের পরিবার জানায়, “রাস্তাঘাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে। পুলিশের অভিযান যেন ধারাবাহিকভাবে চলে, সেটাই আমরা চাই।”

🔷 এলাকাবাসীর মন্তব্য:

মুগদা এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, “কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের কারণে অনেক এলাকায় আতঙ্ক আছে। পুলিশ যদি নিয়মিত অভিযান চালায়, তাহলে পরিস্থিতি উন্নতি হবে।”

আরেক বাসিন্দা রোকসানা বেগম বলেন, “ঈদের সময় ফাঁকা ঢাকায় চুরি-ডাকাতির ভয় থাকে। নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ ইতিবাচক।”

🔷 আসামি পক্ষের বক্তব্য:

ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের শনাক্ত করে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং পলাতকদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

🔷 প্রশাসনের বক্তব্য:

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “নিরাপদ নগরী গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ঈদে বাড়তি ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

🔷 উপসংহার:

রাজধানীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মব কালচার দমন এবং চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে ডিএমপি। বিশেষ অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে নিরাপদ নগরী গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। বর্তমানে চলমান অভিযানের পাশাপাশি ঈদকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Uzzal Alo

জনপ্রিয়

মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর আইইডি, নিষ্ক্রিয় করল বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল

মব কালচারে জিরো টলারেন্স: ‘যেখানেই মব হবে, সেখানেই অ্যাকশন’—ডিএমপি কমিশনার

Update Time : ০৮:৩৮:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
৫২

🔷 প্রারম্ভিকা:

ঢাকা, ২০ মে ২০২৬: রাজধানীতে মব কালচার, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, “যেখানেই মব হবে, সেখানেই অ্যাকশনে যাবে পুলিশ।”

বুধবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ঈদ নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলা নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

🔷 ঘটনার বিস্তারিত:

ডিএমপি কমিশনার জানান, রাজধানীতে চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী, মাদককারবারি, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানান, চলমান বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ২০৬ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা প্রস্তুত করে গ্যাং লিডারদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। থানাগুলোকে জনবান্ধব ও সেবামুখী করতে দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

🔷 ঘটনার উক্তি:

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “ছিনতাই এবং যে কোনো ধরনের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “থানা হবে জনবান্ধব, সেবাবান্ধব। থানায় কোনো দালালের অস্তিত্ব থাকবে না।”

ঈদ নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বাড়তি নজরদারি থাকবে।”

🔷 পটভূমি:

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে মব সৃষ্টি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ বাড়তে থাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চাপও বৃদ্ধি পায়।

বিশেষ করে অনলাইন জুয়া, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে।

🔷 পারিবারিক মন্তব্য:

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজধানীর এক বাসিন্দা শাহীন আহমেদের পরিবার জানায়, “রাস্তাঘাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে। পুলিশের অভিযান যেন ধারাবাহিকভাবে চলে, সেটাই আমরা চাই।”

🔷 এলাকাবাসীর মন্তব্য:

মুগদা এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, “কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের কারণে অনেক এলাকায় আতঙ্ক আছে। পুলিশ যদি নিয়মিত অভিযান চালায়, তাহলে পরিস্থিতি উন্নতি হবে।”

আরেক বাসিন্দা রোকসানা বেগম বলেন, “ঈদের সময় ফাঁকা ঢাকায় চুরি-ডাকাতির ভয় থাকে। নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ ইতিবাচক।”

🔷 আসামি পক্ষের বক্তব্য:

ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের শনাক্ত করে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং পলাতকদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

🔷 প্রশাসনের বক্তব্য:

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “নিরাপদ নগরী গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ঈদে বাড়তি ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

🔷 উপসংহার:

রাজধানীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মব কালচার দমন এবং চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে ডিএমপি। বিশেষ অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে নিরাপদ নগরী গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। বর্তমানে চলমান অভিযানের পাশাপাশি ঈদকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।