ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর আইইডি, নিষ্ক্রিয় করল বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল রবিবার সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়বেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ধামরাইয়ে জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা, হাজারো ভক্তের সমাগম ধামরাইয়ে জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা, হাজারো ভক্তের সমাগম আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে: আইনমন্ত্রী খাওয়ার পর ঘুম পায় কেন? জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও গবেষণার তথ্য মোজাফফরকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ, দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে যে দুই সমীকরণ জাপান ও সৌদি আরব সফরের প্রস্তুতি, চলতি বছরে ভারত সফরের সম্ভাবনা ক্ষীণ
বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক পরিবার কোরবানি স্থগিত রেখেছে। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতে কাজ করছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

ঝড়ে বিদ্যুৎহীন মাদারীপুর, কোরবানি স্থগিত অনেক পরিবারের

১০০

সাব-হেডিং:

বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক পরিবার কোরবানি স্থগিত রেখেছে। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতে কাজ করছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

প্রারম্ভিকা:

মাদারীপুর, ২৮ মে ২০২৬: তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টিতে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঈদের দিনেও উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। গত বুধবার সকাল ৮টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে এবং মূল লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে। ফলে পুরো উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় কোরবানির মাংস সংরক্ষণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত:

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের সময় শিবচরের বিভিন্ন ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায় এবং খুঁটি হেলে পড়ে। এতে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ঝড়ের প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পার হলেও অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। পৌরসভা এলাকা ও আশপাশের কয়েকটি স্থানে সীমিত আকারে সংযোগ চালু করা গেলেও অধিকাংশ গ্রামীণ এলাকা এখনো বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজ ও কোল্ড স্টোরেজ বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে কোরবানির মাংস সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে উপজেলার কয়েকটি এলাকায় অনেক পরিবার কোরবানি স্থগিত রেখেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার উক্তি:

শিবচরের সাহেবেরহাট এলাকার বাসিন্দা রেজাউল হাওলাদার বলেন, “ঝড়ে বাড়ির সামনে গাছ ভেঙে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে যায়। নিজ খরচে গাছ কেটে সরালেও এখনো বিদ্যুতের লোকজন আসেননি।”আরেক বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, “ঈদের দিনে বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছি মাংস সংরক্ষণ নিয়ে। ছোট বাচ্চা ও বৃদ্ধদেরও কষ্ট হচ্ছে।”

পটভূমি:

প্রতি বছর কালবৈশাখী মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ক্ষতি হলেও গ্রামীণ এলাকায় দ্রুত মেরামত কার্যক্রম না হওয়ায় ভোগান্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিবচরের কিছু এলাকায় পুরোনো বিদ্যুৎ লাইন ও দুর্বল খুঁটির কারণে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেড়েছে।

পারিবারিক মন্তব্য:

স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় তারা কোরবানির সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়েছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলে মাংস নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
এক গৃহিণী বলেন, “ফ্রিজ বন্ধ থাকলে এত মাংস রাখা সম্ভব নয়। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছি।”

এলাকাবাসীর মন্তব্য:

এলাকাবাসী দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, দুর্যোগের পর জরুরি সেবার গতি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানপাটেও সমস্যা হচ্ছে। মোবাইল চার্জ থেকে শুরু করে বরফ সংরক্ষণ—সব কিছুতে সংকট তৈরি হয়েছে।”

আসামি পক্ষের বক্তব্য:

এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত দুর্ঘটনা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

প্রশাসনের বক্তব্য:

মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন শিবচর জোনাল অফিসের ডিজিএম অভিলাষ চন্দ্র পাল বলেন, “প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির কারণে বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতে আমাদের কর্মীরা কাজ করছেন। পুরো সংযোগ চালু করতে কিছুটা সময় লাগবে।”
তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হচ্ছে।

উপসংহার:

ঈদের দিনে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় শিবচরের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে কোরবানির মাংস সংরক্ষণ সংকট স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ দ্রুত সংযোগ পুনরুদ্ধারে কাজ চালিয়ে গেলেও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Uzzal Alo

জনপ্রিয়

মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর আইইডি, নিষ্ক্রিয় করল বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল

বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক পরিবার কোরবানি স্থগিত রেখেছে। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতে কাজ করছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

ঝড়ে বিদ্যুৎহীন মাদারীপুর, কোরবানি স্থগিত অনেক পরিবারের

Update Time : ০১:৫০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
১০০

সাব-হেডিং:

বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক পরিবার কোরবানি স্থগিত রেখেছে। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতে কাজ করছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

প্রারম্ভিকা:

মাদারীপুর, ২৮ মে ২০২৬: তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টিতে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঈদের দিনেও উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। গত বুধবার সকাল ৮টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে এবং মূল লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে। ফলে পুরো উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় কোরবানির মাংস সংরক্ষণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত:

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের সময় শিবচরের বিভিন্ন ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায় এবং খুঁটি হেলে পড়ে। এতে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ঝড়ের প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পার হলেও অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। পৌরসভা এলাকা ও আশপাশের কয়েকটি স্থানে সীমিত আকারে সংযোগ চালু করা গেলেও অধিকাংশ গ্রামীণ এলাকা এখনো বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজ ও কোল্ড স্টোরেজ বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে কোরবানির মাংস সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে উপজেলার কয়েকটি এলাকায় অনেক পরিবার কোরবানি স্থগিত রেখেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার উক্তি:

শিবচরের সাহেবেরহাট এলাকার বাসিন্দা রেজাউল হাওলাদার বলেন, “ঝড়ে বাড়ির সামনে গাছ ভেঙে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে যায়। নিজ খরচে গাছ কেটে সরালেও এখনো বিদ্যুতের লোকজন আসেননি।”আরেক বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, “ঈদের দিনে বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছি মাংস সংরক্ষণ নিয়ে। ছোট বাচ্চা ও বৃদ্ধদেরও কষ্ট হচ্ছে।”

পটভূমি:

প্রতি বছর কালবৈশাখী মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ক্ষতি হলেও গ্রামীণ এলাকায় দ্রুত মেরামত কার্যক্রম না হওয়ায় ভোগান্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিবচরের কিছু এলাকায় পুরোনো বিদ্যুৎ লাইন ও দুর্বল খুঁটির কারণে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেড়েছে।

পারিবারিক মন্তব্য:

স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় তারা কোরবানির সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়েছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলে মাংস নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
এক গৃহিণী বলেন, “ফ্রিজ বন্ধ থাকলে এত মাংস রাখা সম্ভব নয়। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছি।”

এলাকাবাসীর মন্তব্য:

এলাকাবাসী দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, দুর্যোগের পর জরুরি সেবার গতি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানপাটেও সমস্যা হচ্ছে। মোবাইল চার্জ থেকে শুরু করে বরফ সংরক্ষণ—সব কিছুতে সংকট তৈরি হয়েছে।”

আসামি পক্ষের বক্তব্য:

এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত দুর্ঘটনা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

প্রশাসনের বক্তব্য:

মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন শিবচর জোনাল অফিসের ডিজিএম অভিলাষ চন্দ্র পাল বলেন, “প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির কারণে বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতে আমাদের কর্মীরা কাজ করছেন। পুরো সংযোগ চালু করতে কিছুটা সময় লাগবে।”
তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হচ্ছে।

উপসংহার:

ঈদের দিনে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় শিবচরের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে কোরবানির মাংস সংরক্ষণ সংকট স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ দ্রুত সংযোগ পুনরুদ্ধারে কাজ চালিয়ে গেলেও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।