ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর আইইডি, নিষ্ক্রিয় করল বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল রবিবার সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়বেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ধামরাইয়ে জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা, হাজারো ভক্তের সমাগম ধামরাইয়ে জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা, হাজারো ভক্তের সমাগম আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে: আইনমন্ত্রী খাওয়ার পর ঘুম পায় কেন? জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও গবেষণার তথ্য মোজাফফরকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ, দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে যে দুই সমীকরণ জাপান ও সৌদি আরব সফরের প্রস্তুতি, চলতি বছরে ভারত সফরের সম্ভাবনা ক্ষীণ
হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় রাষ্ট্রীয় দায় নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে জনস্বার্থে রিট দায়ের।

হামে মৃত ৩৫২ শিশুর পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

১২৯

🔶 সাব-হেডিং:

হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় রাষ্ট্রীয় দায় নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে জনস্বার্থে রিট দায়ের।

🔷 প্রারম্ভিকা:

ঢাকা, ১০ মে ২০২৬: দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৫২ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিটি পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবীর পল্লব জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।

রিটে স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৫০ ছাড়িয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার শিশু।

🔷 ঘটনার বিস্তারিত:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ২৯ হাজারের বেশি শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনও হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।

সরকার চলমান টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দিয়েছে। এটি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় রাষ্ট্রের দায় ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

🔷 ঘটনার উক্তি:

রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবীর পল্লব বলেন,
“শিশুদের জীবন রক্ষায় রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে। যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ায় এত বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা, তা আদালতের মাধ্যমে পর্যালোচনা হওয়া প্রয়োজন।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা চলছে।”

🔷 পটভূমি:

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদানে অনীহা, সচেতনতার অভাব এবং কিছু অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া কিছু এলাকায় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

🔷 পারিবারিক মন্তব্য:

এক শিশুর অভিভাবক বলেন,
“আমরা সময়মতো চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। এখন আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই।”
আরেক অভিভাবক বলেন,
“গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হলে হয়তো আমাদের সন্তানকে বাঁচানো যেত।”

🔷 এলাকাবাসীর মন্তব্য:

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অনেক এলাকায় এখনও টিকা নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। তারা স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এক বাসিন্দা বলেন,
“সরকারি প্রচারণা আরও বাড়ানো দরকার। অনেক পরিবার এখনও টিকার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারে না।”

🔷 আসামি পক্ষের বক্তব্য:

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। রিটের বিবাদী পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও এখনও পাওয়া যায়নি।

🔷 প্রশাসনের বক্তব্য:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

🔷উ পসংহার:

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দায়ের হওয়া রিটের ওপর আদালতের সিদ্ধান্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে হাইকোর্টে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Uzzal Alo

জনপ্রিয়

মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর আইইডি, নিষ্ক্রিয় করল বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল

হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় রাষ্ট্রীয় দায় নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে জনস্বার্থে রিট দায়ের।

হামে মৃত ৩৫২ শিশুর পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

Update Time : ১১:৫৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
১২৯

🔶 সাব-হেডিং:

হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় রাষ্ট্রীয় দায় নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে জনস্বার্থে রিট দায়ের।

🔷 প্রারম্ভিকা:

ঢাকা, ১০ মে ২০২৬: দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৫২ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিটি পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবীর পল্লব জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।

রিটে স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৫০ ছাড়িয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার শিশু।

🔷 ঘটনার বিস্তারিত:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ২৯ হাজারের বেশি শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনও হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।

সরকার চলমান টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দিয়েছে। এটি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় রাষ্ট্রের দায় ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

🔷 ঘটনার উক্তি:

রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবীর পল্লব বলেন,
“শিশুদের জীবন রক্ষায় রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে। যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ায় এত বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা, তা আদালতের মাধ্যমে পর্যালোচনা হওয়া প্রয়োজন।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা চলছে।”

🔷 পটভূমি:

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদানে অনীহা, সচেতনতার অভাব এবং কিছু অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া কিছু এলাকায় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

🔷 পারিবারিক মন্তব্য:

এক শিশুর অভিভাবক বলেন,
“আমরা সময়মতো চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। এখন আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই।”
আরেক অভিভাবক বলেন,
“গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হলে হয়তো আমাদের সন্তানকে বাঁচানো যেত।”

🔷 এলাকাবাসীর মন্তব্য:

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অনেক এলাকায় এখনও টিকা নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। তারা স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এক বাসিন্দা বলেন,
“সরকারি প্রচারণা আরও বাড়ানো দরকার। অনেক পরিবার এখনও টিকার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারে না।”

🔷 আসামি পক্ষের বক্তব্য:

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। রিটের বিবাদী পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও এখনও পাওয়া যায়নি।

🔷 প্রশাসনের বক্তব্য:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

🔷উ পসংহার:

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দায়ের হওয়া রিটের ওপর আদালতের সিদ্ধান্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে হাইকোর্টে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।