প্রারম্ভিকা:
ঢাকা, বুধবার (সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা)। রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রী ওঠানামার সময় দুই লঞ্চের সংঘর্ষে ২২ বছর বয়সী সোহেল ফকির নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তার বাবা মিরাজ ফকির এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার রুবি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা-ভোলা (ইলিশা) রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চে যাত্রী ওঠানোর সময় ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট রুটের ‘জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চটি এসে ধাক্কা দেয়। হঠাৎ এই সংঘর্ষে টার্মিনালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
ঘটনার বিস্তারিত:
দুর্ঘটনার সময় লঞ্চে যাত্রী ওঠানামা চলছিল। হঠাৎ জোরালো ধাক্কায় যাত্রীরা ছিটকে পড়েন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, লঞ্চের সামনের আঘাতে কয়েকজন যাত্রী পিষ্ট হন। কেউ পানিতে পড়ে যান, আবার কেউ লঞ্চের বাইরের অংশে ঝুলে থাকেন।
তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সোহেল ফকিরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বাবা মিরাজ ফকির এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, সোহেলের স্ত্রী রুবি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও গর্ভের সন্তানের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল।
পটভূমি:
নৌপথে দুর্ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও একই রুটে ‘জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। গত ডিসেম্বরেও একটি দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয় এবং লঞ্চটির রুট পারমিট সাময়িক স্থগিত করা হয়েছিল। পরে তা আবার চালু করা হয়।
প্রতিবারই দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন ও নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পারিবারিক ও এলাকাবাসীর মন্তব্য:
নিহত সোহেলের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে। পরিবারের সদস্যরা এই দুর্ঘটনায় শোকাহত। স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন,
“একই পরিবারের তিনজন মানুষ একসঙ্গে দুর্ঘটনার শিকার—এটা ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে।”
আরেকজন এলাকাবাসী বলেন,
“এই ধরনের অব্যবস্থাপনার কারণে বারবার মানুষ মরছে। এর শেষ কোথায়?”
সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য:
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান সাংবাদিকদের বলেন, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং ঘটনার তদন্ত করা হবে। তিনি জানান, সন্তানের অবস্থা ভালো রয়েছে, তবে নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে।
লঞ্চ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপসংহার:
দুর্ঘটনার পর সদরঘাট এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিখোঁজ মিরাজ ফকিরকে উদ্ধারে তল্লাশি চলছে। একইসঙ্গে সংঘর্ষের কারণ জানতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তবে বারবার একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় একটি পরিবারের স্বপ্ন থেমে গেলেও, দায় নির্ধারণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে।
Reporter Name 
















