সংবাদ প্রতিবেদন
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার দেখানোর পর একই মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরণীর পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। আসামির পক্ষে আইনজীবী বাসুদেব গুহ জামিনের শুনানি করেন।
মামলার অভিযোগ
মামলার নথি অনুযায়ী, ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে গত ২৪ আগস্ট বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী ও ওবাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, মাহবুবুর রহমান ও ওবাইদুল ইসলাম কলেজের বন্ধু। তারা উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে বসবাস করেন। ওবাইদুল নিজেকে অনয় ডেভেলপার কোম্পানির মালিক হিসেবে পরিচয় দেন এবং খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় তার অফিস রয়েছে বলে জানান।
মাহবুব নিকুঞ্জ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারির মধ্যে তিনি ওবাইদুলকে ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা দেন। পরে ফ্ল্যাটের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে আরও ১৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে ওবাইদুল ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। টাকা ফেরত চাইলে তা দেওয়া হয়নি বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
হরিদাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মাহবুব পরে নিকুঞ্জে ওবাইদুলের অফিসে গেলে হরিদাস চন্দ্র তরণীকে তার ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে হরিদাস তাকে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হরিদাসের কথায় বিশ্বাস করে মাহবুব ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও ৪৫ লাখ টাকা দেন। দুই ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা নেওয়া হলেও তাদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
আগের মামলায় গ্রেপ্তার
এর আগে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত ১২ জুলাই সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি করেন। মামলার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ১৬ জুলাই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পটভূমি
হরিদাস চন্দ্র তরণী গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উঁচু রাম মূর্তি বা রাম বিগ্রহ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন। পরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসে।
অভিযুক্ত পক্ষ ও প্রশাসনের বক্তব্য
এই মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরণী বা অপর অভিযুক্ত ওবাইদুল ইসলামের বক্তব্য প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে নেই। একইভাবে তাদের বক্তব্যের বিষয়ে আদালতে বা পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো মন্তব্যও উল্লেখ করা হয়নি।
উপসংহার
ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরণীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশের পাশাপাশি তার জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলাটির তদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী এগোবে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত হরিদাস চন্দ্র তরণী ও ওবাইদুল ইসলামকে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

পার্থ মজুমদার | স্টাফ রিপোর্টার | উজ্জ্বল আলো বিট: আইন-আদালত 




















