সংবাদ প্রতিবেদন
প্রারম্ভিকা
রাজশাহী, ২৫ আগস্ট ২০২৬: প্রাথমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সেবা দেওয়ার বিপরীতে ন্যায্য ফি নিতে পারবে। তবে অতিরিক্ত ফি আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর পিটিআই সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
নতুন নীতিমালা প্রণয়ন
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষার নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি সব প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শিক্ষকদের জন্য খাতসংশ্লিষ্টদের পে-স্কেল তৈরির কাজও চলছে বলে জানান তিনি।
বিনামূল্যে পোশাক দেওয়ার পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বছরের মধ্যেই সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পোশাক দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান ববি হাজ্জাজ।
পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষার জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি।
সরাসরি মনিটরিং
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রকৃত উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি সরাসরি যাচাই করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রের সঙ্গে দাপ্তরিক প্রতিবেদনের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা হবে। কাগজে ভালো প্রতিবেদনের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিখনফলকে প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্যের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
দেশজুড়ে কর্মশালা
প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে দেশব্যাপী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
এ লক্ষ্যে দেশের আটটি বিভাগে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ময়মনসিংহ, বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে খুলনা, রংপুর ও ঢাকা বিভাগেও এসব কর্মশালা আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।
সংস্কারের বিভিন্ন দিক
ববি হাজ্জাজ বলেন, বিদ্যালয় মনিটরিং, শিক্ষক ও প্রশাসন ব্যবস্থাপনা, কারিকুলাম সংস্কার এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য বাথরুম, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ ও আসবাবসহ প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, দেশের সব ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বাস্তব শিখনফলে গুরুত্ব
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয়ের প্রকৃত অবস্থা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিখনফলকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ সংস্কার কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি জানান, প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরবর্তী ১৮০ দিনের কর্মসূচি এবং সরকারের পাঁচ বছরের অঙ্গীকার বাস্তবায়নেও প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য প্রত্যেক শিশু বিদ্যালয়ে থাকবে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থী সঠিক শিক্ষা পাবে।’
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন যারা
রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক শহীদুল ইসলাম।
কর্মশালায় রাজশাহী বিভাগের সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পটভূমি
প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় মনিটরিং, জবাবদিহিতা, প্রশাসনিক কাঠামো ও শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালার অংশ হিসেবে রাজশাহীতে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রাপ্ত তথ্যে কোনো নির্দিষ্ট বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ বা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়নি।
উপসংহার
প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে কার্যকর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা, শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিখনফল মূল্যায়ন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ফি আদায়ের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

উজ্জ্বল আলো 
























