প্রারম্ভিকা
সিলেট, ১৫ আগস্ট ২০২৬: দেশের গ্যাস সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ শেষ করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। শনিবার দুপুরে সিলেট নগরের ধোপাদিঘীরপার এলাকায় কৃষিবিষয়ক একটি কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে নতুন করে অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গ্যাস সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি
খন্দকার মুক্তাদির জানান, বর্তমানে দেশে মাটির নিচ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে দুটি এফএসআরইউ থেকে সর্বোচ্চ ৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে দেশে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র, মিল-কারখানা এবং নতুন শিল্প সংযোগের অপেক্ষমাণ চাহিদা বিবেচনায় এই সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম বলে জানান তিনি। এলএনজি আমদানি ও নতুন অবকাঠামো বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চাইলেই এলএনজি আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের পাশাপাশি সমুদ্র থেকে জাতীয় গ্রিড পর্যন্ত পানির নিচ দিয়ে পাইপলাইন স্থাপন করতে হয়। এসব অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তিনি জানান, গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে নতুন করে অনুসন্ধানের পাশাপাশি এলএনজি আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়েও কাজ চলছে।
বিকল্প সরবরাহের উদ্যোগ
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, অবকাঠামো নির্মাণের সময়ের মধ্যে একটি বিকল্প উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে বড় জাহাজে এলএনজি এনে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পেট্রোনাসের জাহাজগুলো বর্তমানে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকায় অতিরিক্ত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
গ্যাস সংকটের কারণ সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সংকট আগের সরকারের সময় থেকে পাওয়া। তবে সংকট সমাধানে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে। অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যান্য বক্তব্য ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
প্রাপ্ত তথ্যে এ বিষয়ে কোনো ভুক্তভোগী পরিবারের মন্তব্য, স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া বা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে গ্যাস সংকট নিয়ে কোনো নতুন তদন্ত বা আইনগত পদক্ষেপের তথ্যও জানানো হয়নি।
উপসংহার
দেশের গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নতুন অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি ও নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদে বিকল্প পদ্ধতিতে এলএনজি সরবরাহের চেষ্টা চলছে। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংকট পুরোপুরি কাটাতে সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

উজ্জ্বল আলো 























