ঢাকা ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খুলশীতে ৬৩ বিদেশি আটক, উদ্ধার ১৭০টি ডিভাইস ‘৬ মাসে সব কাজ শেষ করা সম্ভব নয়, বিরোধী দলের বুঝতে হবে’ রাজাপুর মডেল মসজিদে ৮ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই, বন্ধ অজুর পানি সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ বাব আল-মান্দেবে হুথিদের অগ্রযাত্রা, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে নতুন শঙ্কা দুই মন্ত্রীর পরিদর্শনে ওসমানী হাসপাতালে বদলে গেল পরিবেশ ঢাকা-১৭ আসনের ৩৮ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান খুলশীতে ৬৩ বিদেশি আটক, উদ্ধার ১৭০টি ডিভাইস টোকিওতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী ২ বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে ৪৬ শতাংশ
সর্বশেষ সংবাদ :
রাষ্ট্রপতির কাছে পোশাক খাতের সংকট ও ১১ দফা সুপারিশ বিজিএমইএর নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃত ৩৫৯, নিখোঁজ ৯১০ বিদায়ী বক্তব্যে বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল, সংসদ সদস্যদের ভোট চাইলেন ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৭ যাত্রাবাড়ীর জনসভায় গোলাম পরওয়ার: ‘জুলাইয়ের ইতিহাস ভুলতে বসেছে বিএনপি’ রবিবার সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়বেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে যে দুই সমীকরণ গুজবকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি শবনম ফারিয়ার, ‘স্ক্রিনশট-কল রেকর্ড প্রকাশ করে মামলা করব’ হারের বেদনাতেও বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত জাপানি সমর্থকেরা, স্টেডিয়াম পরিষ্কারে আবারও দৃষ্টান্ত আজ কী উপহার রেখেছেন মেসি

চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর লাশের পরিচয় শনাক্ত, হত্যার অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার

  • উজ্জ্বল আলো
  • Update Time : ১১:৫৩:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ৩৭ Time View
৪৪

সংবাদ প্রতিবেদন

চাঁদপুর | ৩ জুলাই ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার কলাকান্দা ও হানিরপাড় গ্রামের মাঝামাঝি একটি কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক ক্ষোভের জেরে মাকে হত্যার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মতলব উত্তর থানা-পুলিশ সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

ঘটনার বিস্তারিত

পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ পাওয়া সংবাদের ভিত্তিতে ছেংগারচর পৌরসভার কলাকান্দা ও হানিরপাড় গ্রামের মাঝামাঝি একটি কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি পচে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় এবং বন্য প্রাণীর আক্রমণে শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

পরে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে এবং মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ছেলে মো. জনিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী বা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মো. জনি জানান, ছোটবেলা থেকে পারিবারিক বিভিন্ন কারণে মায়ের প্রতি তার ক্ষোভ ছিল। তিনি ঢাকায় ফল বিক্রির কাজ করেন। গত ১৭ জুন তিনি মাকে ছেংগারচর বাজার থেকে অটোরিকশায় করে একটি কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে শ্বাসরোধে হত্যা করে প্রমাণ নষ্টের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন একটি পুকুরে ফেলে দেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পটভূমি

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় পুলিশ পরিচয় শনাক্ত করে এবং হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অগ্রগতি অর্জনের দাবি করে।

অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে। তবে আদালতে অভিযুক্ত বা তার আইনজীবীর কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগের বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনের বক্তব্য

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। পারিবারিক ক্ষোভের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

উপসংহার

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

📌 ঘটনার তথ্য

ঘটনা: অজ্ঞাত নারীর লাশের পরিচয় শনাক্ত ও হত্যার অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার

স্থান: কলাকান্দা-হানিরপাড় এলাকার কলাবাগান, ছেংগারচর পৌরসভা, মতলব উত্তর, চাঁদপুর

সময়: মরদেহ উদ্ধার ২৫ জুন ২০২৬; পুলিশ তথ্য জানায় ২ জুলাই ২০২৬; প্রকাশ ৩ জুলাই ২০২৬

ভুক্তভোগী: মজিদা বেগম

অভিযুক্ত: মো. জনি (নিহতের ছেলে)

কারণ: পুলিশের দাবি অনুযায়ী পারিবারিক ক্ষোভ

বর্তমান অবস্থা: অভিযুক্ত গ্রেপ্তার। তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম চলমান। আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগ বিচারাধীন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Uzzal Alo

জনপ্রিয়

খুলশীতে ৬৩ বিদেশি আটক, উদ্ধার ১৭০টি ডিভাইস

চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর লাশের পরিচয় শনাক্ত, হত্যার অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার

Update Time : ১১:৫৩:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
৪৪

সংবাদ প্রতিবেদন

চাঁদপুর | ৩ জুলাই ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার কলাকান্দা ও হানিরপাড় গ্রামের মাঝামাঝি একটি কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক ক্ষোভের জেরে মাকে হত্যার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মতলব উত্তর থানা-পুলিশ সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

ঘটনার বিস্তারিত

পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ পাওয়া সংবাদের ভিত্তিতে ছেংগারচর পৌরসভার কলাকান্দা ও হানিরপাড় গ্রামের মাঝামাঝি একটি কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি পচে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় এবং বন্য প্রাণীর আক্রমণে শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

পরে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে এবং মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ছেলে মো. জনিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী বা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মো. জনি জানান, ছোটবেলা থেকে পারিবারিক বিভিন্ন কারণে মায়ের প্রতি তার ক্ষোভ ছিল। তিনি ঢাকায় ফল বিক্রির কাজ করেন। গত ১৭ জুন তিনি মাকে ছেংগারচর বাজার থেকে অটোরিকশায় করে একটি কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে শ্বাসরোধে হত্যা করে প্রমাণ নষ্টের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন একটি পুকুরে ফেলে দেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পটভূমি

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় পুলিশ পরিচয় শনাক্ত করে এবং হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অগ্রগতি অর্জনের দাবি করে।

অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে। তবে আদালতে অভিযুক্ত বা তার আইনজীবীর কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগের বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনের বক্তব্য

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। পারিবারিক ক্ষোভের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

উপসংহার

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

📌 ঘটনার তথ্য

ঘটনা: অজ্ঞাত নারীর লাশের পরিচয় শনাক্ত ও হত্যার অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার

স্থান: কলাকান্দা-হানিরপাড় এলাকার কলাবাগান, ছেংগারচর পৌরসভা, মতলব উত্তর, চাঁদপুর

সময়: মরদেহ উদ্ধার ২৫ জুন ২০২৬; পুলিশ তথ্য জানায় ২ জুলাই ২০২৬; প্রকাশ ৩ জুলাই ২০২৬

ভুক্তভোগী: মজিদা বেগম

অভিযুক্ত: মো. জনি (নিহতের ছেলে)

কারণ: পুলিশের দাবি অনুযায়ী পারিবারিক ক্ষোভ

বর্তমান অবস্থা: অভিযুক্ত গ্রেপ্তার। তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম চলমান। আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগ বিচারাধীন।