🔶 সাব-হেডিং:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই নবীন শিক্ষার্থীকে রাতভর মানসিক নির্যাতন ও র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে।
🔷 প্রারম্ভিকা:
ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-এ দুই নবীন শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
অভিযোগে বলা হয়, বুধবার ভোররাতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ‘সালাম ভিলা’ নামের একটি আবাসিক মেসে তাদের জোরপূর্বক ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়। এ ঘটনায় আইন ও বিচার বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ছয় শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
🔷 ঘটনার বিস্তারিত:
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রান্নার আয়োজনের কথা বলে তাদের ডেকে নেওয়া হয়। রাত গভীর হওয়ার পর নবীন শিক্ষার্থী শাকিব হাসান হামীম ও আরমান মিয়াকে ঘুম থেকে তুলে অভিযুক্তদের কক্ষে নেওয়া হয়।
সেখানে তাদের পরিচয় জানতে চাওয়া হয় এবং বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাদের দিয়ে রান্নার কাজ করানো হয়, এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং জনপ্রিয় একটি গানের সঙ্গে অঙ্গভঙ্গি করে নাচতে বাধ্য করা হয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে গালাগাল করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর আরমান মিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে নিজ বাড়ি কিশোরগঞ্জে ফিরে যান। পরে সহপাঠী ও বিভাগের শিক্ষার্থীদের অনুরোধে তিনি পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরে এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনা জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার রাতে সালাম ভিলার সামনে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। এ সময় আইন ও বিচার বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীও সেখানে উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
🔷 ঘটনার উক্তি:
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শাকিব হাসান হামীম বলেন,
“রাতে রান্না করে খাওয়ার কথা বলে আমাদের বাজারে পাঠানো হয়েছিল। পরে গভীর রাতে জোর করে ডেকে নিয়ে বিভিন্নভাবে অপমান করা হয়। নাচতে না চাইলে গালাগাল করা হয়েছে।”
অন্য শিক্ষার্থী আরমান মিয়া বলেন,
“বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু শুরুতেই এমন অভিজ্ঞতায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। তাই বাড়ি চলে গিয়েছিলাম।”
🔷 পটভূমি:
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার নামে র্যাগিংয়ের অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতেও এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণত সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কের অপব্যবহার, ক্ষমতা প্রদর্শন এবং অনানুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রবণতা থেকে এ ধরনের ঘটনা ঘটে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগেও র্যাগিংবিরোধী নীতিমালা জোরদারের কথা বললেও শিক্ষার্থীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
🔷 পারিবারিক মন্তব্য:
ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আমরা সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাই। শুরুতেই এমন ঘটনা উদ্বেগজনক।”
আরেক অভিভাবক বলেন,
“প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে অন্য শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকবে।”
🔷 এলাকাবাসীর মন্তব্য:
বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার এক বাসিন্দা বলেন,
“রাতে হট্টগোলের শব্দ শুনেছি। পরে জানতে পারি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।”
আরেক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন,
“ক্যাম্পাসে এমন ঘটনা হলে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রশাসনের কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত।”
🔷 আসামি পক্ষের বক্তব্য:
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, ঘটনাটি ‘ভুল বোঝাবুঝি’ থেকে বড় আকার ধারণ করেছে।
🔷 প্রশাসনের বক্তব্য:
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন,
“র্যাগিংয়ের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
🔷 উপসংহার:
র্যাগিংয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উজ্জ্বল আলো 






















