প্রারম্ভিকা
ইসরায়েল-এর নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত ডিমোনা শহরের পারমাণবিক কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। শনিবার (২১ মার্চ) গভীর রাতে চালানো এ হামলায় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিশু রয়েছে এবং অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিস্তারিত
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতভর একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ডিমোনার পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার আগে টানা সাতবার সাইরেন বাজানো হলেও শেষ পর্যন্ত একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করা যায়নি। বিস্ফোরণের পরপরই এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, বহু মানুষ স্প্লিন্টারের আঘাতে জখম হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পটভূমি
ইরান দাবি করেছে, তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্র-এ সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল ওই হামলায় নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশন বলে দাবি করেছে। তবে এর আগে তেহরানের একটি পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রে হামলার দায় স্বীকার করেছিল ইসরায়েল, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
পারিবারিক ও এলাকাবাসীর মন্তব্য
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “হঠাৎ করেই সাইরেন বেজে ওঠে। আমরা বাঙ্কারে যাওয়ার আগেই বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।”
এক আহত শিশুর অভিভাবক বলেন, “আমার সন্তান খেলছিল, হঠাৎ বিস্ফোরণে আহত হয়। আমরা এখনো আতঙ্কে আছি।”
সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কীভাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে ইরান তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, এটি ছিল “প্রতিশোধমূলক ও কৌশলগত” হামলা।
উপসংহার
হামলার পর দক্ষিণ ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নেগেভসহ আশপাশের এলাকায় স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং জনসমাগমে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলা নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
Reporter Name 
















