Dhaka 5:33 pm, Friday, 17 April 2026
[gtranslate]
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ী সমাধান চায় ইরান Logo টস জিতে ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ড, মিরপুরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ Logo নিউজিল্যান্ডকে ২৪৮ রানে থামাল বাংলাদেশ, জয়ের লক্ষ্য নির্ধারিত Logo হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা জোরদারে ইউরোপের উদ্যোগ, মিত্রদের একত্র করছেন ম্যাক্রোঁ-স্টারমার Logo রসমালাইয়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রী হত্যা, লাশের অঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে নদীতে নিক্ষেপ Logo আটতলা থেকে লিফটের গর্তে ফেলে কলেজছাত্রকে হত্যা: চট্টগ্রামে চাঞ্চল্য Logo সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩২: সংসদে বিল পাস Logo ভাইরাল তাজুর মিলিয়ন ফলোয়ার ফেসবুক পেজ হঠাৎ উধাও, কান্নায় ভেঙে পড়লেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর Logo কুমিল্লার পাঁচপুকুরিয়া গ্রামে এখনো নেই প্রাথমিক বিদ্যালয়, বঞ্চিত শিশুরা Logo রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে এশিয়ান গেমস হকি বাছাই শুরু বাংলাদেশের
সাব-হেডলাইন: ড্রোন ভূপাতিত, ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বড় ক্ষয়ক্ষতির দাবি—ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ সামরিক বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত

প্রারম্ভিকা:                                                                                                              ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৬টি সামরিক বিমান ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন হামলা, দুর্ঘটনা ও প্রতিরক্ষা অভিযানে এসব ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ধ্বংস হওয়া বিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে চালকবিহীন রিপার স্ট্রাইক ড্রোন এবং অন্যান্য সামরিক বিমান। এর মধ্যে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে, আবার কিছু বিমান দুর্ঘটনা ও মিত্রবাহিনীর ভুল গুলিতেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত:
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দুর্ঘটনা ও মিত্রবাহিনীর ভুল হামলায়। কুয়েতে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এর ঘটনায় তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। একই সময়ে জ্বালানি সরবরাহের সময় একটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমান ধ্বংস হয়।
এ ছাড়া সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে পার্ক করে রাখা অবস্থায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও পাঁচটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি রিপার ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নয়টি মাঝআকাশে ধ্বংস করা হয় এবং একটি জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হয়। এছাড়া দুটি ড্রোন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে।

পটভূমি:
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান। সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে আকাশপথে নজরদারি ও হামলার সংখ্যা বাড়ায় উভয় পক্ষের সামরিক ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কারণে আকাশযুদ্ধে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।
সামরিক সূত্রের মন্তব্য:
আঘাত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চালকবিহীন রিপার ড্রোনগুলোকে মার্কিন সামরিক পরিভাষায় ‘অ্যাট্রিটেবল’ বা সহজে প্রতিস্থাপনযোগ্য হিসেবে ধরা হয়। তাই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এসব ড্রোন ব্যবহার করা হয়।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা ইরানের মধ্যাঞ্চলের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে হেনেছে।

প্রশাসনের বক্তব্য:
ইরানের দাবি অনুযায়ী, আঘাতপ্রাপ্ত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানটি পরে মধ্যপ্রাচ্যের একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এ তথ্য নিশ্চিত হয়, তবে এটি হবে ইতিহাসে প্রথমবার কোনো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে সরাসরি আঘাতের ঘটনা।

উপসংহার:
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আকাশপথে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে উভয় পক্ষের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

uzzal alo

জনপ্রিয়

সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ী সমাধান চায় ইরান

সাব-হেডলাইন: ড্রোন ভূপাতিত, ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বড় ক্ষয়ক্ষতির দাবি—ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ সামরিক বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত

Update Time : 08:55:32 am, Friday, 20 March 2026

প্রারম্ভিকা:                                                                                                              ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৬টি সামরিক বিমান ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন হামলা, দুর্ঘটনা ও প্রতিরক্ষা অভিযানে এসব ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ধ্বংস হওয়া বিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে চালকবিহীন রিপার স্ট্রাইক ড্রোন এবং অন্যান্য সামরিক বিমান। এর মধ্যে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে, আবার কিছু বিমান দুর্ঘটনা ও মিত্রবাহিনীর ভুল গুলিতেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত:
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দুর্ঘটনা ও মিত্রবাহিনীর ভুল হামলায়। কুয়েতে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এর ঘটনায় তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। একই সময়ে জ্বালানি সরবরাহের সময় একটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমান ধ্বংস হয়।
এ ছাড়া সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে পার্ক করে রাখা অবস্থায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও পাঁচটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি রিপার ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নয়টি মাঝআকাশে ধ্বংস করা হয় এবং একটি জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হয়। এছাড়া দুটি ড্রোন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে।

পটভূমি:
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান। সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে আকাশপথে নজরদারি ও হামলার সংখ্যা বাড়ায় উভয় পক্ষের সামরিক ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কারণে আকাশযুদ্ধে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।
সামরিক সূত্রের মন্তব্য:
আঘাত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চালকবিহীন রিপার ড্রোনগুলোকে মার্কিন সামরিক পরিভাষায় ‘অ্যাট্রিটেবল’ বা সহজে প্রতিস্থাপনযোগ্য হিসেবে ধরা হয়। তাই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এসব ড্রোন ব্যবহার করা হয়।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা ইরানের মধ্যাঞ্চলের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে হেনেছে।

প্রশাসনের বক্তব্য:
ইরানের দাবি অনুযায়ী, আঘাতপ্রাপ্ত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানটি পরে মধ্যপ্রাচ্যের একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এ তথ্য নিশ্চিত হয়, তবে এটি হবে ইতিহাসে প্রথমবার কোনো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে সরাসরি আঘাতের ঘটনা।

উপসংহার:
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আকাশপথে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে উভয় পক্ষের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।