Update Time :
02:27:40 am, Thursday, 19 February 2026
110
Time View
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ীদের প্রতি অধিক মুনাফা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “রমজানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এ মাসকে ব্যবসায় অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সময় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। দ্রব্যমূল্য যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। ভাষণটি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতার-এ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতিবিরোধী অগ্রাধিকার
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, সারা দেশে জুয়া ও মাদকের বিস্তার আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিতের নির্দেশ
রমজান মাসে ইফতার, তারাবিহ ও সাহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান সরকারপ্রধান। একই সঙ্গে অপচয় রোধ ও কৃচ্ছ্রতা সাধনের আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চায়। বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে যে কোনো পরামর্শ বা অভিযোগ গ্রহণে সরকার প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংসদ সদস্যদের বিশেষ সুবিধা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত
কৃচ্ছ্রতা চর্চায় দৃষ্টান্ত স্থাপনের অংশ হিসেবে দলীয় সংসদ সদস্যদের জন্য কিছু সুবিধা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁর দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সরকারি সুবিধায় ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি বা প্লট সুবিধা গ্রহণ করবেন না।
যানজট নিরসনে রেলব্যবস্থার উন্নয়ন
রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর যানজট নিরসনে রেলব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সহজ, সুলভ ও নিরাপদ রেল যোগাযোগ গড়ে তোলা গেলে রাজধানীকেন্দ্রিক চাপ কমবে এবং জনদুর্ভোগ হ্রাস পাবে। এ লক্ষ্যে রেল, নৌ, সড়ক ও সেতু খাতের কার্যক্রমে সমন্বয় সাধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের প্রত্যয়
দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে তরুণদের দক্ষতা অর্জন জরুরি। শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের কর্মসংস্থান এবং দক্ষতা উন্নয়নে সরকার সহযোগিতা প্রদান করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
সবার জন্য সমান অধিকার
ভাষণের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা সরকারকে ভোট দিয়েছেন বা দেননি—সব নাগরিকের অধিকার সমান। দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে সরকার কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।