দেশের মেধাবী ও যোগ্য সন্তানদের রাষ্ট্রগঠনে সম্পৃক্ত করা গেলে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে—এমন মন্তব্য করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. এ. এম. সারওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।
সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ, ব্রিটেনের খ্যাতনামা আইনজীবী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এডভোকেট ব্যারিস্টার নাজির আহমদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ব্যারিস্টার নাজির আহমদের অর্থায়নে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণও বিতরণ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভিসি প্রফেসর ড. সারওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ব্যারিস্টার নাজির আহমদ একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত কৃতি সন্তান। তাঁর মতো মেধাবীদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
তিনি আরও বলেন, স্রষ্টার রহমত থেকে কখনো নিরাশ হওয়া যাবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এসেছে। তরুণরা জীবন দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা তরুণদের হাতেই। এই সুযোগ হয়তো আমাদের জীবদ্দশায় আর আসবে না। তাই আগামী দিনের যোগ্য ও সুনাগরিক হিসেবে তরুণদের গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সভাপতিত্ব করেন সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এসএমসিসিআই) পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম। কোরআন তেলাওয়াত করেন মোহাম্মদ ছানিম আহমদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও কাউন্সিলর মাদার জেনেত এবং ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড, সিলেট-এর উপপরিচালক জসিম উদ্দিন খন্দকার।
সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার নাজির আহমদ বলেন, সিলেট ও চট্টগ্রামের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও গভীর বন্ধন রয়েছে। এক সময় এই দুই অঞ্চল একই প্রশাসনিক বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সিলেট ও চট্টগ্রামের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, আত্মত্যাগ ও শেখার মানসিকতা থাকলে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষকদের কথা শোনা এবং দৃঢ় প্রত্যয়ই তোমাদের সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে দেবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের ছাড়িয়ে গেলেও শিক্ষকরা তাতেই সবচেয়ে বেশি গর্ববোধ করেন।
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ আরও বলেন, বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনাময় দেশ। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন, স্থিতিশীলতা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে শৃঙ্খলাবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে।
সংবর্ধনার অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, জীবনে অনেক সম্মাননা পেয়েছি, আবার অনেককে সম্মাননাও দিয়েছি। তবে আজকের এই সম্মাননার অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি আমার দায়িত্ববোধ ও কমিটমেন্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক ডেপুটি মেয়র জ্যানেট রহমান বলেন, ব্যারিস্টার নাজির আহমদ ব্রিটেন ও ইউরোপজুড়ে সুপরিচিত ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশকে নিয়ে ভাবেন এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. এ. এম. সারওয়ারউদ্দিন চৌধুরী ব্যারিস্টার নাজির আহমদের হাতে ক্রেস্ট ও মেডেল তুলে দেন। পরে ব্যারিস্টার নাজির আহমদের অর্থায়নে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। রাতের ডিনারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড, সিলেট মার্কেটের এজিএম মো. সাহাব উদ্দিন, কাজী দিদার মিয়া, সাংবাদিক নুরউদ্দিন রাসেল, সুলতানা জান্নাত, শিপন মিয়া, শ্রিপ্রা রানীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন।
সিলেট: 
















