ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর আইইডি, নিষ্ক্রিয় করল বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল রবিবার সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়বেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ধামরাইয়ে জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা, হাজারো ভক্তের সমাগম ধামরাইয়ে জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা, হাজারো ভক্তের সমাগম আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে: আইনমন্ত্রী খাওয়ার পর ঘুম পায় কেন? জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও গবেষণার তথ্য মোজাফফরকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ, দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে যে দুই সমীকরণ জাপান ও সৌদি আরব সফরের প্রস্তুতি, চলতি বছরে ভারত সফরের সম্ভাবনা ক্ষীণ

টঙ্গীতে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম রাতারাতি ১২০০ থেকে ২২০০ টাকা, ভোগান্তিতে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা

  • উজ্জ্বল আলো
  • Update Time : ০৪:১০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২০০ Time View
৫২

টঙ্গীতে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম রাতারাতি ১২০০ থেকে ২২০০ টাকা, ভোগান্তিতে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা

—————————————————————————————————————————-
দেশের অন্যতম শিল্পনগরী টঙ্গীতে হঠাৎ করেই সিলিন্ডার গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। যেখানে একটি গ্যাস সিলিন্ডারের স্বাভাবিক দাম ছিল ১২০০ টাকা, সেখানে রাতারাতি তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০০ টাকায়। খুচরা পর্যায়ে এই অতিরিক্ত দামের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তা ও হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে টঙ্গীর আউচপাড়া, আরিচপুর, টঙ্গী বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ খুচরা ও পাইকারি গ্যাসের দোকান বন্ধ। দোকানগুলোর সামনে ঝোলানো সাইনবোর্ডে দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ব্যবসায়ীরা দোকানে এসে সরাসরি কথা বলতে বলেন। পরে দোকানদারদের সঙ্গে সাক্ষাতে তারা জানান, গ্যাস সংকটের অজুহাতে প্রতিটি সিলিন্ডার ২২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে কী কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে—সে বিষয়ে তারা কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

হঠাৎ করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হোটেল ও খাবার দোকানের মালিকরা। কারণ, প্রতিদিন বড় পরিমাণে গ্যাস ব্যবহার করতে হওয়ায় তাদের খরচ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার এক হোটেল ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“প্রতিদিন আমার তিনটি গ্যাসের বোতল লাগে। আগে যেখানে নির্দিষ্ট খরচে ব্যবসা চালানো যেত, এখন নতুন দামে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। কাস্টমারদের কাছ থেকে হঠাৎ করে দাম বাড়ানোও সম্ভব না। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”

এদিকে সীমিত আয়ের চাকরিজীবী ও সাধারণ গ্রাহকরাও পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মো. হাসিব বলেন,
“সীমিত বেতনে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। এর মধ্যে গ্যাসের দাম প্রায় এক হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। এটা আমাদের জন্য এক ধরনের জুলুম। এই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পরিবারের অন্য জরুরি খরচ মেটানো যেত।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রশাসনের তদারকি না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলেও মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর গাজীপুর জেলা শাখার উপপরিচালক আফসানা পারভীন দৈনিক আমাদের সময়–কে বলেন,
“যেসব প্রতিষ্ঠান সিলিন্ডার গ্যাসের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

এদিকে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা। তারা অবিলম্বে বাজার মনিটরিং জোরদার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Uzzal Alo

জনপ্রিয়

মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর আইইডি, নিষ্ক্রিয় করল বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল

টঙ্গীতে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম রাতারাতি ১২০০ থেকে ২২০০ টাকা, ভোগান্তিতে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা

Update Time : ০৪:১০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
৫২

টঙ্গীতে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম রাতারাতি ১২০০ থেকে ২২০০ টাকা, ভোগান্তিতে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা

—————————————————————————————————————————-
দেশের অন্যতম শিল্পনগরী টঙ্গীতে হঠাৎ করেই সিলিন্ডার গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। যেখানে একটি গ্যাস সিলিন্ডারের স্বাভাবিক দাম ছিল ১২০০ টাকা, সেখানে রাতারাতি তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০০ টাকায়। খুচরা পর্যায়ে এই অতিরিক্ত দামের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তা ও হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে টঙ্গীর আউচপাড়া, আরিচপুর, টঙ্গী বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ খুচরা ও পাইকারি গ্যাসের দোকান বন্ধ। দোকানগুলোর সামনে ঝোলানো সাইনবোর্ডে দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ব্যবসায়ীরা দোকানে এসে সরাসরি কথা বলতে বলেন। পরে দোকানদারদের সঙ্গে সাক্ষাতে তারা জানান, গ্যাস সংকটের অজুহাতে প্রতিটি সিলিন্ডার ২২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে কী কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে—সে বিষয়ে তারা কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

হঠাৎ করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হোটেল ও খাবার দোকানের মালিকরা। কারণ, প্রতিদিন বড় পরিমাণে গ্যাস ব্যবহার করতে হওয়ায় তাদের খরচ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার এক হোটেল ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“প্রতিদিন আমার তিনটি গ্যাসের বোতল লাগে। আগে যেখানে নির্দিষ্ট খরচে ব্যবসা চালানো যেত, এখন নতুন দামে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। কাস্টমারদের কাছ থেকে হঠাৎ করে দাম বাড়ানোও সম্ভব না। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”

এদিকে সীমিত আয়ের চাকরিজীবী ও সাধারণ গ্রাহকরাও পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মো. হাসিব বলেন,
“সীমিত বেতনে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। এর মধ্যে গ্যাসের দাম প্রায় এক হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। এটা আমাদের জন্য এক ধরনের জুলুম। এই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পরিবারের অন্য জরুরি খরচ মেটানো যেত।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রশাসনের তদারকি না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলেও মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর গাজীপুর জেলা শাখার উপপরিচালক আফসানা পারভীন দৈনিক আমাদের সময়–কে বলেন,
“যেসব প্রতিষ্ঠান সিলিন্ডার গ্যাসের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

এদিকে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা। তারা অবিলম্বে বাজার মনিটরিং জোরদার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন