রাজধানীর পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাঁদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি গবেষণার কাজে ফিরিয়ে দিতে হবে। সেখানে সচিবালয় স্থাপন করা হলে রাজধানীর পরিবেশ, যানবাহন চলাচল ও কৃষি গবেষণা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনকারীরা। কর্মসূচি শেষে তাঁদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেয়।
**জমি ফেরত দেওয়ার দাবি**
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি একসময় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ একর জমির অংশ ছিল। ১৯৮০-এর দশকে বাণিজ্য মেলার আয়োজনের জন্য জমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সম্প্রতি ওই মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা সামনে আসার পর নতুন করে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। আন্দোলনকারীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জন্য জমিটি ফিরিয়ে না দিয়ে সেখানে বড় প্রশাসনিক স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা শিক্ষা ও পরিবেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মানববন্ধনে অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি। তাঁর দাবি, ১৯৩৮ সালে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি বাণিজ্য মেলার জন্য অস্থায়ীভাবে নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, মাঠটি সচিবালয়ের কাজে ব্যবহার করা হলে রাজধানীর পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে কৃষি গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির সংকট আরও বাড়বে। তাই মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
**পরিবেশ ও যানজট নিয়ে উদ্বেগ**
আন্দোলনকারীরা বলেন, রাজধানীর সবুজ অঞ্চলগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কার্বন শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ এলাকাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। সেখানে বড় স্থাপনা নির্মাণ, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং নতুন সড়ক তৈরির ফলে সবুজ অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাঁদের মতে, সচিবালয় স্থানান্তর করা হলে ওই এলাকায় যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে পারে। এতে যানজট, বায়ুদূষণ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি আগারগাঁওয়ের হাসপাতালগুলোতে রোগী ও জরুরি সেবা ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তাঁরা।
তবে পরিবেশগত প্রভাব, কার্বন শোষণের পরিমাণ এবং সম্ভাব্য তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত তথ্যগুলোর স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
**বিকল্প স্থানে সচিবালয় নির্মাণের প্রস্তাব**
সংবাদ সম্মেলনে শেকৃবির অধ্যাপক ড. এম সালাহউদ্দিন এম চৌধুরী বলেন, মাঠটি কৃষি গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হলে পরিবেশ ও দেশ উভয়ই উপকৃত হবে। রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে প্রশাসনিক স্থাপনা বিস্তৃত এলাকায় গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
তাঁর প্রস্তাব, সচিবালয় স্থানান্তরের জন্য পূর্বাচল বা উত্তরার মতো এলাকাগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে। সেখানে পর্যাপ্ত খালি জায়গা ও প্রশস্ত সড়ক রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, মাঠটি ফিরিয়ে পাওয়ার দাবিতে তাঁরা বিভিন্ন সময়ে কর্মসূচি পালন করেছেন। কিন্তু সচিবালয় স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানার পর তাঁদের আবারও রাজপথে নামতে হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
**ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও আগের আন্দোলন**
আন্দোলনকারীরা জানান, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রাচীন কৃষি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি কৃষি গবেষণা, শিক্ষা ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে জমিটির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, জমিটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এর আগেও বিভিন্ন সময় আন্দোলন হয়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ‘টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড’ শীর্ষক কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। ওই কর্মসূচিতেও মাঠটি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্টদের দাবি, গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত জমি না থাকায় তাঁদের বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করে মাঠটি কৃষি গবেষণার কাজে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হোক।
**সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান**
আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, শিক্ষা, কৃষি গবেষণা ও পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সরকার মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেবে।
তবে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা, জমির মালিকানা ও ব্যবহারসংক্রান্ত নথি এবং সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পূর্ণাঙ্গভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
### প্রকাশের জন্য এসইও তথ্য
* প্রধান বিভাগ: শিক্ষা
* দ্বিতীয় বিভাগ: জাতীয়
* ফোকাস কীওয়ার্ড: শেকৃবির গবেষণা মাঠ
* এসইও শিরোনাম: সচিবালয় নয়, গবেষণা মাঠ ফেরত চায় শেকৃবি
* বাংলা স্লাগ: `শেকৃবির-গবেষণা-মাঠ-ফেরত-দাবি`
* মেটা বিবরণ: পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শেকৃবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী। মাঠটি গবেষণার কাজে ফেরত দেওয়ার দাবি তাঁদের।
* কীওয়ার্ড: শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেকৃবি, গবেষণা মাঠ, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ, সচিবালয় স্থানান্তর, কৃষি গবেষণা, পরিবেশ সংরক্ষণ
* ট্যাগ: শেকৃবি, কৃষি গবেষণা, সচিবালয়, পরিবেশ, মানববন্ধন, ঢাকা, শিক্ষা
সম্পাদনা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নোট: প্রকাশের আগে জমির মালিকানা ও অধিগ্রহণের ইতিহাস, ৩০ একর জমির তথ্য, পরিবেশগত পরিসংখ্যান এবং সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক সূত্র যাচাই করা উচিত। সরকারি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটিতে যুক্ত করলে নিরপেক্ষতা আরও শক্তিশালী হবে।

উজ্জ্বল আলো 

















