সংবাদ প্রতিবেদন
প্রারম্ভিকা
ঢাকা, ২০ আগস্ট ২০২৬: প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সোহানুর রহমানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে যান নুরুল হক নুর। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি জানান।
নুরুল হক নুরের বক্তব্য
নুরুল হক নুর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। পরে অন্তর্বর্তী সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়। এখন নির্বাচিত সরকারের বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করে জামায়াত-শিবিরের মতো উগ্রবাদী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করতে হবে।নুরুল হক নুর আরও দাবি করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের জন্য জামায়াত-শিবিরেরও নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। তাঁর আশঙ্কা, সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ না করলে দেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আল-কায়েদা প্রসঙ্গে দাবি
নুরুল হক নুর দাবি করেন, জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে আল-কায়েদা বাংলাদেশকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। তাঁর অভিযোগ, জামায়াত-শিবিরের মাধ্যমে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জামায়াত-শিবিরকে অস্ত্র পরিচালনাকারী ক্যাডার সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, গত ছয় মাসে সংগঠনটির কর্মকাণ্ডে পরিবর্তন এসেছে। আওয়ামী লীগ ও জামায়াত প্রসঙ্গে মন্তব্য নুরুল হক নুর বলেন, আওয়ামী লীগ সুযোগ পেয়ে ফ্যাসিস্ট হয়েছে। একইভাবে জামায়াত-শিবিরও সুযোগ না পেলেও বিভিন্ন ধরনের তাণ্ডব চালিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, জামায়াত অতীতে সহিংসতা, দখলদারত্বসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে অভিযোগ নুরুল হক নুরের অভিযোগ, বর্তমান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে জামায়াত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চাইছে। ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে দলটির লোকজনকে শেয়ার দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে বিস্তারিত নথি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ নেই।আমির হামজার বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা ওয়াজ ও জুমার খুতবায় আমির হামজার বক্তব্যের সমালোচনা করেন নুরুল হক নুর। বক্তব্যে বিদ্বেষ, বিভাজন বা কুরুচিপূর্ণ বিষয় থাকলে জনগণকে তা প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের আমির হামজার পক্ষে বিবৃতি দেওয়ারও সমালোচনা করেন নুরুল হক নুর। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে আমির হামজার বক্তব্যকে জামায়াত সমর্থন করছে বলে প্রতীয়মান হয়। তিনি আমির হামজা, সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামসহ জামায়াতের নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নাম থেকে ‘ইসলাম’ শব্দটি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।
অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য
প্রদত্ত তথ্যে নুরুল হক নুরের উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পটভূমি
নুরুল হক নুরের বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জামায়াত-শিবিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। পরে অন্তর্বর্তী সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলটির কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সোহানুর রহমান আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নুরুল হক নুর এসব মন্তব্য করেন।
উপসংহার
জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে নুরুল হক নুর রাজনৈতিক ঐকমত্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দলটির বিরুদ্ধে উগ্রবাদ, সহিংসতা ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একাধিক অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী ছাত্রশিবিরের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের প্রদত্ত

উজ্জ্বল আলো 





















