### সুন্দরবন-মোংলা ঘুরে উন্নয়ন সম্ভাবনা পর্যালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক উজ্জ্বল আলো
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা পর্যালোচনার অংশ হিসেবে সুন্দরবন, মোংলা সমুদ্রবন্দর ও প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। পরে খুলনার দাকোপের নলিয়ান থেকে নৌপথে মোংলায় যান সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে সুন্দরবনকেন্দ্রিক সম্ভাবনা, সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করা হয়। মোংলা বন্দরের জেটি ঘুরে দেখার পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
### নলিয়ানে স্থানীয়দের সঙ্গে কুশলবিনিময়
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে হেলিকপ্টারে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে নলিয়ান কোস্ট গার্ডের পন্টুনে যাওয়ার পথে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন তিনি।
এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী কয়েকজনের সঙ্গে হাত মেলান এবং কারও কারও সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় ভ্রাম্যমাণ বাদাম বিক্রেতা রাজু গাজীর সঙ্গেও হাত মেলান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলানোর প্রত্যাশা নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানান রাজু।
রাজু বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি কার সঙ্গে কথা কলাম, আমার জীবন সার্থক। বাদাম বেচি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলাইছি, আর কী লাগে।’
পরে তিনি বলেন, ‘অসংখ্য ধন্যবাদ স্যার। আমার খুব ভালো লাগছে।’
এ সময় খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টুর মাথায়ও হাত বুলিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।
### নৌপথে মোংলা সফর
সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে নলিয়ান কোস্ট গার্ডের পন্টুন থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। দুপুর পৌনে ১টার দিকে মোংলার দিগরাজ নৌঘাটিতে পৌঁছান তিনি।
সেখানে মধ্যাহ্নবিরতির পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিকেল পৌনে ৩টার দিকে মোংলা বন্দর জেটি পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকাও ঘুরে দেখেন। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে মোংলা ত্যাগ করেন সরকারপ্রধান।
### প্রশাসনের বক্তব্য
প্রধানমন্ত্রীর সুন্দরবন পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম।
প্রধানমন্ত্রীর দাকোপ সফর সম্পর্কে খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, সফরটি কোনো জনসভা বা আনুষ্ঠানিক জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি ছিল না। প্রধানমন্ত্রী সেখানে কোনো বক্তব্য দেননি। যাতায়াতের পথে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেছেন।
মন্টু আশা প্রকাশ করেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে খুলনার অবকাঠামোগত উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
### পটভূমি ও উন্নয়ন সম্ভাবনা
সুন্দরবন, মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। এসব এলাকার উন্নয়ন অবকাঠামো, বন্দরকেন্দ্রিক কার্যক্রম এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে সফরে পরিদর্শন করা প্রকল্প বা এলাকা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা, বরাদ্দ কিংবা বাস্তবায়নের সময়সীমা ঘোষণার তথ্য সরবরাহ করা হয়নি।
### সর্বশেষ অবস্থা
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে মোংলা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সফরে সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট, নলিয়ান, মোংলা বন্দর জেটি ও প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন তিনি।
সম্পাদনা নোট: সফর-পরবর্তী সরকারি উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আরও সমৃদ্ধ করা যাবে। उपलब्ध তথ্যের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত বা সরকারি প্রতিশ্রুতি যুক্ত করা হয়নি।

উজ্জ্বল আলো 

















