সংবাদ প্রতিবেদন
প্রারম্ভিকা
জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত ১৫তম এলএনজি প্রোডিউসার-কনজুমার কনফারেন্স ২০২৬-এ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) টোকিওর দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও এলএনজি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্য দেন।
সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘অ্যাডভান্সিং এলএনজি ফর দ্য ফিউচার: রেসিলিয়েন্স অ্যান্ড রিলায়েবিলিটি’। বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন, সরবরাহে বিঘ্ন এবং বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তাকে শুধু জ্বালানি প্রাপ্তির বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা, সরবরাহের বৈচিত্র্য, সাশ্রয়ী মূল্য ও নমনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ঘটনার বিস্তারিত
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, নগরায়ণ এবং বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার কারণে দেশে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে প্রাকৃতিক গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণ সম্ভব না হওয়ায় এলএনজি আমদানি বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে বলে সম্মেলনে জানানো হয়।
প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ-এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশে বার্ষিক এলএনজি চাহিদা প্রায় ৭ মিলিয়ন টন।
ভবিষ্যৎ অবকাঠামো পরিকল্পনা
চাহিদা পূরণে এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীতে অতিরিক্ত ৬০০ এমএমসিএফডি ক্ষমতার একটি এফএসআরইউ স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে।
এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে মাতারবাড়িতে ১ হাজার এমএমসিএফডি ক্ষমতার ল্যান্ড-বেসড এলএনজি টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে এলএনজি সক্ষমতা অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ এমটিপিএ এবং ২০৩১ থেকে ২০৪০ মেয়াদে তা ১৭ থেকে ১৮ এমটিপিএ-তে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরবরাহ উৎস বৈচিত্র্যকরণ
এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনার বিষয়েও সম্মেলনে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার জি-টু-জি, আন্তর্জাতিক দরপত্র এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করছে।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি। সম্প্রতি ঘোষিত ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকার তথ্যও সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সম্মেলনে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য পারস্পরিক অংশীদারত্ব ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ গঠনে বন্ধুপ্রতিম দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পটভূমি
বাংলাদেশে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বাড়ায় এলএনজি আমদানি দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মূল্য, সরবরাহ ও ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
পরিবারের মন্তব্য
এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারের কোনো বক্তব্য প্রযোজ্য নয়।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য
এটি কোনো অপরাধ বা অভিযোগসংক্রান্ত ঘটনা নয়; তাই অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য প্রযোজ্য নয়।
প্রশাসনের বক্তব্য
সম্মেলনে বাংলাদেশের জ্বালানি অবকাঠামো সম্প্রসারণ, এলএনজি আমদানি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এর বাইরে প্রশাসনের পৃথক কোনো বক্তব্য মূল তথ্যে উল্লেখ নেই।
উপসংহার
টোকিওর সম্মেলনে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধি, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং আমদানির উৎস বৈচিত্র্যকরণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। মহেশখালী ও মাতারবাড়িতে নতুন এলএনজি অবকাঠামো স্থাপনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রিপোর্টার: পার্থ মজুমদার গণমাধ্যম: দৈনিক উজ্জ্বল আলো | উজ্জ্বল আলো পদবি: সিনিয়ার স্টাফ রিপোর্টার কাজের এলাকা: সমগ্র বাংলাদেশ বিট: জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অর্থনীতি 





















