ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুন্দরবন-মোংলা ঘুরে উন্নয়ন সম্ভাবনা পর্যালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৬, ধসে পড়েছে শত শত বাড়িঘর অপ্রতীম হত্যা মামলায় চার্জশিট, চার আসামির মধ্যে দুইজন কিশোর সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত শাহেদের মরদেহ গ্রহণ করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ টানা তৃতীয় দফায় কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমেছে ২,১৫৮ টাকা প্যারিসে কারফিউয়ের মেয়াদ বাড়ল, মার্সেই ও লিওঁয়ে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি, নিরাপত্তায় পর্যটক উদ্ধার রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য নিয়ে পেশাদার সংবাদ প্রতিবেদন ব্যাটিং ব্যর্থতায় জয়হীন বাংলাদেশ, দল গঠনে নতুন করে ভাবার তাগিদ সাজেকে অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি, আটকে পড়েছিলেন দুই হাজার পর্যটক
সর্বশেষ সংবাদ :
চট্টগ্রামে ৩০০ শিশুর ওপর গবেষণা: হামে আক্রান্তদের ৮৫.২ শতাংশ টিকাবিহীন একাদশে ভর্তিতে প্রায় ১০ লাখ আবেদন, ফল প্রকাশ ১৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির কাছে পোশাক খাতের সংকট ও ১১ দফা সুপারিশ বিজিএমইএর নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃত ৩৫৯, নিখোঁজ ৯১০ বিদায়ী বক্তব্যে বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল, সংসদ সদস্যদের ভোট চাইলেন ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৭ যাত্রাবাড়ীর জনসভায় গোলাম পরওয়ার: ‘জুলাইয়ের ইতিহাস ভুলতে বসেছে বিএনপি’ রবিবার সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়বেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে যে দুই সমীকরণ গুজবকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি শবনম ফারিয়ার, ‘স্ক্রিনশট-কল রেকর্ড প্রকাশ করে মামলা করব’

পিলখানার ঘটনা ছিল সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের অপপ্রয়াস: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • উজ্জ্বল আলো
  • Update Time : ০২:০১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৩১ Time View
১৪৬

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি— ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ ঘটনাকে ইতিহাসে যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষমা করবে না।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহিদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শ্রদ্ধা ও স্মরণ

প্রধানমন্ত্রী মাহে রমজানের এ সময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে তিনি ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “২৫ ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা আজও বহমান।”

‘সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে অনুভব’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘটনার ১৭ বছর পর শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তাঁর কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। তিনি নিজেকে শুধু একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবেও উপস্থিত বলে উল্লেখ করেন। নিহতদের প্রত্যেকের আত্মত্যাগকে তিনি একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস হিসেবে অভিহিত করেন।

দেশে ফেরার পর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারত করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শহীদ পরিবারগুলোর বিচারপ্রত্যাশা ও দুর্ভোগ তিনি উপলব্ধি করেছেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণের উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী জানান, সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণীয় করে রাখার বিষয়ে সরকার কাজ করবে। শহীদ পরিবারগুলোর সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঐতিহ্য ও পুনর্গঠন

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকেই এ বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাংগঠনিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। ১৯৭৮ সালে বাহিনী পুনর্গঠন এবং ব্যাটালিয়ন কাঠামো প্রবর্তনের বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো জোরদার

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনা দেশের সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস ছিল এবং এতে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর কিছু দুর্বলতা সামনে আসে। বর্তমান সরকার সময়োপযোগী ও আধুনিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আধুনিক ও সুসংহত করতে উদ্যোগ নেবে, যাতে সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত সহিংসতায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। ঘটনাটি দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবে

চিত হয়ে আসছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Uzzal Alo

জনপ্রিয়

সুন্দরবন-মোংলা ঘুরে উন্নয়ন সম্ভাবনা পর্যালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পিলখানার ঘটনা ছিল সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের অপপ্রয়াস: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : ০২:০১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১৪৬

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি— ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ ঘটনাকে ইতিহাসে যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষমা করবে না।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহিদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শ্রদ্ধা ও স্মরণ

প্রধানমন্ত্রী মাহে রমজানের এ সময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে তিনি ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “২৫ ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা আজও বহমান।”

‘সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে অনুভব’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘটনার ১৭ বছর পর শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তাঁর কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। তিনি নিজেকে শুধু একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবেও উপস্থিত বলে উল্লেখ করেন। নিহতদের প্রত্যেকের আত্মত্যাগকে তিনি একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস হিসেবে অভিহিত করেন।

দেশে ফেরার পর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারত করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শহীদ পরিবারগুলোর বিচারপ্রত্যাশা ও দুর্ভোগ তিনি উপলব্ধি করেছেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণের উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী জানান, সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণীয় করে রাখার বিষয়ে সরকার কাজ করবে। শহীদ পরিবারগুলোর সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঐতিহ্য ও পুনর্গঠন

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকেই এ বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাংগঠনিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। ১৯৭৮ সালে বাহিনী পুনর্গঠন এবং ব্যাটালিয়ন কাঠামো প্রবর্তনের বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো জোরদার

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনা দেশের সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস ছিল এবং এতে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর কিছু দুর্বলতা সামনে আসে। বর্তমান সরকার সময়োপযোগী ও আধুনিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আধুনিক ও সুসংহত করতে উদ্যোগ নেবে, যাতে সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত সহিংসতায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। ঘটনাটি দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবে

চিত হয়ে আসছে।