Dhaka 8:00 pm, Friday, 17 April 2026
[gtranslate]
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ী সমাধান চায় ইরান Logo টস জিতে ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ড, মিরপুরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ Logo নিউজিল্যান্ডকে ২৪৮ রানে থামাল বাংলাদেশ, জয়ের লক্ষ্য নির্ধারিত Logo হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা জোরদারে ইউরোপের উদ্যোগ, মিত্রদের একত্র করছেন ম্যাক্রোঁ-স্টারমার Logo রসমালাইয়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রী হত্যা, লাশের অঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে নদীতে নিক্ষেপ Logo আটতলা থেকে লিফটের গর্তে ফেলে কলেজছাত্রকে হত্যা: চট্টগ্রামে চাঞ্চল্য Logo সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩২: সংসদে বিল পাস Logo ভাইরাল তাজুর মিলিয়ন ফলোয়ার ফেসবুক পেজ হঠাৎ উধাও, কান্নায় ভেঙে পড়লেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর Logo কুমিল্লার পাঁচপুকুরিয়া গ্রামে এখনো নেই প্রাথমিক বিদ্যালয়, বঞ্চিত শিশুরা Logo রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে এশিয়ান গেমস হকি বাছাই শুরু বাংলাদেশের

পিলখানার ঘটনা ছিল সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের অপপ্রয়াস: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • Reporter Name
  • Update Time : 02:01:11 pm, Wednesday, 25 February 2026
  • 80 Time View

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি— ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ ঘটনাকে ইতিহাসে যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষমা করবে না।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহিদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শ্রদ্ধা ও স্মরণ

প্রধানমন্ত্রী মাহে রমজানের এ সময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে তিনি ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “২৫ ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা আজও বহমান।”

‘সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে অনুভব’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘটনার ১৭ বছর পর শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তাঁর কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। তিনি নিজেকে শুধু একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবেও উপস্থিত বলে উল্লেখ করেন। নিহতদের প্রত্যেকের আত্মত্যাগকে তিনি একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস হিসেবে অভিহিত করেন।

দেশে ফেরার পর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারত করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শহীদ পরিবারগুলোর বিচারপ্রত্যাশা ও দুর্ভোগ তিনি উপলব্ধি করেছেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণের উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী জানান, সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণীয় করে রাখার বিষয়ে সরকার কাজ করবে। শহীদ পরিবারগুলোর সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঐতিহ্য ও পুনর্গঠন

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকেই এ বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাংগঠনিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। ১৯৭৮ সালে বাহিনী পুনর্গঠন এবং ব্যাটালিয়ন কাঠামো প্রবর্তনের বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো জোরদার

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনা দেশের সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস ছিল এবং এতে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর কিছু দুর্বলতা সামনে আসে। বর্তমান সরকার সময়োপযোগী ও আধুনিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আধুনিক ও সুসংহত করতে উদ্যোগ নেবে, যাতে সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত সহিংসতায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। ঘটনাটি দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবে

চিত হয়ে আসছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

uzzal alo

জনপ্রিয়

সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ী সমাধান চায় ইরান

পিলখানার ঘটনা ছিল সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের অপপ্রয়াস: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : 02:01:11 pm, Wednesday, 25 February 2026

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি— ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ ঘটনাকে ইতিহাসে যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষমা করবে না।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহিদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শ্রদ্ধা ও স্মরণ

প্রধানমন্ত্রী মাহে রমজানের এ সময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে তিনি ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “২৫ ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা আজও বহমান।”

‘সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে অনুভব’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘটনার ১৭ বছর পর শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তাঁর কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। তিনি নিজেকে শুধু একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবেও উপস্থিত বলে উল্লেখ করেন। নিহতদের প্রত্যেকের আত্মত্যাগকে তিনি একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস হিসেবে অভিহিত করেন।

দেশে ফেরার পর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারত করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শহীদ পরিবারগুলোর বিচারপ্রত্যাশা ও দুর্ভোগ তিনি উপলব্ধি করেছেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণের উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী জানান, সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণীয় করে রাখার বিষয়ে সরকার কাজ করবে। শহীদ পরিবারগুলোর সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঐতিহ্য ও পুনর্গঠন

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকেই এ বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাংগঠনিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। ১৯৭৮ সালে বাহিনী পুনর্গঠন এবং ব্যাটালিয়ন কাঠামো প্রবর্তনের বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো জোরদার

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনা দেশের সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস ছিল এবং এতে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর কিছু দুর্বলতা সামনে আসে। বর্তমান সরকার সময়োপযোগী ও আধুনিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আধুনিক ও সুসংহত করতে উদ্যোগ নেবে, যাতে সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত সহিংসতায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। ঘটনাটি দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবে

চিত হয়ে আসছে।