ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার

**প্যারিস, ফ্রান্স | ২৩ অক্টোবর ২০২৬।** গত সপ্তাহের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনার পর নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী প্যারিসের দুটি এলাকায় সোমবার পর্যন্ত আংশিক কারফিউ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সপ্তাহান্তে মার্সেই ও লিওঁ শহরে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়ে গত সপ্তাহে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বড় বিক্ষোভ হয়। আন্দোলনের একপর্যায়ে সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

### পুলিশের উপস্থিতি বাড়বে ২০ শতাংশ

প্রদত্ত সংবাদসূত্র অনুযায়ী, ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ দিদিয়ে বের্জেই জানিয়েছেন, আগের সপ্তাহের তুলনায় এবার পুলিশের উপস্থিতি ২০ শতাংশ বাড়ানো হবে। গত বিক্ষোভের ব্যাপকতা সম্পর্কে সরকার আগে থেকে ধারণা করতে পারেনি—এমন সমালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর জানিয়েছেন, যেসব এলাকায় বিক্ষোভ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি, সেখানে অনুমোদিত শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমাবেশের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্য গোষ্ঠীর বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লোকর্নুও সম্ভাব্য অস্থিরতা মোকাবিলায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে বড় জনসমাগম সামাল দিতে পুলিশের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ফরাসি সংবাদমাধ্যমের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে সূত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

### প্যারিসের দুটি এলাকায় রাতের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

প্যারিস পুলিশের ঘোষণার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লাস দ্য লা রিপুবলিক চত্বর ও লে আল শপিং এলাকায় সোমবার পর্যন্ত রাতের কারফিউ বহাল থাকবে। স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত ওই দুই এলাকায় চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।

গত সপ্তাহে বিক্ষোভকারীরা প্লাস দ্য লা রিপুবলিক চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে শনিবার প্যারিসের ল্যুভর, ওর্সে ও পিকাসো জাদুঘর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে মার্সেইয়ে শনিবার গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত সপ্তাহের সহিংসতায় শহরটির ৫০০টির বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মার্সেই ও লিওঁ শহরে শনিবার ও রোববার সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রুয়াঁ, নিস, তুলোঁ ও গ্রেনোবলসহ বিভিন্ন শহরেও চলাচল ও জনসমাবেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

### সহিংসতার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ হাজার ৭০০

প্রদত্ত প্রতিবেদনে ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড ডার্মানানের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহের বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনায় দেশজুড়ে ২ হাজার ৭০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত ২১৭ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের প্রায় অর্ধেকের আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। তবে এ পরিসংখ্যানের স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য সরবরাহ করা হয়নি।

সহিংসতায় লিওঁর পর্যটন দপ্তরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। লিমোজ শহরে একটি সিটি হলের ঘড়ির টাওয়ার ও ছাদের কিছু অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে সেগুলো ধসে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের কথাও জানানো হয়েছে।

### জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির দাম নিয়ে ক্ষোভ

প্রদত্ত সংবাদসূত্রে বলা হয়েছে, গত ১৭ অক্টোবর জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নেন। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল। শ্রমিক সংগঠন, ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন এবং শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর সমর্থনে প্যারিসসহ বিভিন্ন বড় শহরে মিছিল হয়।

অধিকাংশ মিছিল শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি স্থানে সহিংসতা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা আন্দোলনের মূল দাবিগুলোকে আড়ালে ঠেলে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

### মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা

বিক্ষোভ ও সমাবেশের আশঙ্কায় ফ্রান্সে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও প্যারিসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সতর্কতায় বিক্ষোভপ্রবণ এলাকা, জনসমাগমপূর্ণ স্থান এবং পুলিশের উপস্থিতি বেশি—এমন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ২৫ অক্টোবর প্যারিসে ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) খেলা দেখতে যাওয়া দর্শকদেরও আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

### প্রশাসনের বক্তব্য ও সর্বশেষ অবস্থা

ফরাসি সরকারের ঘোষণার ভিত্তিতে নিরাপত্তা জোরদার, কারফিউ সম্প্রসারণ এবং বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে কি না, নতুন করে কতজন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে বিধিনিষেধ বহাল থাকবে কি না—এসব বিষয়ে হালনাগাদ নিশ্চিত তথ্য প্রদত্ত প্রতিবেদনে নেই।

**সম্পাদনা নোট:** এ প্রতিবেদনের তথ্য সরবরাহ করা মূল সংবাদবিবরণীর ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, গ্রেপ্তার ও দণ্ডের পরিসংখ্যান এবং কারফিউয়ের বর্তমান অবস্থা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। স্থানীয় সময়, তারিখ ও সরকারি ঘোষণার সঙ্গে মিলিয়ে প্রকাশের আগে তথ্যগুলো পুনরায় নিশ্চিত করা উচিত।