রাঙামাটি, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬: রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোলাগুলি শুরু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গোলাগুলি চলছিল বলে ওই সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি চলছিল। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

 

### পর্যটকদের ফিরিয়ে নেওয়ার সময় উত্তেজনা

 

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাজেক সড়কে অবরোধ চলাকালে আটকে পড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়িতে ফিরিয়ে নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টা করে। এ সময় অবরোধকারীরা বাধা দেন।

 

একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং পরে গুলি ছোড়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়েন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

তবে গোলাগুলিতে হতাহত হওয়ার কোনো তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

### সাজেক থেকে ফিরছিলেন প্রায় তিন হাজার পর্যটক

 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় প্রায় তিন হাজার পর্যটক সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

 

পর্যটকবাহী গাড়িগুলো উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়ে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

 

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাজেক থেকে ফিরতে থাকা পর্যটকেরা সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় নিরাপদে খাগড়াছড়ির কাছাকাছি পৌঁছেছেন।

 

### অবরোধের পেছনে আঞ্চলিক বিরোধের প্রেক্ষাপট

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুটি আঞ্চলিক সংগঠন—ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস)—মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

 

এই বিরোধের প্রেক্ষাপটে ইউপিডিএফ-সমর্থিত সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন সাজেক সড়কে অবরোধের ডাক দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে অবরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর ভূমিকা ও গোলাগুলির ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

### প্রশাসনের বক্তব্য ও সর্বশেষ পরিস্থিতি

 

পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ঘটনার বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেছেন। গোলাগুলিতে হতাহতের সংখ্যা, ক্ষয়ক্ষতি এবং ঘটনার পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সাজেক সড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এখন গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্য ও হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

 

সম্পাদনা নোট: এই প্রতিবেদন সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। গোলাগুলির বর্তমান অবস্থা, হতাহতের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। প্রকাশের আগে সর্বশেষ পুলিশি বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিক্রিয়া যাচাই করা উচিত।