### জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারের সমালোচনা বিরোধীদলীয় নেতার

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ২০২৬: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকরের দাবি জানিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) আয়োজিত ‘জুলাই সনদের এক বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমানের অভিযোগ, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার তা থেকে সরে আসছে। তিনি বলেন, বিএনপি ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিপীড়নের শিকার ছিল, কিন্তু এরপর দ্রুত অতীতের কথা ভুলে গেছে। তাঁর ভাষ্য, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী।

### বিরোধী দলের সহযোগিতা নিয়ে বক্তব্য

আলোচনায় জামায়াত আমির বলেন, বিএনপি পরিবর্তিত হলেও তাঁরা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করবেন না। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল সরকারের পরিবর্তে দেশের ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থে সহযোগিতা করবে। তাঁর মতে, এ আন্দোলনের লক্ষ্য শুধু কয়েকটি রাজনৈতিক দলের দাবি আদায় নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়া এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো।

### সরকারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এবি পার্টির সমালোচনা

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। সঞ্চালনা করেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে বারবার আশ্বাস শুনতে শুনতে মানুষ বিরক্ত হয়ে পড়েছে। সরকার এত দ্রুত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে, তা তাঁরা কল্পনা করেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি নিজেরাই দাবি করেছে, জুলাই আন্দোলনে তাদের ৮৪৮ জন কর্মী শহীদ হয়েছেন। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সরকারের উচিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা। অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বান জানান তিনি।

### রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্বের কথা

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা বুঝতে হবে। প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব।

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ধরনের কার্ড বিতরণ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এলডিপি চেয়ারম্যান।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল এবং রাষ্ট্র সংস্কারের একটি রূপরেখা। রাষ্ট্র সংস্কারে ব্যর্থতার কারণেই ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, জুলাই সনদ কার্যকর না হলে সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংকট আরও গভীর হতে পারে।

### বিএনপির বিরুদ্ধে এনসিপি নেতার অভিযোগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং সনদের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে।

তিনি বলেন, সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি ছিল সংস্কারপ্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা। জুলাই সনদ ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার পরিস্থিতিকে তিনি ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ওঠার সঙ্গে তুলনা করেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহর অভিযোগ, সরকার রাষ্ট্রকে জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যবসায়িক স্বার্থের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জুলাই সনদের মৌলিক চেতনা উপেক্ষা করা হলে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

### রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আহ্বান

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ২০২৪ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লিখিত রাজনৈতিক দলিল হলো জুলাই সনদ। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা এর মৌলিক উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, সনদে স্বাক্ষর ও গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন তা বাস্তবায়ন করাই প্রধান দায়িত্ব। এ বিষয়ে রাজনৈতিক সংকটের সমাধান রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনা সভায় এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

### সর্বশেষ অবস্থা

সভায় অংশ নেওয়া নেতারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে এসব দাবি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এ আলোচনা সভায় কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়ার তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। ফলে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো বক্তব্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সম্পাদনা নোট: প্রতিবেদনটি সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। বক্তাদের রাজনৈতিক অভিযোগ ও মূল্যায়ন তাঁদের নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে; সেগুলোকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সত্য হিসেবে দেখানো হয়নি।