সংবাদ প্রতিবেদন
প্রারম্ভিকা (Lead)
চট্টগ্রাম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: চট্টগ্রাম বিভাগে ৩০০ জন হামে আক্রান্ত শিশুর ওপর পরিচালিত যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের ৮৫.২ শতাংশই টিকাবিহীন ছিল। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আয়োজিত গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক রিসার্চ গ্রুপ যৌথভাবে গবেষণাটি পরিচালনা করে। গবেষণায় শিশুদের টিকাদান পরিস্থিতি, অপুষ্টি, সংক্রমণের উৎস ও রোগজনিত জটিলতার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়।
ঘটনার বিস্তারিত
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৩০০ শিশুর বয়স ছিল ২ মাস থেকে ১১ বছর পর্যন্ত। তাদের মধ্যে ৩১ শতাংশ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছিল। গবেষণায় অপুষ্টিকে হামের গুরুতর জটিলতায় পড়ার অন্যতম বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণায় থাকা শিশুদের ১১ শতাংশের বয়স ছিল ৬ মাসের নিচে। ২৩.৫ শতাংশের বয়স ১ থেকে ৫ বছর এবং ৪৬ শতাংশ শিশুর বয়স ছিল ৯ মাসের কম। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশ নিয়মিত টিকাদানের নির্ধারিত বয়সে পৌঁছানোর আগেই হামে আক্রান্ত হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের ৮৫.২ শতাংশ ছিল টিকাবিহীন। টিকাবিহীন শিশুদের মধ্যে ৫২ শতাংশের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অসচেতনতা বা টিকার তারিখ ভুলে যাওয়া টিকা না পাওয়ার কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, গত ছয় মাসে মাত্র ৩২.১ শতাংশ শিশু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পেয়েছিল। যারা ভিটামিন ‘এ’ পায়নি, তাদের ৫৯ শতাংশ গুরুতর জটিলতায় ভুগেছে।
আক্রান্ত শিশুদের ৭৫.৫ শতাংশ গ্রামীণ এলাকার এবং ৬৪.৮ শতাংশ নিম্ন আর্থ-সামাজিক পরিবারের বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সংক্রমণের উৎস
গবেষণায় থাকা শিশুদের প্রায় ৫৯.৪ শতাংশ কোনো না কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতাল থেকে হামের ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বিষয়টিকে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া ১৬.৩ শতাংশ শিশু আগে হামে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিল বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। ১৮.৯ শতাংশ শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো হয়নি বলেও গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভাইরাসের জিনোম বিশ্লেষণ
গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক দিক ছিল ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষা। গবেষণায় পরীক্ষা করা শতভাগ নমুনায় ‘বি৩ জেনোটাইপ’ হামের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ফলাফল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আগে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। কোনো শিশুর মৃত্যু গ্রহণযোগ্য নয়। সময়মতো সঠিক নিয়মে টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি টিকার কভারেজ ৯৫ শতাংশে উন্নীত করা, অপুষ্টি দূর করা এবং প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোর সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসপেরিয়া হেলথ কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান গোলাম বাকি মাসুদ। তিনি গবেষণার তথ্যকে বাস্তবভিত্তিক জনস্বাস্থ্য উদ্যোগে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গবেষণায় সহায়তা
গবেষণার আর্থিক ও সার্বিক সহায়তা করেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।
প্রশাসনের বক্তব্য
গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে গবেষণার বাইরে কোনো পৃথক প্রশাসনিক তদন্ত বা আইনগত পদক্ষেপের তথ্য প্রদত্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
পরিবার ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
প্রদত্ত তথ্যে আক্রান্ত শিশুদের পরিবারের সদস্য বা স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য সংযোজন করা হয়নি।
উপসংহার
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগে হামে আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশ টিকাবিহীন ছিল এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছিল। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও হাসপাতাল থেকেও সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে।
গবেষণায় টিকাদানের আওতা বাড়ানো, অপুষ্টি কমানো, ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচি জোরদার এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে।
সর্বশেষ অবস্থা
গবেষণার ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগের হামে আক্রান্ত শিশুদের টিকাদান, পুষ্টি ও সংক্রমণ পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ টিকাদানের কভারেজ বাড়ানো ও সংক্রমণ প্রতিরোধে জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছে।সম্পাদকীয় নোট: আপনার দেওয়া তথ্যের মধ্যে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখটি মূল ঘটনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-ই বুধবার, তাই প্রতিবেদনে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ব্যবহার করা হয়েছে। নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান-সময় দেওয়া না থাকায় কৃত্রিমভাবে “১০:৩০ মিনিট” বসানো হয়নি।