প্রারম্ভিকা
চট্টগ্রামের খুলশী থানার জালালাবাদ এলাকার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকায় একটি বহুতল ভবনে অভিযান চালিয়ে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ওই ভবনের অষ্টম তলায় যৌথভাবে এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রায় দেড় মাস আগে কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন। অভিযানে অনলাইনভিত্তিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইসসহ অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করা হয়।
ঘটনার বিস্তারিত
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ৬৩ জনের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন এবং নেপাল ও ভিয়েতনামের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
অভিযানে মোট ১৭০টি ডিভাইস ও বিভিন্ন সামগ্রী জব্দের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি অ্যাপল ট্যাব, একটি সিপিইউ, একটি স্যামসাং মনিটর, একটি কিবোর্ড, একটি মাউস ও একটি প্রিন্টার। এ ছাড়া পাঁচটি পেনড্রাইভ, চারটি সিমকার্ড, তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ডও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, জব্দ করা ডিভাইসগুলো অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব ডিভাইসে কী ধরনের তথ্য রয়েছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী বা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
খুলশী এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেমের ভাষ্য, প্রায় এক মাস ধরে ওই ভবনে বিদেশি নাগরিকদের চলাচল ছিল। তাদের কয়েকজন নিজেদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিতেন বলেও তিনি জানান।
তবে ভবনটিতে কী ধরনের কার্যক্রম চলত এবং এর সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের প্রত্যেকের সংশ্লিষ্টতা কী ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
পটভূমি
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিরা বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, বাংলাদেশে অবস্থান করে সংঘবদ্ধ অনলাইন অপরাধ পরিচালনায় দেশীয় ও বিদেশি সহযোগীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।
পরিবারের মন্তব্য
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিবারের কোনো বক্তব্য মূল প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য সংযোজন করা হয়নি।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম ভবনটিতে বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াতের কথা জানিয়েছেন। এর বাইরে স্থানীয়দের আরও কোনো নির্ভরযোগ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য বা তাদের আইনজীবীর মন্তব্য মূল তথ্যে উল্লেখ নেই। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাদের অবস্থান জানা যায়নি।
প্রশাসনের বক্তব্য
শুক্রবার বিকেলে দামপাড়া পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন্স) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় মামলা করা হয়েছে। জব্দ করা ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় কথিত মূলহোতাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
উপসংহার
খুলশীর আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। জব্দ করা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণের পর তাদের কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।