সংবাদ প্রতিবেদন
প্রারম্ভিকা (Lead)
ঝালকাঠি, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে টানা আট দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। এতে তীব্র গরমের মধ্যে নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় মসজিদের পাখা, বাতি, মাইক ও এসি বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে পানির পাম্প বন্ধ থাকায় অজুর পানির ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক মুসল্লিকে মসজিদের বাইরে গিয়ে অজু করতে হচ্ছে।
ঘটনার বিস্তারিত
মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে মসজিদের জেনারেটর কক্ষে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে মসজিদের খাদেম মো. দেলোয়ার হোসেন বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেন।
পরে কক্ষের ভেতরে গিয়ে সার্কিট ব্রেকারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি দেখা যায়। এরপর থেকেই মসজিদের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে।
প্রতিদিন মসজিদটিতে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ মুসল্লি জামাতে নামাজ আদায় করেন। শুক্রবার জুমার নামাজে মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ ছাড়িয়ে যায়। নারী মুসল্লিরাও এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন।
বিদ্যুৎ ও অজুর পানি না থাকায় তীব্র গরমে নারী-পুরুষ উভয়কেই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
মসজিদের খাদেম মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মসজিদে মুসল্লিদের অজুর ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। স্টাফদের প্রয়োজনীয় কাজের জন্য বাইরে থেকে বালতিতে করে পুকুরের পানি এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
পেশ ইমাম মুফতি মো. আলী হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মসজিদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে মুসল্লিদের কষ্ট হচ্ছে। অজুর পানি না থাকায় নামাজের সময় বাইরে গিয়ে অজু করতে হচ্ছে।
নিয়মিত মুসল্লি মো. সরোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, মসজিদে অজুর পানির ব্যবস্থা না থাকায় নামাজের আগে বাইরে গিয়ে অজু করতে হয়। এতে অনেক সময় জামাত মিস হয়ে যায়। তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানান।
প্রশাসনের বক্তব্য
রাজাপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আতাউর রহমান বলেন, বিদ্যুতের খুঁটি থেকে মিটার হয়ে মেইন সুইচ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রয়েছে। মেইন সুইচের পর মসজিদের ভেতরের বৈদ্যুতিক সমস্যার সমাধান তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এসে মসজিদের সমস্যা দেখে গেছেন। ভেতরের কিছু যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েছে এবং সেগুলো ঠিক করতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।
পটভূমি
মসজিদটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গণপূর্ত বিভাগের একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মসজিদটির বৈদ্যুতিক সমস্যা পরিদর্শন করেছেন।
উপসংহার
টানা আট দিন বিদ্যুৎ না থাকায় রাজাপুর উপজেলা মডেল মসজিদে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অজুর পানির ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় মুসল্লিদের ভোগান্তি বেড়েছে।
মসজিদের বিদ্যুৎ ও অজুর পানির ব্যবস্থা দ্রুত সচল করার দাবি জানিয়েছেন মুসল্লিরা।