প্রারম্ভিকা (Lead)
ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দীর্ঘ সাড়ে ১৩ বছরেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার বিচার না হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। রোববার বেলা ১১টার দিকে তাদের পরিবার এ আবেদন করে। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ৫৮/এ/২ পশ্চিম রাজাবাজারের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা ও তদন্ত শুরু হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হয়নি।
ঘটনার বিস্তারিত
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এনাম আহমেদ ওই ভবনে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পরবর্তী সময়ে তদন্তকারী সংস্থা র্যাব তাকে এ মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। বর্তমানে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত টাস্কফোর্সের আওতায় মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকালীন সময় পর্যন্ত এনাম আহমেদের বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পটভূমি
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে পশ্চিম রাজাবাজারের বাসা থেকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। মামলার তদন্ত দীর্ঘ সময় ধরে চললেও এখনো বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। মামলাটির তদন্তে বিভিন্ন সময়ে একাধিক সংস্থা যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত টাস্কফোর্সের অধীনে পিবিআই তদন্ত পরিচালনা করছে। ২০২৬ সালের ২২ এপ্রিল আদালতের আদেশের পর কাশিমপুর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এনাম আহমেদকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। তিনি অনেক কিছু মনে করতে পারছিলেন না এবং তার বক্তব্য এলোমেলো ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য
এ মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক এনাম আহমেদের বক্তব্যের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উপসংহার
সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে তাদের পরিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ করেছে। একই সময়ে মামলাটির তদন্ত পিবিআইয়ের অধীনে চলমান রয়েছে। এনাম আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটক থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মামলার বিচারিক অগ্রগতি ও তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন সংশ্লিষ্ট আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে।
সর্বশেষ অবস্থা
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত পিবিআইয়ের অধীনে চলমান। দীর্ঘদিন বিচার না পাওয়ার অভিযোগে পরিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত আবেদন করেছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়ন