সংবাদ প্রতিবেদন

প্রারম্ভিকা

সিলেট, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার হঠাৎ বদলে যায় পরিবেশ। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, চিকিৎসক-নার্সদের উপস্থিতি এবং রোগীদের খাবার পরিবেশনে আগের তুলনায় ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।

দুই মন্ত্রীর পরিদর্শনের আগে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান পরিষ্কার করা হয়। জরুরি বিভাগের সামনে স্ট্রেচার ও হুইলচেয়ার রাখা হয়। রোগীদের জন্য বেডশিট ও বালিশের ব্যবস্থাও দেখা যায়। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে বিস্ময় তৈরি হয়।

পরিদর্শনে দুই মন্ত্রী

শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তারা হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে খোঁজ নেন।

এ সময় সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রোগীদের অভিজ্ঞতা

হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে চিকিৎসাধীন ইয়াকুব আহমেদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তিনি বেডশিট পাননি। শুক্রবার সকালে মন্ত্রী আসার আগে দ্রুত তাকে বেডশিট দেওয়া হয়।

তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমের অভিযোগ, আগের দিন ময়লা বিছানায় থাকতে হয়েছে। মন্ত্রী আসার খবরের পর হাসপাতালের কর্মীদের আচরণেও পরিবর্তন দেখা যায় বলে দাবি করেন তিনি।

সুনামগঞ্জ থেকে হাসপাতালে আসা জাহাঙ্গীর আহমদ বলেন, জরুরি বিভাগের সামনে স্ট্রেচারের সঙ্গে বেডশিট ও বালিশের ব্যবস্থা দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন।

ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের রোগী হাফসা খান হাসপাতালের বাথরুম ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভিযোগ করেন। তার দাবি, দুটি বাথরুম নষ্ট এবং হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে তেলাপোকার সমস্যা রয়েছে।

পরিচ্ছন্নতায় বাড়তি তৎপরতা

মন্ত্রীদের পরিদর্শনের খবরের পর বৃহস্পতিবার রাত থেকেই হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়। শুক্রবার সকালেও এ কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।

শিশু ওয়ার্ডে মন্ত্রীদের পরিদর্শনের সময় একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে বাথরুম পরিষ্কার করতে দেখা যায়। রোগীদের খাবারও গরম অবস্থায় পরিবেশন করা হয়। শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি এক শিশুর অভিভাবক জানান, শুক্রবার চিকিৎসক ও নার্সরা একাধিকবার রোগীদের খোঁজ নিয়েছেন।

‘ছয় মাসে সেবার মান বেড়েছে’

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবার মান বাড়াতে সরকার কাজ করছে। ওসমানী হাসপাতালে কোনো সমস্যা থাকলে সাত দিনের মধ্যে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। জনবল সংকট কাটাতে নিয়োগ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট কাটাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে বড় পরিসরে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পদে মোট ৪৩ হাজার ৩৯০ জন নিয়োগ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। এর মধ্যে সাড়ে ৭ হাজার নার্স ও আড়াই হাজার চিকিৎসক রয়েছেন। মিডওয়াইফ ও পরিচর্যাসেবা-সংশ্লিষ্ট পদগুলোর ৮০ শতাংশে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি। হাম প্রতিরোধে নতুন টিকা ক্যাম্পেইন হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দেশব্যাপী বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু করার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের বাইরে থাকা শিশুদেরও এ কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মন্ত্রী জানান, গত ২০ এপ্রিলের টিকা ক্যাম্পেইনের সময় যেসব শিশু ছয় মাসের কম বয়সী ছিল, তারা টিকা পায়নি। পরবর্তী সময়ে ছয় মাস বয়স পূর্ণ হলেও নিয়মিত ক্যাম্পেইন না থাকায় অনেক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়। সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার উদ্যোগ সরকারি হাসপাতালগুলোকে দালালমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং অবৈধ ক্লিনিক সিলগালা করার কার্যক্রম চলছে।

ওসমানী হাসপাতালে রোগীর চাপ

সিলেট বিভাগের অন্যতম বড় সরকারি হাসপাতাল ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে মেঝে ও বারান্দায়ও রোগীদের থাকতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসক উপস্থিতি, শৌচাগার, খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা এবং দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়েও রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ রয়েছে।

উপসংহার

দুই মন্ত্রীর পরিদর্শনের দিন ওসমানী হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা ও রোগীসেবায় তাৎক্ষণিক তৎপরতা দেখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে এসব সেবা কতটা নিয়মিত করা যায়, সেটিই এখন বড় বিষয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাত কর্মদিবসের মধ্যে চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত এবং সাত দিনের মধ্যে হাসপাতালের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট মোকাবিলা ও হাম প্রতিরোধে নতুন টিকা ক্যাম্পেইনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।চাইলে এটিকে আমি আরও শক্তিশালী নিউজ-হেডলাইন, ৫টি বিকল্প শিরোনাম এবং Google Discover উপযোগী SEO ভার্সনেও সাজিয়ে দিতে পারি।