সংবাদ প্রতিবেদন
প্রারম্ভিকা
ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দুই বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ বেড়েছে ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রস রিজার্ভ ২ হাজার ৪৮৬ কোটি ডলার থাকলেও চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৪৪ কোটি ডলারে।
রিজার্ভে বড় উত্থান
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দুই বছরে গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ১৫৮ কোটি ডলার।
অন্যদিকে, বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ছিল ১ হাজার ৯৮৬ কোটি ডলার। চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ১৫৩ কোটি ডলার। এ হিসাবে দুই বছরে বিপিএম৬ রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ১৬৭ কোটি ডলার।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১৪৩ কোটি ডলার। একই সময়ে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৬৬০ কোটি ডলার।
চলতি বছরের জুনের শেষে গ্রস রিজার্ভ আরও বেড়ে ৩ হাজার ৭৫৮ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ওই সময় বিপিএম৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ২৯৩ কোটি ডলার।
রিজার্ভ বৃদ্ধির কারণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ ও তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং আমদানি চাহিদা তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত থাকা রিজার্ভ বাড়াতে সহায়তা করেছে।
বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশীয় বৈদেশিক মুদ্রাবাজার থেকে ডলার কিনেছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ পুনর্গঠনে সহায়তা হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বাসসকে বলেন, বৈদেশিক খাতের পরিস্থিতির উন্নতির কারণেই দেশের রিজার্ভ বেড়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছে। এর মাধ্যমে আগের বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের সময় কমে যাওয়া রিজার্ভ পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়েছে।
ব্যাংকারের মন্তব্য
সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি ব্যাংকিং খাত ও ব্যবসার জন্য ইতিবাচক।
তার মতে, শক্তিশালী রিজার্ভ দেশের আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক দায় পরিশোধের সক্ষমতার বিষয়ে আস্থা বাড়ায়।
তিনি আরও বলেন, রিজার্ভ বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। এতে ডলারের তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং বৈদেশিক মুদ্রায় বিভিন্ন দায় পরিশোধে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পটভূমি
২০২৪ সালের শুরুর দিকে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়ে। পরবর্তী সময়ে বৈদেশিক খাতের পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে রিজার্ভেও পুনরুদ্ধারের ধারা দেখা যায়। তবে আমদানি বিল পরিশোধ ও অন্যান্য বৈদেশিক দায় মেটানোর কারণে বিভিন্ন সময়ে রিজার্ভে ওঠানামা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে গত দুই বছরে রিজার্ভ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।