সংবাদ প্রতিবেদন

 

প্রারম্ভিকা (Lead)

 

ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, নাগরিকত্বের ভিত্তিতে দেশের প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে।

 

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ঘটনার বিস্তারিত

 

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের পর জন্মাষ্টমীর মিছিলটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের প্রধান ও প্রথম পরিচয় হওয়া উচিত বাংলাদেশি। ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় পরবর্তী বিষয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতি সবার জন্য সমান বাংলাদেশ নিশ্চিত করা।

 

তিনি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে দেখার যে রাজনৈতিক ধারণা ছিল, জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মীয় আচার পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

সংবিধানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না।

 

ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকার সাংবিধানিক বিধানকে শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবেও সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে চায়।

 

তিনি ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দ ব্যবহারের পরিবর্তে ‘ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও শান্তি’ বজায় রাখার চর্চার আহ্বান জানান।

 

অনুষ্ঠানে যারা ছিলেন

 

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

 

সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।

 

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।

 

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।

 

পটভূমি

 

জন্মাষ্টমী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এ উপলক্ষে রাজধানীতে কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের আয়োজন করা হয়।

প্রশাসনের বক্তব্য

 

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানান। তিনি সংবিধান অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য না করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

উপসংহার

 

জন্মাষ্টমীর কেন্দ্রীয় মিছিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নাগরিক পরিচয়, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমান অধিকার ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।