সংবাদ প্রতিবেদন

প্রারম্ভিকা

ঢাকা, ২৭ আগস্ট ২০২৬: দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। জেলা পর্যায়ে সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য তাদের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্ব দেওয়ার কারণ

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে তা লুটপাট হয়েছে। লুটপাটের অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কাজে ব্যবহারের বিষয়টি সরকার উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে।

এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

যেসব জেলা দায়িত্ব পেলেন

ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন পেয়েছেন লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়ের দায়িত্ব। আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিতাই রায় চৌধুরী চুয়াডাঙ্গা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির হবিগঞ্জ এবং আরিফুল হক চৌধুরী মৌলভীবাজার জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।

মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে চট্টগ্রাম জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত পেয়েছেন শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার দায়িত্ব। আসাদুল হাবিব দুলু পেয়েছেন ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার দায়িত্ব।

মো. আসাদুজ্জামান খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট এবং জাকারিয়া তাহের ফেনী ও নোয়াখালী জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল পেয়েছেন মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের দায়িত্ব। সাচিং প্রু পেয়েছেন কক্সবাজারের দায়িত্ব। মো. শরিফুল আলম টাঙ্গাইল ও নরসিংদী এবং শামা ওবায়েদ ইসলাম মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পেয়েছেন মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহের দায়িত্ব। আব্দুল বারী পেয়েছেন বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের দায়িত্ব।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ঢাকার এবং মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের দায়িত্ব।

মো. রাজীব আহসান বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। মীর শাহে আলম পেয়েছেন রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের দায়িত্ব। ফারজানা শারমিন পেয়েছেন সিরাজগঞ্জ ও পাবনার দায়িত্ব। শেখ ফরিদুল ইসলাম যশোর, মাগুরা ও নড়াইল এবং ইয়াসের খান চৌধুরী জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। আহমেদ সোহেল মঞ্জুর পেয়েছেন বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠির দায়িত্ব। মোহাম্মদ শামীম কায়সার পেয়েছেন জয়পুরহাট ও নওগাঁর দায়িত্ব। আলহাজ্ব মো. জি কে গউস পেয়েছেন সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার দায়িত্ব। মিঞা নুরুদ্দিন আহম্মেদ রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।

দায়িত্বপ্রাপ্তদের করণীয়

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। তারা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও উন্নত রাখতেও কাজ করবেন। এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি ও পরামর্শ দেবেন তারা। প্রয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শ দিতে পারবেন।

প্রশাসনের নির্দেশনা

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিদ্যমান ক্ষমতা এবং মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের আলোকে এ দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

উপসংহার

নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে তদারকি ও সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি কার্যক্রমে পরামর্শ ও সমন্বয়ের ভূমিকা পালন করবেন।