সংবাদ প্রতিবেদন
প্রারম্ভিকা
ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০২৬: গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কল্যাণে নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর আওতায় সুচিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে রোববার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ
সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যপ্রণালি বা রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬ সংশোধন করে নতুন দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত করার নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের অধিকার এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন এবং রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬ সংশোধন করে এ-সংক্রান্ত দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলিতে যুক্ত করা।
মন্ত্রীর বক্তব্য
সভায় মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের জন্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদেরও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, দৃষ্টিশক্তি হারানো, পঙ্গুত্ব এবং দীর্ঘদিন কারাভোগের শিকার ব্যক্তিদের ত্যাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে চায় রাষ্ট্র।
ভবিষ্যতে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ এবং স্বজন হারানোর মতো ঘটনার বিরুদ্ধে স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার মধ্যে ছিল মানুষের স্বাধীনভাবে জীবনযাপন, মানবাধিকার সুরক্ষা, রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ বন্ধ এবং প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালের পর ভোটের অধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক আদর্শ পদদলিত করা হয়েছে।
ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় যারা জীবন দিয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, গুম হয়েছেন কিংবা আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়েছেন, তাঁদের জন্য রাষ্ট্রের কিছু করার দায়িত্ব রয়েছে।
নীতিমালা ও আইন নিয়ে আলোচনা
সভায় জাতিসংঘের ‘বেসিক প্রিন্সিপলস অ্যান্ড গাইডলাইনস অন দ্য রাইট টু আ রেমেডি অ্যান্ড রেপারেশন’ নীতিমালা এবং বাংলাদেশের সংবিধান অনুসরণ করে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও রাষ্ট্রীয় সহায়তার কাঠামো কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।
প্রশাসনের বক্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন অধিদপ্তর গঠন ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। তবে অধিদপ্তরটি কবে নাগাদ কার্যক্রম শুরু করবে বা প্রস্তাবিত আইনের নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
পটভূমি ও অন্যান্য প্রতিক্রিয়া
প্রাপ্ত তথ্যে ভুক্তভোগী বা তাঁদের পরিবারের কোনো বক্তব্য, স্থানীয় প্রতিক্রিয়া কিংবা এ বিষয়ে অন্য কোনো পক্ষের মন্তব্য উল্লেখ নেই। তাই এসব বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য সংযোজন করা হয়নি।
উপসংহার
গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণে নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য নতুন আইন প্রণয়ন এবং রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬ সংশোধনের বিষয়েও নীতিগত আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এসব উদ্যোগ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর স্পষ্ট হবে।