সংবাদ প্রতিবেদন

প্রারম্ভিকা

নাটোর, ১৯ আগস্ট: লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের একদিন পর নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে লালপুরের ইউএনও মো. বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়। এক প্রজ্ঞাপনে আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। অন্য প্রজ্ঞাপনে বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়। তবে দুই কর্মকর্তার বদলির কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।

ঘটনার বিস্তারিত

এর আগে গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফলকে কেন্দ্র করে লালপুর ও বাগাতিপাড়া ইউএনও কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করা হয়।

ঘটনার পর ১৭ আগস্ট লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শুকুর আলী নিজ নিজ থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন।

দুটি মামলায় মোট ২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ১৪০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় যাঁদের নাম রয়েছে

লালপুর থানার মামলায় বিএনপির ১৮ জন নেতাকর্মীর নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোলাম, বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিক আলী মিষ্টু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ রঞ্জু এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব হারুন অর রশিদ পাপ্পুর নাম রয়েছে। মামলায় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদেরও আসামি করা হয়েছে।

বাগাতিপাড়া থানার মামলায় উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক তারিক আজিজ, সদস্য আশিকুর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব আলী পান্না এবং ছাত্রদল নেতা সাব্বির হোসেন মুন্নাসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য

নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। তবে পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি না করার দাবি জানান।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নাটোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ বলেন, সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার কারণে যদি ডিসি ও ইউএনওকে বদলি করা হয়ে থাকে, তাহলে তা আইনের শাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনা মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাটোর জেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ শিশির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসক ও ইউএনওকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য

সরকারি প্রজ্ঞাপনে দুই কর্মকর্তার বদলির আদেশ দেওয়া হলেও এর কারণ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বদলির সঙ্গে মামলার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রজ্ঞাপনে কিছু উল্লেখ নেই।

🔴 নিউজরুম নোট: জেলা প্রশাসন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

🔴 নিউজরুম নোট: ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিক্রিয়ার নির্ভরযোগ্য ও উদ্ধৃতিযোগ্য তথ্য প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে নেই। তাই কোনো বক্তব্য সংযোজন করা হয়নি।

অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য

🔴 নিউজরুম নোট: মামলায় নাম থাকা অভিযুক্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ বক্তব্য প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে নেই। তাই তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য অনুমান করে যুক্ত করা হয়নি।

পরিবারের মন্তব্য

🔴 নিউজরুম নোট: ভুক্তভোগী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিবারের কোনো বক্তব্য প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে নেই। তাই অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

পটভূমি

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফলকে কেন্দ্র করে ১২ আগস্ট লালপুর ও বাগাতিপাড়া ইউএনও কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পরে ১৭ আগস্ট পৃথক দুটি মামলা করা হয়। এর একদিন পরই জেলা প্রশাসক ও লালপুরের ইউএনওকে বদলি করা হয়।

মামলা দায়েরের পরপরই প্রশাসনিক রদবদল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে সরকারি নথিতে বদলির কারণ উল্লেখ না থাকায় এ দুটি ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

উপসংহার

নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার এবং লালপুরের ইউএনও মো. বরকত উল্লাহকে বদলির আদেশ কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সময়ে লালপুর ও বাগাতিপাড়া ইউএনও কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় করা পৃথক দুটি মামলার বিষয়েও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলা-ভাঙচুরের প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। তবে তদন্ত বা আদালতের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মামলায় নাম থাকা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।