১. প্রারম্ভিকা (Lead)

প্রথম ১–২ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে যতটুকু নিশ্চিতভাবে জানা যায়, তা তুলে ধরবে।

সম্ভব হলে কে, কী, কখন, কোথায়, কেন এবং কীভাবে—এই মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবে।

তবে কোনো প্রশ্নের উত্তর প্রদত্ত তথ্যে না থাকলে তা অনুমান করে লেখা যাবে না।

২. ঘটনার বিস্তারিত

ঘটনার সময়, স্থান, ঘটনাক্রম, হতাহত, উদ্ধার, চিকিৎসা, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাপ্ত তথ্য ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরবে।

শুধু প্রদত্ত বা নির্ভরযোগ্যভাবে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করবে।

৩. প্রত্যক্ষদর্শী বা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

প্রদত্ত তথ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী, মালিক, কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য থাকলে তা যথাযথভাবে উল্লেখ করবে।

বক্তব্যের অর্থ পরিবর্তন করা যাবে না।

তথ্য না থাকলে নতুন কোনো বক্তব্য তৈরি করা যাবে না।

৪. পটভূমি

ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত পূর্ববর্তী ঘটনা, ইতিহাস বা প্রাসঙ্গিক তথ্য শুধু প্রদত্ত তথ্যে থাকলে উল্লেখ করবে।

তথ্য না থাকলে এই অংশ বাদ দেবে।

৫. পরিবারের মন্তব্য

ভুক্তভোগীর পরিবারের বক্তব্য প্রদত্ত তথ্যে থাকলে উল্লেখ করবে।

না থাকলে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য তৈরি করবে না।

প্রয়োজনে লিখবে:

“এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।”

৬. স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয়দের বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া প্রদত্ত তথ্যে থাকলে উল্লেখ করবে।

না থাকলে এই অংশ বাদ দেবে।

৭. অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য

ঘটনায় কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে অভিযুক্ত করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা উল্লেখ করবে।

বক্তব্য না পাওয়া গেলে স্পষ্টভাবে লিখবে:

“অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।”

কাউকে আদালতের রায় হওয়ার আগে “অপরাধী” হিসেবে উল্লেখ করা যাবে না।

প্রয়োজনে “অভিযুক্ত”, “সন্দেহভাজন” বা “অভিযোগ ওঠা ব্যক্তি” ব্যবহার করবে।

৮. প্রশাসনের বক্তব্য

পুলিশ, প্রশাসন, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য থাকলে তা উল্লেখ করবে।

তারা কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা প্রদত্ত তথ্যে থাকলে সংক্ষেপে তুলে ধরবে।

তথ্য না থাকলে কোনো পদক্ষেপ অনুমান করা যাবে না।

৯. বর্তমান পরিস্থিতি

বর্তমানে পরিস্থিতি কী, কতজন মারা গেছেন, কতজন আহত, কোথায় চিকিৎসা চলছে, তদন্ত বা উদ্ধার কার্যক্রমের অবস্থা কী—এসব তথ্য প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী তুলে ধরবে।

১০. উপসংহার

প্রতিবেদনের শেষে ঘটনার বর্তমান অবস্থা সংক্ষেপে তুলে ধরবে।

তদন্ত, মামলা, গ্রেপ্তার বা আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে তথ্য না থাকলে তা তৈরি করা যাবে না।

📌 ঘটনার তথ্য

– ঘটনা:
– স্থান:
– সময়:
– ভুক্তভোগী:
– অভিযুক্ত:
– কারণ:
– আহত:
– নিহত:
– প্রত্যক্ষদর্শী:
– সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য:
– প্রশাসনের বক্তব্য:
– বর্তমান অবস্থা:

⚠️ কঠোর নির্দেশনা

১. সম্পূর্ণ তথ্যভিত্তিক ও নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

২. কোনো তথ্য কল্পনা, অনুমান বা সংযোজন করা যাবে না।

৩. গুজব, অযাচাইকৃত দাবি বা ব্যক্তিগত মতামত সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।

৪. অতিরঞ্জিত, আবেগপ্রবণ, উত্তেজক বা পক্ষপাতদুষ্ট ভাষা ব্যবহার করা যাবে না।

৫. উদ্ধৃতি ব্যবহার করলে তা প্রদত্ত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

৬. উদ্ধৃতি নিজের মতো করে বানানো যাবে না।

৭. অনুচ্ছেদ ছোট, পরিষ্কার ও পাঠযোগ্য রাখতে হবে।

৮. একই তথ্য বারবার পুনরাবৃত্তি করা যাবে না।

৯. শিরোনাম ও প্রতিবেদনের তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে।

১০. কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রমাণ ছাড়া দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না।

১১. আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে “অভিযুক্ত” বা “সন্দেহভাজন” হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

১২. পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী বা প্রশাসনের বক্তব্য তথ্যের মধ্যে না থাকলে সেগুলো তৈরি করা যাবে না।

১৩. প্রয়োজন না হলে আলাদা কোনো বিভাগ বাদ দেওয়া যাবে।

১৪. “পটভূমি”, “পরিবারের মন্তব্য”, “স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া” ইত্যাদি অংশ তথ্য পাওয়া গেলে তবেই যুক্ত করতে হবে।

১৫. সংবাদটি হবে পেশাদার সংবাদপত্রের উপযোগী, সহজবোধ্য এবং প্রকাশযোগ্য।
১৬. একই ঘটনার একাধিক সংখ্যা বা তথ্য থাকলে সর্বশেষ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যকে অগ্রাধিকার দিতে হবে; তবে উৎসভেদে পার্থক্য থাকলে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

১৭. কোনো তথ্য নিয়ে নিশ্চিত হওয়া না গেলে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে লেখা যাবে না। ১৮. প্রতিবেদনের শেষে নতুন কোনো তথ্য, মন্তব্য বা বিশ্লেষণ যুক্ত করা যাবে না। চূড়ান্ত লক্ষ্য: প্রদত্ত তথ্যের বাইরে একটিও তথ্য তৈরি না করে একটি সম্পূর্ণ, নিরপেক্ষ, পেশাদার ও প্রকাশযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করা।
18.