সংবাদ প্রতিবেদন
প্রারম্ভিকা

ঢাকা, ৭ জুলাই ২০২৫: ফেসবুকে লাভজনক বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুই নাইজেরিয়ান নাগরিক ও এক বাংলাদেশি নারীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১। রোববার রাত থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর বসুন্ধরা ও মিরপুরের পল্লবী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জাহিদুল করিম।

গ্রেপ্তার ও উদ্ধার

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নাইজেরিয়ার নাগরিক ফ্রাঙ্ক কোকো ও ইমানুয়েল এবং বাংলাদেশি নারী মোসা. সুইটি আক্তার। র‍্যাব জানায়, তাদের কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ, চারটি আইফোন, তিনটি স্মার্টফোন, তিনটি বাটন মোবাইল ফোন, একটি ট্যাব এবং একটি ওরিকো ব্র্যান্ডের হার্ডড্রাইভ উদ্ধার করা হয়েছে।

যেভাবে প্রতারণার অভিযোগ

র‍্যাব-১-এর অধিনায়ক বলেন, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র থেকে মাঝারি ব্যবসায়ীকে লাভজনক বিনিয়োগের প্রলোভন দেখাত। বিশ্বাস অর্জনের পর ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন দফায় অর্থ নেওয়া হতো। পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে সুকৌশলে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করা হতো বলে জানিয়েছে র‍্যাব। চক্রটি বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম নম্বর ব্যবহার করত। এ ছাড়া ভুয়া অনলাইন ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করে সেগুলোর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নম্বর যুক্ত করার অভিযোগও রয়েছে।

বাংলাদেশি নারীদের ব্যবহারের অভিযোগ

র‍্যাবের বক্তব্য অনুযায়ী, চক্রের সঙ্গে জড়িত কিছু নাইজেরিয়ান নাগরিক বাংলাদেশি নারীদের ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জন করত।
পরে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট নম্বরে ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউটের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা হতো বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাবের বক্তব্য

র‍্যাব-১-এর অধিনায়ক বলেন, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাওয়া বিদেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নম্বর অনুসন্ধান করে চক্রটির সঙ্গে কিছু নাইজেরিয়ান নাগরিকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। র‍্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

অভিযুক্তদের বক্তব্য

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কোনো পৃথক বক্তব্য বা অভিযোগ অস্বীকারের তথ্য প্রাপ্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। তবে আইনগতভাবে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

পটভূমি

র‍্যাবের বক্তব্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বিনিয়োগের প্রলোভনে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ চক্রগুলো ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জনের পর অর্থ আত্মসাৎ করছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পরিবার ও স্থানীয়দের বক্তব্য

প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য বা স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে কোনো তথ্য সংযোজন করা হলো না।

প্রশাসনের বক্তব্য

র‍্যাব-১ জানিয়েছে, প্রতারণার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ডিভাইস ও অন্যান্য আলামত তদন্তের কাজে ব্যবহার করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য প্রাপ্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

উপসংহার

ফেসবুক ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দুই নাইজেরিয়ান নাগরিক ও এক বাংলাদেশি নারীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।