সংবাদ প্রতিবেদন

লামা (বান্দরবান), ৯ জুলাই ২০২৬: টানা বর্ষণের মধ্যে বান্দরবানের লামা উপজেলায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন আজিজনগর এলাকার বাসিন্দা মো. ইউনুস, তার স্ত্রী রানু আক্তার এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান। অপর ঘটনায় নিহত হয়েছেন মো. জুয়েল ও তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার।

ঘটনার বিস্তারিত

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোরে পাহাড়ধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে। টানা বর্ষণের কারণে লামাসহ বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন সড়কে যোগাযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী বা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দারা পাহাড়ধসের পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।

পটভূমি

টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসন আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

প্রশাসনের বক্তব্য

বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানান, একই এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে অনেকেই এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহী বলে জানা গেছে।

উপসংহার

লামায় পাহাড়ধসের ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর পর এলাকায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছ

ঘটনার তথ্য

ঘটনা: পৃথক দুটি পাহাড়ধসে পাঁচজনের মৃত্যু স্থান: মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি), আজিজনগর ইউনিয়ন, লামা, বান্দরবান সময়: ৯ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার ভো ভুক্তভোগী: একই পরিবারের তিনজনসহ মোট পাঁচজন কারণ: টানা বর্ষণের ফলে পাহাড়ধস বর্তমান অবস্থা: মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে; আইনগত প্রক্রিয়া চলমান এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা জারি রয়েছে।