একসঙ্গে পাঁচ সন্তানে

সংবাদ প্রতিবেদন

ঢাকা, ১৫ জুন ২০২৬

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বাসিন্দা মোস্তাকিম হোসেন ও সামরিনা আক্তার দম্পতির ঘরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম হয়েছে। গত ১১ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিন ছেলে ও দুই মেয়ের জন্ম দেন সামরিনা আক্তার।

 

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, গর্ভধারণের ৩০ সপ্তাহে সন্তান জন্ম হওয়ায় নবজাতকেরা অপরিণত অবস্থায় জন্ম নিয়েছে। প্রত্যেকের ওজন প্রায় এক কেজি বা তার কম হওয়ায় তাদের নিবিড় পরিচর্যার জন্য এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

 

ঘটনার বিস্তারিত

 

সামরিনা আক্তার জানান, গর্ভধারণের তিন মাস পর আলট্রাসনোগ্রামে প্রথমে তাঁর গর্ভে ছয় সন্তান থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে চিকিৎসকেরা জানান, পাঁচটি ভ্রূণ টিকে আছে। চিকিৎসকদের মতে, এমন গর্ভধারণ মা ও নবজাতক উভয়ের জন্যই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

 

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে শারীরিক জটিলতা, নিয়মিত চিকিৎসা, ব্যয়বহুল পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশেষ চিকিৎসাসেবার মধ্য দিয়ে সময় পার করেন সামরিনা। শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং গর্ভের শিশুদের হৃৎস্পন্দনে সমস্যা দেখা দেওয়ায় চিকিৎসকেরা নির্ধারিত সময়ের আগেই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।

 

বর্তমানে তিন নবজাতক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিইউতে এবং বাকি দুই নবজাতক রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

 

সামরিনা আক্তার বলেন, “সন্তানদের জন্ম দিতে পেরে আমি খুব খুশি। তবে তারা অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় সব সময় তাদের সুস্থতা নিয়ে চিন্তায় থাকি।”

 

তিনি আরও জানান, চিকিৎসকদের মতে, নবজাতকদের অন্তত এক মাস এনআইসিইউতে থাকতে হতে পারে। এতে চিকিৎসা ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

 

পরিবারের মন্তব্য

 

সদ্য বাবা হওয়া মোস্তাকিম হোসেন বলেন, সন্তানদের জন্মের আগে ও পরে চিকিৎসা খাতে ইতোমধ্যে প্রায় সাত লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এই অর্থের বড় অংশ জোগাড় করতে তিনি নিজের ক্রীড়াসামগ্রীর দোকান বিক্রি করেছেন এবং স্বজনদের সহায়তা নিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, “সন্তানদের জন্য আমরা আনন্দিত। এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া, তারা সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরুক।”

 

চিকিৎসকদের বক্তব্য

 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গর্ভধারণের মাত্র ৩০ সপ্তাহে সন্তান জন্ম নেওয়ায় পাঁচ নবজাতকই অত্যন্ত কম ওজন নিয়ে পৃথিবীতে এসেছে। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার জন্য এনআইসিইউতে রাখা হয়েছে।

 

তিনি জানান, একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্মের ঘটনা তুলনামূলক বেশি দেখা গেলেও পাঁচ বা তার বেশি সন্তানের জন্ম অত্যন্ত বিরল। গত আড়াই বছরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ধরনের দুটি ঘটনা ঘটেছে।

 

প্রশাসন ও সহায়তা কার্যক্রম

 

একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্মের বিষয়টি জানার পর সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে। অধিদপ্তরের শিশু বিষয়ক হেল্পলাইন ১০৯৮-এর শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী শাহানাজ রহমান জানান, নবজাতকদের ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

পটভূমি

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক ভ্রূণ ধারণের ক্ষেত্রে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, উন্নত চিকিৎসা এবং নিবিড় পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

উপসংহার

 

বর্তমানে পাঁচ নবজাতকই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। চিকিৎসকেরা তাদের অবস্থা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। পরিবারটির আশা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা পেলে পাঁচ সন্তানই সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।এই প্রতিবেদনটি পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা টিভি নিউজ স্ক্রিপ্টের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।